Logo
Logo
×
   

সারাদেশ

নজরুলকে বাদ দিলে বাংলাদেশ থাকবে না: আবদুল হাই শিকদার

Icon

ময়মনসিংহ ব্যুরো, জাককানইবি ও ত্রিশাল প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৮ জুলাই ২০২৬, ১০:৩২ পিএম

নজরুলকে বাদ দিলে বাংলাদেশ থাকবে না: আবদুল হাই শিকদার

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাককানইবি) আয়োজিত এক সেমিনারে বক্তব্য দিচ্ছেন যুগান্তর সম্পাদক, কবি ও নজরুল গবেষক আবদুল হাই শিকদার।

যুগান্তর সম্পাদক, কবি ও নজরুল গবেষক আবদুল হাই শিকদার বলেছেন, কাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া গেলে বাংলাদেশও আর বাংলাদেশ থাকবে না। দুধ থেকে যেমন সাদা রং আলাদা করা যায় না, তেমনই বাংলাদেশের সঙ্গে নজরুলের সম্পর্কও অবিচ্ছেদ্য। স্বাধীনতা, সাম্য, মানবতা, অসাম্প্রদায়িকতা, নারীমুক্তি কিংবা জাতীয় চেতনা-প্রতিটি প্রশ্নেই আমাদের শেষ পর্যন্ত নজরুলের কাছেই ফিরে যেতে হয়।

নজরুলবর্ষ উদযাপন উপলক্ষ্যে মঙ্গলবার বেলা ১১টায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাককানইবি) আয়োজিত এক সেমিনারের প্রথম অধিবেশনে একক বক্তা হিসাবে বক্তৃতাকালে তিনি এসব কথা বলেন। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরোনো প্রশাসনিক ভবনের তৃতীয় তলার কনফারেন্স রুমে ইনস্টিটিউট অব নজরুল স্টাডিজের উদ্যোগে ‘একক বক্তৃতা ও গবেষণা প্রকল্পের অগ্রগতি’ শীর্ষক এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

বক্তৃতার শুরুতে আবদুল হাই শিকদার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নজরুলকে নিয়ে যে গবেষণা হয়েছে, তার একটি বড় অংশ কিংবদন্তি, লোককাহিনি ও যাচাই-বাছাইহীন তথ্যের ওপর নির্ভরশীল। ফলে নজরুলের প্রকৃত জীবন, ব্যক্তিত্ব ও চিন্তার অনেক গুরুত্বপূর্ণ দিক আড়ালেই থেকে গেছে। ইতিহাস ও কিংবদন্তির পার্থক্য অনুধাবন করে তথ্যপ্রমাণভিত্তিক গবেষণার মাধ্যমে নতুন করে নজরুলকে মূল্যায়নের আহ্বান জানান তিনি।

এ সময় তিনি ত্রিশালে নজরুলের ছাত্রজীবনের নানা ঘটনা তুলে ধরে বলেন, দারোগা কাজী রফিজুল্লাহ ও তার পরিবারের অবদান ছাড়া নজরুলের শিক্ষাজীবনের ইতিহাস অসম্পূর্ণ। রফিজুল্লাহর সহধর্মিণী বেগম শামসুন্নাহার নজরুলের প্রতিভায় মুগ্ধ হয়ে তার পড়াশোনার দায়িত্ব গ্রহণে স্বামীকে উদ্বুদ্ধ করেন। পরে দারোগা রফিজুল্লাহ নজরুলের থাকাখাওয়া, লেখাপড়া এবং তার মায়ের কাছে নিয়মিত অর্থ পাঠানোর ব্যবস্থাও করেছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে তার অবদান স্মরণে কোনো স্থাপনার নামকরণেরও আহ্বান জানান তিনি।

কাজী তালেবুর রহমানের স্মৃতিচারণামূলক গ্রন্থের উদ্ধৃতি দিয়ে আবদুল হাই শিকদার বলেন, নজরুলকে নিয়ে প্রচলিত অনেক গল্পের কোনো ঐতিহাসিক ভিত্তি নেই। বিশেষ করে রুটির দোকানে শ্রমিক হিসাবে কাজ করা বা সিঁড়ির নিচে ঘুমানোর মতো বিষয়গুলো অতিরঞ্জিত এবং গবেষণাবহির্ভূত বলে তিনি দাবি করেন। 

তার মতে, নজরুল একটি বেকারিতে হিসাবরক্ষকের দায়িত্ব পালন করেছিলেন, রুটি তৈরির শ্রমিক হিসাবে নয়।

বক্তৃতার শেষাংশে তিনি বলেন, ‘যদি মানবতা, স্বাধীনতা, অসাম্প্রদায়িকতা, নারী অধিকার, গণতন্ত্র ও শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে চাই; তাহলে আমাদের বারবার নজরুলের কাছেই ফিরে যেতে হবে। কারণ, কাজী নজরুল ইসলাম কেবল একজন কবি নন; তিনি বাংলাদেশের জাতীয় চেতনা, সাংস্কৃতিক পরিচয় এবং মুক্তির দর্শনের সবচেয়ে উজ্জ্বল বাতিঘর।’

সেমিনারে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. এমদাদুল হুদা, বিজ্ঞান ও প্রকৌশলী বিভাগের ডিন কামাল হোসেন, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন অধ্যাপক শাখাওয়াত হোসেন সরকার। স্বাগত বক্তৃতা করেন কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব নজরুল স্টাডিজের অতিরিক্ত পরিচালক রাশেদুল আনাম। 

যুগান্তর সম্পাদক কবি আবদুল হাই শিকদার জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় (জাককানইবি) ক্যাম্পাসে পৌঁছালে যুগান্তর স্বজন সমাবেশ ত্রিশাল উপজেলা শাখার পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। 

এ সময় যুগান্তর ব্যুরো অফিস স্টাফ রিপোর্টার অমিত রায়, ত্রিশাল প্রতিনিধি খোরশিদুল আলম মজিব, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি শরীফুল আলম, যুগান্তর স্বজন সমাবেশ ত্রিশাল উপজেলা শাখার সভাপতি রিয়াজুল ইসলাম, সহসভাপতি আখলাকুল ইসলামসহ স্বজন বন্ধুরা উপস্থিত ছিলেন।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম