Logo
Logo
×
   

সারাদেশ

একসঙ্গে ধরা পড়ল ৪৬ মণ ইলিশ

Icon

কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৮ আগস্ট ২০২৬, ০১:৪৭ পিএম

একসঙ্গে ধরা পড়ল ৪৬ মণ ইলিশ

ছবি: সংগৃহীত

পটুয়াখালীর কুয়াকাটাসংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে একটি মাছধরার ট্রলারের জালে ধরা পড়েছে ৪৬ মণ ইলিশ।  এসব মাছ মহিপুর মৎস্য বন্দরে নিলামে ৪৮ লাখ ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিকালে মহিপুর মৎস্য বন্দরে নিলামে মাছগুলো বিক্রি করা হয়। দীর্ঘদিন পর একটি ট্রলারে বিপুল পরিমাণ ইলিশ ধরা পড়ায় জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।

জানা গেছে, ৬ আগস্ট পায়রা সমুদ্রবন্দরের শেষ বয়াসংলগ্ন গভীর সাগরে এফবি জুনাইদ নামে মাছধরার ট্রলার নিয়ে জাল ফেলেন মাঝি আলমগীর। একবার জাল ফেলতেই দুই হাজার ২০০টি ইলিশ ধরা পড়ে। পরে শুক্রবার (৭ আগস্ট) দুপুরে মাছ নিয়ে ট্রলারটি মহিপুর মৎস্য বন্দরে পৌঁছায়। মনোয়ারা ফিশ আড়তে নিলামের মাধ্যমে বিকাল থেকে সন্ধ্যার মধ্যে মাছগুলো বিক্রি করা হয়।

আড়ত সূত্র জানায়, ১ কেজি বা তার বেশি ওজনের ২৪ মণ ইলিশ প্রতি মণ ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। এতে পাওয়া যায় ২৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা। আর ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ২২ মণ ইলিশ প্রতি মণ ৯৫ হাজার টাকা দরে বিক্রি হয়েছে ২০ লাখ ৯০ হাজার টাকায়। সব মিলিয়ে ৪৬ মণ ইলিশ বিক্রি হয়েছে ৪৮ লাখ ৫০ হাজার টাকায়।

ট্রলারটির মাঝি আলমগীর যুগান্তরকে বলেন, প্রায় পাঁচ বছর পর একসঙ্গে এত বড় চালানের ইলিশ পেয়েছি। দীর্ঘদিন লোকসানের পর এমন মাছ পাওয়ায় আমরা খুবই খুশি।

মনোয়ারা ফিশের ম্যানেজার সগির আকন বলেন, দীর্ঘদিন পর এত বড় চালানের ইলিশ এসেছে। বর্তমানে বাজারে ইলিশের দাম বেশি থাকায় জেলেরা ভালো মূল্য পেয়েছেন। সচরাচর এত বড় আকারের ইলিশ একসঙ্গে পাওয়া যায় না।

ব্লু অ্যাকশন ফান্ডের অর্থায়নে পরিচালিত ডব্লিউসিএস ও ওয়ার্ল্ডফিশের সমন্বয়ে বাস্তবায়িত ‘সুস্থ সাগর’ প্রকল্পের গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বেশির ভাগ মাছ ধরার বোটে কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ ইলিশের দেখা মিলছে না। এর মধ্যে একটি ট্রলারে একসঙ্গে ৪৬ মণ ইলিশ ধরা পড়া নিঃসন্দেহে স্বস্তির খবর এবং জেলেদের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে।

তিনি বলেন, একদিনের বেশি আহরণকে সামগ্রিকভাবে ইলিশের প্রাচুর্যের সূচক হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বিষয়টি ধারাবাহিক পর্যবেক্ষণ ও বৈজ্ঞানিক তথ্যের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা উচিত। ইলিশের ইতিবাচক ধারা ধরে রাখতে জেলেদের সচেতনতা, প্রজনন মৌসুমে মাছ আহরণ থেকে বিরত থাকা এবং সংরক্ষণ কার্যক্রমের ধারাবাহিক বাস্তবায়ন গুরুত্বপূর্ণ।

কলাপাড়া সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, কিছুদিন আগেও সাগরে ইলিশের খরা ছিল। বর্তমানে জেলেদের জালে বেশ ভালোই ইলিশ ধরা পড়ছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে আরও বেশি ইলিশ পাওয়া যেতে পারে। এতে জেলে, আড়তদারসহ ইলিশ-সংশ্লিষ্ট সবাই লাভবান হবেন।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম