Logo
Logo
×
   

সারাদেশ

ডিসি হতেও চুক্তির অভিযোগ উপসচিব সালাহউদ্দিনের বিরুদ্ধে

Icon

এমএ কাউসার, চট্টগ্রাম

প্রকাশ: ০৯ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৩৬ পিএম

ডিসি হতেও চুক্তির অভিযোগ উপসচিব সালাহউদ্দিনের বিরুদ্ধে

চট্টগ্রাম বন্দরের ভান্ডার বিভাগের কন্ট্রোলার অব স্টোরস পদে (উপসচিব) দায়িত্ব পালন করছেন সালাহউদ্দিন আহমেদ। ছবি: যুগান্তর

পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপসচিব থাকাকালে সালাহউদ্দিন আহমেদ নামে এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীর কাছ থেকে চার কোটি টাকা গ্রহণের তথ্য পাওয়া গেছে।

চট্টগ্রাম বন্দরে ব্যবসায়িক সুবিধা দেওয়ার শর্তে ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে চুক্তির মাধ্যমে আহমেদ শাকিল খান নামে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ওই টাকা গ্রহণ করেন তিনি। শুধু তাই নয়, জামানত হিসাবে টাকার সমপরিমাণ চেকও ওই ব্যবসায়ীকে দেন তিনি।

চুক্তিপত্র সম্পাদনের এক মাসের মধ্যে ২৮তম ব্যাচের বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের এ কর্মকর্তা চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালক পদে যোগ দেন। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক হওয়ার জন্য দৌড়ঝাঁপ করছেন বলে জানা গেছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (চবক) পরিচালক পদে নিয়োগ পেতে টাকা লেনদেন এবং ডিসি হিসাবে নিয়োগ পেতে চুক্তি করার অভিযোগ সামনে আসার পর এক সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে কর্তৃপক্ষ। বন্দর সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম শনিবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

অভিযোগ রয়েছে, ব্যবসায়ী আহমেদ শাকিল খানের কাছ থেকে নেওয়া চার কোটি টাকা দিয়েই চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালক পদ বাগিয়ে নিয়েছেন সালাহউদ্দিন আহমেদ। তবে পরিচালকের কোনো পদ শূন্য না থাকায় বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম বন্দরের ভান্ডার বিভাগের কন্ট্রোলার অব স্টোরস পদে (উপসচিব) দায়িত্ব পালন করছেন।

সূত্র জানায়, গত বছরের ২৪ নভেম্বর ঢাকার ব্যবসায়ী আহমেদ শাকিল খানের সঙ্গে চুক্তিপত্র করেন তৎকালীন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপসচিব সালাহউদ্দিন আহমেদ। চুক্তিপত্রে সালাহউদ্দিন আহমেদের পদবিসহ স্বাক্ষর রয়েছে। ওই ব্যবসায়িক চুক্তিপত্রে উল্লেখ করা হয়, প্রথম পক্ষ সালাহউদ্দিন আহমেদ চট্টগ্রাম বন্দরের ব্যবসায়িক কাজের জন্য চার কোটি টাকা গ্রহণ করেছেন।

জামানত হিসাবে সালাহউদ্দিন আহমেদ তার নিজ অ্যাকাউন্টের সিটি ব্যাংকের দুটি চেকে দুই কোটি টাকা করে মোট চার কোটি টাকার চেক দেন। এছাড়া জিম্মাদার হিসাবে স্ত্রী লায়লা হাবিবা ও বোন জিনিয়াত খাতুনের জাতীয় পরিচয়পত্রও ওই ব্যবসায়ীকে দিয়েছেন।

এরপর গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে উপসচিব সালাহউদ্দিন আহমেদকে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক পদে বদলি করা হয় এবং ২৩ ডিসেম্বর তিনি বদলিকৃত পদে যোগদান করেন। এরপর চলতি বছরের ৮ জানুয়ারি চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালক (প্রশাসন) স্বাক্ষরিত এক আদেশে তাকে কন্ট্রোলার অব স্টোরস পদে পদায়ন করা হয়।

অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তির সঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমেদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটিংয়ের একটি স্ক্রিনশট ফাঁস হয়েছে। সেখানে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির সঙ্গে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্মকর্তা সালাহউদ্দিন আহমেদ। হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটিংয়ে তিনি লেখেন, ‘আমাকে দেওয়ার কথা ছিল এক পদ। ডিমোশন দিয়ে বসিয়েছে আরেক জায়গায় ... আমি এখন নিঃস্ব।’

সূত্র আরও জানায়, বন্দরে দায়িত্ব পালনকালেই সালাহউদ্দিন আহমেদ চট্টগ্রামের পরবর্তী জেলা প্রশাসক (ডিসি) হওয়ার জন্য দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। ২৯ মার্চ নিজের স্বাক্ষর করা এক সম্মতিপত্রে চট্টগ্রামের ডিসি হওয়ার জন্য তিনি সম্মতি প্রকাশ করেন। সেখানে তার পক্ষে সব প্রয়োজনীয় যোগাযোগ রক্ষা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য মো. হাবিবুর রহমান নামে এক ব্যক্তিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। পেশায় ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমান পটুয়াখালী জেলার বাউফল উপজেলার বগা বন্দর গ্রামের মো. আবদুল মজিদের ছেলে।

ডিসি হওয়ার জন্য এরই মধ্যে বিপুল অঙ্কের লেনদেনের চুক্তিপত্র করেছেন বলেও জানা গেছে। জামানত হিসাবে নিজের স্যালারি অ্যাকাউন্টের একাধিক চেকও দিয়েছেন তিনি।

চট্টগ্রাম বন্দরের ভান্ডার বিভাগের কন্ট্রোলার অব স্টোরস সালাহউদ্দিন আহমেদ (উপসচিব) যুগান্তরকে বলেন, ‘চেকগুলো আমার এবং চুক্তিপত্রের স্বাক্ষরও আমার। তবে জালিয়াতির মাধ্যমে সেগুলোকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। টাকা দিয়ে বন্দরের পরিচালক হওয়া বা চট্টগ্রামের ডিসি হওয়ার বিষয়ে কারও সঙ্গে চুক্তি করার প্রশ্নই ওঠে না। এগুলো মিথ্যা।’

হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটিংয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার মোবাইল বা হোয়াটসঅ্যাপ হ্যাক করে হয়তো এগুলো করেছে।’

এসব বিষয়ে থানায় কোনো জিডি করা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিষয়গুলো নিয়ে কোনো ধরনের আইনগত পদক্ষেপ নিইনি। তবে প্রয়োজন ছিল। এটা আমার ভুল হয়েছে।’

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, ‘বিষয়টি নজরে আসার পর শনিবার এক সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া গেলে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।’

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম