আগুনে দগ্ধ শিশুর চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার
দুর্গাপুর (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১০ আগস্ট ২০২৬, ১০:৩১ এএম
সন্তানের এমন করুণ পরিণতি দেখে বাবা-মায়ের মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ে।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নে আগুনে দগ্ধ তিন বছর বয়সি সারা মনির চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
রোববার (৯ আগস্ট) বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে শিশু সারা মনিকে ভর্তি এবং অস্ত্রোপচারসহ উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন তিনি।
সারা মনি একই ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী থাউসাল পাড়ার বাসিন্দা সুমন আলীর মেয়ে। সুমন পেশায় একজন দরিদ্র কৃষক।
জানা গেছে, শিশু সারা এদিক-ওদিক ছুটাছুটি করে সারা বাড়ি মাতিয়ে রাখত। চলতি বছরের ১৭ জানুয়ারি চুলার আগুনে দগ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয় সে।
সন্তানের এমন করুণ পরিণতি দেখে বাবা-মায়ের মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ে। পরিবারের সামর্থ্য অনুযায়ী এত দিন চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছিলেন সুমন আলী। তবে চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছিলেন তিনি।
সারা মনির পিঠের চামড়ার সঙ্গে বাম হাত লেগে যায়। এতে পিঠ ও হাতের চামড়া এক হয়ে গেছে। শরীরে ক্ষত থাকায় তাকে ঠিকমতো কাপড়ও পরানো যায় না।
চিকিৎসকরা সুমন আলীকে জানিয়েছেন, অস্ত্রোপচারসহ উন্নত চিকিৎসা করাতে পারলে সারা মনি ধীরে ধীরে আগের অবস্থায় ফিরে আসতে পারে। শরীরের সঙ্গে লেগে থাকা হাত অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে আলাদা করে তাকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে বিপুল অর্থের প্রয়োজন। এ কথা শুনে হতাশ হয়ে পড়েন সুমন আলী।
বিষয়টি জানতে পেরে জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল চিকিৎসার দায়িত্বে থাকা একটি টিমকে সুমন আলীর বাড়িতে পাঠান। পরে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে শিশু সারা মনিকে ভর্তি এবং অস্ত্রোপচারসহ উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন তিনি।
স্থানীয়রা জানান, অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে শিশুটির চিকিৎসার দায়িত্ব নেওয়ার উদ্যোগে তারা ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সাল কামালের প্রতি কৃতজ্ঞ।
ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল জানান, যথাসময়ে সারা মনির চিকিৎসা শুরু করতে পেরে মহান আল্লাহর প্রতি তিনি কৃতজ্ঞ। একই সঙ্গে তিনি সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন, যাতে তিন বছরের শিশুটি দ্রুত সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারে।
