যুগান্তরে খবর প্রকাশের পর তড়িঘড়ি স্বেচ্ছায় অবসরের আবেদন সেই শিক্ষকের
যুগান্তর প্রতিবেদন, মানিকগঞ্জ
প্রকাশ: ১৭ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৪৪ পিএম
মনজুরুল ইসলাম। ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
দৈনিক যুগান্তরে ১৬ আগস্ট ‘স্কুলে অনুপস্থিত চার বছর, বেতন তোলেন নিয়মিত’ শিরোনামে প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অভিযুক্ত শিক্ষক মনজুরুল ইসলাম স্বেচ্ছায় অবসরের আবেদন করেছেন।
রোববার (১৬ আগস্ট) দুপুরে পরিবারের পক্ষ থেকে তার অবসরের আবেদন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হয়। প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ মিজানুর রহমান আবেদনটি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
অভিযোগ উঠে, মানিকগঞ্জ পৌরসভার কুশেরচর ইসমাইল হোসেন উচ্চ বিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান বিষয়ের সহকারী শিক্ষক মনজুরুল ইসলাম টানা প্রায় চার বছর ধরে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকলেও কাগজে-কলমে নিয়মিত উপস্থিত দেখিয়ে সরকারি অংশের বেতন-ভাতা উত্তোলন করছেন।
প্রতিবেদন প্রকাশের পরপরই তার স্বেচ্ছায় অবসরের আবেদন সামনে আসে। প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান বলেন, রোববার দুপুরে পরিবারের পক্ষ থেকে মনজুরুল ইসলামের স্বাক্ষর করা অবসরের আবেদন দেওয়া হয়েছে। আবেদনটি গ্রহণ করা হয়েছে।
এর আগে প্রধান শিক্ষক যুগান্তরকে স্বীকার করেছিলেন, শারীরিক অসুস্থতার অজুহাতে মনজুরুল ইসলামের বিদ্যালয়ে অনুপস্থিতি চললেও তার হাজিরা খাতা বাড়িতে নিয়ে গিয়ে সপ্তাহের স্বাক্ষর করানো হচ্ছিল। তিনি নিজেই একে বিধিবহির্ভূত ও আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে মন্তব্য করেন।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মনজুরুল ইসলামের অনুপস্থিতিতে সামাজিক বিজ্ঞান বিষয়ের ক্লাস স্থানীয় জাহিদ হাসান নামে একজনকে দিয়ে চালানো হচ্ছে। এ জন্য তাকে মাসে সাড়ে ৩ হাজার টাকা দেওয়া হয়। কয়েক বছর আগে রেজুলেশনের মাধ্যমে ‘প্রক্সি’ শিক্ষক রাখার বিষয়টি অনুমোদন করা হয়েছিল বলেও জানা গেছে, যা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
জানা যায়, বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা অ্যাডভোকেট এটিএম সাজাহানের ভাতিজা শিক্ষক মনজুরুল ইসলাম। এই সম্পর্কের কারণেই দীর্ঘদিন ধরে তার অনুপস্থিতি ও অনিয়ম আড়াল করা হয়েছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের। তবে এসব বিষয়ে বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে প্রতিষ্ঠাতা এটিএম সাজাহান বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে প্রতিবেদনটি প্রকাশ না করার অনুরোধ জানান।
প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ মিজানুর রহমান যুগান্তরকে জানান, অফিসিয়ালি তার অবসরের আবেদনপত্রটি গ্রহণ করা হয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যে বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভা ডেকে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আমীর হোসেন যুগান্তরকে বলেন, বিষয়টি প্রথমবারের মতো জানতে পেরেছি। অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুতর। তদন্ত করে দেখা হবে। সত্যতা প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
