শেরপুরে স্বেচ্ছাসেবক দলের পৃথক প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী, অনুষ্ঠান শেষে চেয়ার ভাঙচুর
শেরপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০২৬, ০৩:১৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
শেরপুরে পৃথকভাবে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করেছে বিএনপির দুই পক্ষ। বুধবার (১৯ আগস্ট) বিকালে শহরের থানা মোড় মুক্তমঞ্চে এক পক্ষের আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষে চেয়ার ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এতে পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
বুধবার বিকাল ৪টায় থানা মোড় মুক্তমঞ্চে স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন নিয়ামুল হাসান আনন্দ। এর আগে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শহরে আনন্দ শোভাযাত্রা বের করা হয়।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক ও সাবেক জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মামুনুর রশিদ পলাশ। এ সময় সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. হযরত আলী, সদস্য সচিব সাইফুল ইসলাম, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আকরামুজ্জামান রাহাত, বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম স্বপন, শ্রমিক দল নেতা শওকত হোসেনসহ বিএনপি ও স্বেচ্ছাসেবক দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা বক্তব্য দেন।
সভায় বিএনপির অপরপক্ষের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে বক্তব্য দেওয়া হয়। এর প্রতিবাদে রাতে শহরের রঘুনাথ বাজারে জেলা বিএনপি কার্যালয়ে পৃথক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
সেখানে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সাইদুল ইসলাম সানির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন আবু রায়হান রুপন এবং প্রধান বক্তা ছিলেন কামরুল হাসান। সভায় বক্তারা অপরপক্ষের নেতাদের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান এবং তাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগ তোলেন।
এদিকে বুধবার রাত ১১টার দিকে থানা মোড়ের মুক্তমঞ্চে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষে একদল তরুণ মঞ্চের সামনে থাকা শতাধিক চেয়ার ভাঙচুর করে চলে যায়। এ সময় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। চেয়ার ভাঙচুরের ঘটনায় পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে আহতদের কেউ হাসপাতালে ভর্তি হননি।
যুবদল নেতা মো. শওকত হোসেন চেয়ার ভাঙচুর ও পাঁচজন আহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে এ ঘটনায় কারা জড়িত, সে বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।
চেয়ার ভাঙচুরের ঘটনায় স্বেচ্ছাসেবক দলের কোনো পক্ষই দায় স্বীকার করেনি।
স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় সাত মাস ধরে শেরপুর জেলা বিএনপির কমিটি না থাকায় দলের অভ্যন্তরে গ্রুপিং চলছে। এ কারণে কেন্দ্রীয় বিভিন্ন কর্মসূচিও পৃথকভাবে পালন করছেন দলটির নেতাকর্মীরা। দুটি পক্ষের একটির নেতৃত্বে রয়েছেন জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও শেরপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদ রুবেল এবং অপর পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও বর্তমান সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. হযরত আলী।
