পাশের হার শূন্য দুই মাদ্রাসা
৯ জনের বাল্যবিয়ে ও সিসি ক্যামেরার ভয়ে পরীক্ষা দেয়নি ৬ জন
মঠবাড়িয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৪ আগস্ট ২০২৬, ০৮:০৪ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলায় দাখিল পরীক্ষায় চরম বিপর্যয় দেখা দিয়েছে দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। উপজেলার আলগী বালিকা দাখিল মাদ্রাসা এবং মধ্য বড় শৌলা ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা- এই দুই প্রতিষ্ঠান থেকে এ বছর একজন শিক্ষার্থীও পাশ করতে পারেনি।
শিক্ষক সংকট, দায়িত্বহীনতা এবং পরীক্ষার আগেই অধিকাংশ ছাত্রীর বাল্যবিয়ে হয়ে যাওয়াকে দায়ী করছেন শিক্ষকরা।
আলগী বালিকা দাখিল মাদ্রাসা থেকে এ বছর ১০ জন শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করলেও শেষপর্যন্ত পরীক্ষায় অংশ নেয় মাত্র ১ জন। তবে সেই একমাত্র পরীক্ষার্থীও অকৃতকার্য হওয়ায় পাশের হার নেমে এসেছে শূন্যে।
প্রতিষ্ঠানটির সুপার হারুন অর রশীদ জানান, বালিকা মাদ্রাসা হওয়ায় দাখিল পরীক্ষার আগেই বেশির ভাগ মেয়ের বিয়ে হয়ে যায়। এবারও ১০ জনের মধ্যে ৯ জন শিক্ষার্থীরই বিয়ে হয়ে গেছে। আর যে একজন পরীক্ষা দিয়েছিল, সে ইতিহাস পরীক্ষার দিন অসুস্থ হয়ে পড়ায় পাশ করতে পারেনি।
অন্যদিকে মধ্য বড় শৌলা ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা থেকেও ১০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৬ জনই পরীক্ষা কেন্দ্রে অনুপস্থিত ছিল। বাকি ৪ জন অংশ নিলেও সবাই ফেল করেছে।
মাদ্রাসাটির সুপার মাওলানা নাসরুল্লাহ বলেন, পরীক্ষা কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা বসানোর খবর শুনে ১০ জনের মধ্যে ৬ জন পরীক্ষার্থী ভয়ে অংশই নেয়নি। এছাড়া প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক সংকট চলছে। ১০ বছর ধরে বাংলা এবং ৩ বছর ধরে ইংরেজি শিক্ষকের পদ খালি। ২১ জন শিক্ষক-কর্মচারীর পদের মধ্যে ১২টি পদই শূন্য।
স্থানীয় কয়েকজন অভিভাবক ও বাসিন্দারা জানান, নিয়মিত পরিদর্শন, শূন্য পদগুলোতে দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ এবং আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে অনিয়ম ঢাকার সংস্কৃতি বন্ধ না হলে উপজেলার গ্রামীণ অঞ্চলের ধর্মীয় শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা একেবারে হারিয়ে যাবে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, উপজেলার এই দুটি প্রতিষ্ঠানে একজন শিক্ষার্থীও পাশ না করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে।
উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক রফিকুজ্জামান আবির বলেন, শিক্ষক সংকট ও তদারকহীনতার পাশাপাশি বাল্যবিয়ে রোধে স্থানীয় প্রশাসনকে আরও কঠোর হতে হবে। পরীক্ষার আগে ৯ জন ছাত্রীর বিয়ে হয়ে যাওয়াটা প্রমাণ করে মাঠপর্যায়ে সামাজিক সচেতনতা ও প্রশাসনের নজরদারি কতটা দুর্বল। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।
