বরগুনায় নিখোঁজ ৫ জেলের বিষয়ে যা জানা গেল
বরগুনা (দক্ষিণ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০২৬, ০২:৫৯ পিএম
খবর শুনে স্বজনদের মধ্যে শুরু হয় আহাজারি। শোকের ছায়া নেমে আসে স্বজন ও প্রতিবেশীদের মধ্যে।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার ট্রলারডুবির পর বরগুনার পাথরঘাটার পাঁচ জেলে নিখোঁজের ঘটনায় ‘লাশ উদ্ধারের গুজবে’ জেলেদের বাড়িতে দাফনের জন্য কবর খনন করা হয়েছে। সম্পন্ন করা হয়েছে দাফনের সব প্রক্রিয়াও। অথচ তাদের মৃত্যু ও লাশ উদ্ধারের সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই। এখনো চলছে উদ্ধার অভিযান।
নিখোঁজ জেলেরা হলেন মো. বিল্লাল, মো. কাওসার, মো. নুর আলম, মো. শাকিল ও মো. ইব্রাহিম। তারা সবাই বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার সকালে পাথরঘাটা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র থেকে ১৩ জেলে এফবি বরকত নামের একটি মাছ ধরার ট্রলার নিয়ে বঙ্গোপসাগরে মাছ শিকারে যান। পরে সাগরে বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে সোমবার ট্রলারটি নোঙর করা অবস্থায় উত্তাল ঢেউয়ের কবলে পড়ে উলটে ডুবে যায়।
এ সময় ট্রলারে থাকা ১৩ জেলের মধ্যে আটজন সাঁতরে কাছাকাছি থাকা অন্য একটি ট্রলারে উঠতে সক্ষম হন। তবে নিখোঁজ হন পাঁচজন। এরপর ট্রলার মালিক সমিতির পক্ষ থেকে নিখোঁজ জেলেদের সন্ধানে দুটি ট্রলার সমুদ্রে পাঠানো হয়। এর পরই শুরু হয় ‘লাশ উদ্ধারের গুজব’।
খবর শুনে স্বজনদের মধ্যে শুরু হয় আহাজারি। শোকের ছায়া নেমে আসে স্বজন ও প্রতিবেশীদের মধ্যে। এরপর থেকেই শুরু হয় দাফনের প্রস্তুতি। কবর খননের পাশাপাশি কেনা হয় কাফনের কাপড়ও।
সরেজমিনে পাথরঘাটা উপজেলার গহরপুর গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, নিখোঁজ নুর আলমের মৃত্যুর খবর শুনে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন তার স্ত্রী, বাবা ও মা। এদিকে স্বজনরা কবর খুঁড়ছেন। কেউ বাঁশ কাটছেন, আবার কেউ পানি গরম করছেন। নুর আলমের দাফনের প্রস্তুতি চলছে। খবর পেয়ে স্বজনরা ছুটে আসছেন বাড়িতে।
তবে সকাল গড়িয়ে বিকাল হলেও লাশ নিয়ে না আসায় স্বজনরা বিভিন্ন মাধ্যমে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, এখনো নিখোঁজ জেলেদের সন্ধান মেলেনি।
নুর আলমের চাচা ফারুক মোল্লা বলেন, সকালে খবর পেলাম, নুর আলমসহ অন্য জেলেদের লাশ পাওয়া গেছে। বাড়িতে নিয়ে আসা হচ্ছে। এ শুনে আমরা কাফনের কাপড়, কবর খননসহ দাফনের সব প্রস্তুতি নিই। আমরা খাট নিয়ে নদীর পাড়ে বিকাল পর্যন্ত বসে ছিলাম। পরে শুনি, এ খবর সত্য নয়।
নুর আলমের বাবা জাহাঙ্গীর মোল্লা বলেন, আমার ছেলে জীবিত না মৃত, এখন সবই অনিশ্চিত। ট্রলারডুবির পর আজ সকালে শুনলাম, আমার ছেলের লাশ পাওয়া গেছে। সারাদিন আমরা দাফনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করলাম। এখন শুনি, এটা গুজব। আমি সরকারের কাছে দাবি জানাই, আমার ছেলের লাশটা অন্তত এনে দিক।
ট্রলার থেকে বেঁচে ফিরে আসা জামাল নামে এক জেলে বলেন, নিখোঁজ জেলেরা কোথায় আছে, তা জানি না। তারা ট্রলারের ভেতরে আটকে আছেন, নাকি ভেসে গেছেন, তাও জানি না। মানুষের কাছে শুনতে পেয়েছি, তাদের লাশ পাওয়া গেছে।
নিখোঁজ জেলে কাওসারের স্ত্রী তামান্না বলেন, এখন পর্যন্ত স্বামীর বিষয়ে কোনো সঠিক খবর পাইনি। অনেকের কাছে লাশ উদ্ধারের কথা শুনেছি। সে কারণেই কবর খনন করা হয়েছিল।
এ বিষয়ে পাথরঘাটা থানার ওসি মোহাম্মদ আব্দুল আলীম বলেন, সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ডুবে যাওয়া ট্রলারের নিখোঁজ পাঁচ জেলেই এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। বিভিন্ন মাধ্যমে তাদের লাশ ভাসমান অবস্থায় দেখা গেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। তবে পাথরঘাটা থানা এলাকায় এখনো কোনো লাশ পৌঁছায়নি। তাই লাশ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
নিখোঁজ জেলেদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ আলহাজ্ব নুরুল ইসলাম মণি।
তিনি বলেন, নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারের বিষয়ে আমি তদারকি করছি এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছি। দল-মত নির্বিশেষে জেলেরা আমার খুব আপন মানুষ এবং তারা খুব অসহায়। এসব জেলেদের পাশে আমি সব সময় আছি। সব ধরনের সহযোগিতা যা প্রয়োজন, তা আমার পক্ষ থেকে ইনশাআল্লাহ করা হবে।

