Logo
Logo
×
   

সারাদেশ

যমুনায় ফেলা হচ্ছিল বিপুল পরিমাণ সরকারি ওষুধ, পিকআপসহ চালক আটক

Icon

ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৭ আগস্ট ২০২৬, ০৯:২৪ পিএম

যমুনায় ফেলা হচ্ছিল বিপুল পরিমাণ সরকারি ওষুধ, পিকআপসহ চালক আটক

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিপুল পরিমাণ মেয়াদোত্তীর্ণ সরকারি ওষুধ ভূঞাপুরে যমুনা নদীতে ফেলার সময় জনতার হাতে পিকআপভর্তি ওষুধসহ এক চালক আটক হয়েছেন। পরে তাকে পিকআপসহ ভূঞাপুর থানায় নিয়ে আসে পুলিশ।

চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় সরকারি হাসপাতালের ওষুধ কিভাবে নদীতে ফেলে দেওয়ার জন্য পাঠানো হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বুধবার (২৬ আগস্ট) রাতে ভূঞাপুর উপজেলার যমুনা নদীর তীরবর্তী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, রাতে একটি পিকআপভ্যানে করে বিপুল পরিমাণ সরকারি ওষুধ নিয়ে যমুনা নদীর তীরে আসেন চালক। ওষুধগুলো নদীতে ফেলে দেওয়ার প্রস্তুতিকালে বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে আসে। পরে তারা পিকআপটি আটক করে পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে ভূঞাপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে চালকসহ পিকআপটি থানায় নিয়ে আসে।

আটক পিকআপচালক ও মালিক আজমতের দাবি, পিকআপভর্তি ওষুধগুলো টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলা সরকারি হাসপাতালের।

এর আগেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে চুক্তির ভিত্তিতে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ফেলে দেওয়ার কথা জানিয়ে তিনি দাবি করেন, সেই সময় ঘাটাইলের বনাঞ্চলের গভীরে নিয়ে ওষুধগুলো ফেলে দিয়েছিলেন। এবারও একইভাবে ওষুধগুলো ফেলে দেওয়ার জন্য তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।

ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচও) ওষুধগুলো তাদের হাসপাতালের বলে স্বীকার করেছেন।

এদিকে ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। যেখানে সরকারি অর্থে কেনা ওষুধ নিয়মিত জনগণ পায় না, সেখানে ওষুধ নদীতে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠায় প্রশ্নের মুখে পড়েছেন সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ যত্রতত্র ফেলে দিলে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এসব ওষুধ নির্ধারিত নিয়ম ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ধ্বংস বা নিষ্পত্তি করার কথা।

তবে কী পরিমাণ ওষুধ ছিল, সেগুলো কতদিন আগে মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে, কিভাবে হাসপাতাল থেকে বাইরে নেওয়া হলো এবং কে বা কার নির্দেশে যমুনায় ফেলে দেওয়ার জন্য পাঠানো হয়েছিল- এসব প্রশ্নের উত্তর এখনও স্পষ্ট নয়।

ওষুধের পরিমাণ যাচাই করতে ভূঞাপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার নির্দেশে তিনিসহ তার সহকারীরা ভূঞাপুর থানার গোল ঘরে ২০টি বস্তা উন্মোচন করেন। সেখানে তারা জানান, যতগুলো বস্তা উন্মোচন করা হয়েছে তাতে প্রতিদিন ৮ জন করে ১৫ দিন গণনা করলেও শেষ করা যাবে না। পিকআপের মধ্যে আরও দ্বিগুণ বস্তা রয়েছে।

ঘটনার সঙ্গে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কারো দায়িত্বে অবহেলা বা অনিয়ম ছিল কিনা, তা তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে ভূঞাপুর থানার ওসি একেএম রেজাউল করিম জানান, ঘাটাইল হাসপাতালের মেয়াদোত্তীর্ণ ১ মিনিট্রাকভর্তি ওষুধ যমুনা নদীতে ফেলে দেওয়ার সময় স্থানীয়রা হাতেনাতে আটক করেন। এ ব্যাপারে আমি জেলা সিভিল সার্জনকে অবহিত করেছি। এ বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। 

এ বিষয়ে ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আবু নইম মোহাম্মদ সোহেল ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

এ বিষয়ে টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা. ফরাজী মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম মঞ্জু বলেছেন- এ ঘটনা তদন্তে ৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হবে। তদন্তের পর দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম