সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে ইয়াবা পাচারকালে গ্রেফতার ৩
যুগান্তর প্রতিবেদন, মানিকগঞ্জ
প্রকাশ: ২৮ আগস্ট ২০২৬, ১২:৩১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রোগী বহনের কথা সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে। সেই অ্যাম্বুলেন্সেই রোগী নেওয়ার ভান করে পাচার করা হচ্ছিল ইয়াবা। মাদক পাচারের নিরাপদ যানবাহন হিসেবে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার করে আসছিল একটি চক্র। দীর্ঘদিন ধরে এভাবে মাদক পরিবহণের অভিযোগ থাকলেও শেষ পর্যন্ত জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের জালে ধরা পড়েছে চক্রটির তিন সদস্য।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকালে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার বেউথা মোড় থেকে ১ হাজার ৫০০ পিস ইয়াবা ও মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একটি সরকারি অ্যাম্বুলেন্সসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। উদ্ধার ইয়াবার আনুমানিক মূল্য ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
গ্রেফতাররা হলেন- মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার নতুন বস্তী এলাকার ফরিদ মোহাম্মদ সৈকত (৪৭), পশ্চিম সেওতা এলাকার খন্দকার আতিকুর রহমান রুবেল (৪০) এবং হরিরামপুর উপজেলার ঝিটকা কলাহাটি এলাকার রেজাউল করিম খান মিলন (৪১)।
জেলা ডিবি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার দুপুরের পর থেকে ডিবির একটি দল শহরের বেউথা মোড় এলাকায় অবস্থান নেয়। বেলা সাড়ে ৩টার দিকে সরকারি হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্সে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় অ্যাম্বুলেন্সের ভেতরে থাকা ফরিদ ও আতিকুরের কাছ থেকে ১ হাজার ৫০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চারটি অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে। রেজাউল ২০২৩ সালের ২৩ মে থেকে চুক্তিভিত্তিক চালক হিসেবে নিয়োগ পান। ফরিদের বিরুদ্ধে মাদকের একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। আতিকুর তার সহযোগী। তারা দুজন সরকারি হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার করে মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ব্যাপারে মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, বিষয়টি আমি জেনেছি। এ ব্যাপারে আইনি পদক্ষেপ নিতে ডিবির পরিদর্শককে জানিয়েছি। অ্যাম্বুলেন্সের চালকের পদ থেকেও তাকে বরখাস্ত করা হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি অ্যাম্বুলেন্সকে ইয়াবা পাচারের নিরাপদ যানবাহন হিসেবে ব্যবহার করে আসছিল চক্রটি। সরকারি গাড়ি হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ এড়িয়ে মাদক পরিবহণ সহজ হবে—এমন ধারণা থেকেই অ্যাম্বুলেন্সটি ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে।
জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ইনচার্জ মানবেন্দ্র বালো যুগান্তরকে বলেন, এ ঘটনায় মানিকগঞ্জ সদর থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। মাদকবিরোধী এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
