আশুগঞ্জ সার কারখানা
‘জিয়া ফার্টিলাইজার’ নাম পুনর্বহালের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৬, ০৮:২৮ পিএম
মানববন্ধন। ছবি: যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ সার কারখানা আধুনিকায়নের মাধ্যমে দ্রুত সচল করা এবং কারখানাটির পূর্বনাম ‘আশুগঞ্জ জিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড’ পুনর্বহালের দাবিতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ সমাবেশ ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করেছেন শ্রমিক-কর্মচারীরা।
সোমবার (৩১ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আশুগঞ্জ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সেতুর টোল প্লাজা এলাকায় এএফসিসিএল শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধন শেষে বিক্ষোভকারীরা কিছু সময়ের জন্য ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করেন।
কর্মসূচিতে শ্রমিক-কর্মচারীদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে আশুগঞ্জ উপজেলা বিএনপি, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), জামায়াতে ইসলামী ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। এ ছাড়া সিএনজি, ট্রাক ও রিকশা মালিক সমিতি এবং আশুগঞ্জ তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সিবিএ নেতাকর্মীরাও কর্মসূচিতে যোগ দেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আশুগঞ্জ সার কারখানা বন্ধ থাকায় শুধু শ্রমিক-কর্মচারীরাই নন, এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে স্থানীয় অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে। ২০২৫ সালের ১ মার্চ থেকে কারখানাটি বন্ধ থাকায় অনেক পরিবার আর্থিক অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।
শ্রমিক নেতারা অভিযোগ করেন, ২০১০ সালের পর থেকে দেশীয় সার কারখানাগুলো বন্ধ রেখে সার আমদানির প্রবণতা বাড়ানো হয়েছে। এতে দেশের সার কারখানাগুলো যান্ত্রিক ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদের মতে, আধুনিকায়নের মাধ্যমে বন্ধ থাকা কারখানাগুলো পুনরায় উৎপাদনে ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
বক্তারা বলেন, দেশের সব সার কারখানা পূর্ণ সক্ষমতায় চালু করা গেলে আমদানি নির্ভরতা অনেকাংশে কমবে। একই সঙ্গে সরকারের বৈদেশিক মুদ্রার ব্যয় কমার পাশাপাশি দেশের কৃষি খাত আরও শক্তিশালী হবে।
বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা আরও বলেন, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংকটের কারণে অতীতে সার ও এলএনজি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছে এবং সারের দাম বেড়েছে। বিদেশ থেকে সার আমদানিতে সরকারের বিপুল অর্থ ব্যয় হচ্ছে। অথচ দেশে সার উৎপাদনের সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও কারখানাগুলো বন্ধ রাখা কোনোভাবেই যৌক্তিক নয়।
তারা প্রশ্ন তোলেন, জনগণের করের টাকা ব্যয় করে বেশি দামে বিদেশ থেকে সার আমদানি করার প্রয়োজন কী? ব্যবসায়িক স্বার্থের পরিবর্তে কৃষক ও সাধারণ মানুষের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে দেশীয় সার উৎপাদন বাড়ানোর দাবি জানান তারা।
সমাবেশে বক্তারা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত প্রতিষ্ঠান হিসেবে আশুগঞ্জ সার কারখানাকে আধুনিকায়নের মাধ্যমে পুনরুজ্জীবিত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে কারখানাটির পূর্বনাম ‘আশুগঞ্জ জিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড’ পুনর্বহালের দাবিও তোলেন তারা।
এএফসিসিএল শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি বজলুর রশিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দেন ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আবু কাউসার, সাংগঠনিক সম্পাদক তানভীর রহমান, কারখানার উপ-মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ভূঁইয়া, অফিসার্স ইউনিয়নের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, এনসিপির কেন্দ্রীয় নেত্রী জয়ন্তী বিশ্বাস, আশুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নোয়াব আলী মুন্সী, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির শাহজাহান ভূঁইয়া, উপজেলা শ্রমিক দলের আহ্বায়ক সোহেল পারভেজ, উপজেলা ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. শাহআলম এবং উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি মো. আব্দুল কুদ্দুসসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা।
কর্মসূচি থেকে ‘শিল্প বাঁচাও, কর্মসংস্থান বাঁচাও, কৃষি বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’— স্লোগান দেওয়া হয়।
সমাবেশ থেকে শ্রমিক-কর্মচারীরা দ্রুত আশুগঞ্জ সার কারখানা আধুনিকায়ন করে উৎপাদনে ফিরিয়ে আনা, শ্রমিকদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা এবং কারখানাটির পূর্বনাম পুনর্বহালে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ দাবি করেন।
