প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি ঘিরে বিএনপির দুপক্ষের সংঘর্ষ, আহত অর্ধশতাধিক
যুগান্তর প্রতিবেদন, পটুয়াখালী ও গলাচিপা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৪২ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পটুয়াখালীর গলাচিপায় বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পালটাধাওয়া, হামলা, ভাঙচুর ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে দুইপক্ষ।
আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে পৌর শহরের পৌরমঞ্চে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। আলোচনা সভা শেষে একটি র্যালি বের হয়ে শহরের বটতলা মোড়ে পৌঁছলে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির বহিষ্কৃত সদস্য হাসান মামুনের সমর্থকদের সঙ্গে উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীদের মুখোমুখি অবস্থান হয়। এ সময় দুইপক্ষের মধ্যে প্রথমে পালটাপালটি স্লোগান ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে ধাওয়া-পালটাধাওয়া শুরু হলে একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিনিট ধরে দুইপক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পালটাধাওয়া চলে। পরে উভয়পক্ষের নেতাকর্মীরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এতে কমপক্ষে অর্ধশতাধিক আহত হন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
সংঘর্ষের পর বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা শহরের স্থানীয় হাবিব হোটেলসহ কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুর চালান বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া গোলখালী ইউনিয়ন বিএনপি কার্যালয় ও হরিদেবপুরে শ্রমিক দলের কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর এবং সেখানে থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছবি ভাঙচুর ও মালামাল লুটের অভিযোগও করেছেন হাসান মামুনের সমর্থকরা।
উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম মোস্তফা ও সদস্য সচিব আলতাব হোসেনের নেতৃত্বে র্যালিটি বটতলা মোড়ে পৌঁছালে হাসান মামুনের সমর্থকদের উদ্দেশে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন মামুনপন্থিরা। এ নিয়ে উত্তেজনার সূত্রপাত হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলতাব হোসেন খান বলেন, প্রশাসনকে আগে অবহিত করার পরও প্রশাসনের নিরাপত্তাগত দুর্বলতার কারণে দুই গ্রুপের মধ্যে হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। তাদের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। আহতদের কয়েকজনকে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
অন্যদিকে উপজেলা বিএনপির বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সাত্তার হাওলাদার দাবি করেন, সংঘর্ষে হাসান মামুনের সমর্থক প্রায় ২০-২৫ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে জয়নাল মিয়া, কামাল হোসেন, হেলাল, রুহুল আমিন, আলম, মহসিন, স্যার হাওলাদার, বাচ্চু মৃধা ও মুসাসহ কয়েকজন রয়েছেন বলে তিনি জানান।
এ ঘটনার পর গলাচিপা পৌর শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুরো উপজেলায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। দুইপক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে টানটান উত্তেজনা থাকায় যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
এর আগে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিতে যোগ দিতে আমখোলা ইউনিয়ন বিএনপির নেতাকর্মীরা গলাচিপা শহরের উদ্দেশে রওনা হলে হরিদেবপুর ফেরিঘাট এলাকায় তাদের ওপর অতর্কিত হামলার অভিযোগ ওঠে। এতে গণঅধিকার পরিষদ ও বিএনপির একটি অংশের নেতাকর্মীরা জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
গলাচিপার সংঘর্ষের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) যুগান্তরকে বলেন, তিনিও সংঘর্ষের কথা শুনেছেন। তবে তার কাছে তখন পর্যন্ত বিস্তারিত তথ্য ছিল না। এ বিষয়ে গলাচিপা থানার ওসির সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন তিনি।
গলাচিপা থানার ওসিকে বক্তব্যের জন্য একাধিকবার ফোন করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান টোটনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি যুগান্তরকে বলেন, আমি মির্জাগঞ্জের একটি কর্মসূচিতে আছি। গলাচিপার ঘটনা সম্পর্কে এখন পর্যন্ত আমি কিছু জানি না। আপনারা আপনাদের মতো করে খোঁজখবর নেন, আমিও বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ নিচ্ছি।
