গোয়ালন্দে জিওব্যাগেও থামছে না ভাঙন, ঝুঁকিতে কবরস্থান বাজার স্কুলসহ কয়েকশ পরিবার
শামীম শেখ, গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী)
প্রকাশ: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৪৭ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়নের মুন্সিবাজার এলাকায় নতুন করে পদ্মা নদীতে ভয়াবহ ভাঙন শুরু হয়েছে। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন পদ্মাপারের বাসিন্দারা। গত ২-৩ দিনের ভাঙনে নদীপাড়ের অন্তত ৩০ মিটার এলাকা বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনের মুখে পড়েছে একটি কবরস্থান ও কয়েকটি বসতবাড়ি। দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে পার্শ্ববর্তী মুন্সিবাজার, মসজিদ, একটি প্রাইমারি স্কুল, উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রসহ শতাধিক পরিবার ভাঙনের কবলে পড়বে বলে স্থানীয়রা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
ভাঙন প্রতিরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) গত দুই বছর ওখানে ঠিকাদারের মাধ্যমে অন্তত ২৪ হাজার জিওব্যাগ ফেলেছে; কিন্তু তা কোনো কাজেই আসছে না। ভাঙনে জিওব্যাগসহ নদীতে ধসে গেছে। চলতি বছরও ইতোমধ্যে ওই এলাকায় ৬ হাজার জিওব্যাগ ফেলা হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অপরিকল্পিত ও দায়সারাভাবে জিওব্যাগ ফেলানোর কাজ করে। যে কারণে এখন সেগুলো নদীতে ধসে যাচ্ছে। নতুন করে নদীগর্ভে বিলীন হতে যাচ্ছে তিন ফসলি জমি ও রাস্তা। ভাঙনের মুখে রয়েছে মুন্সিবাজার এলাকার মসজিদ, কবরস্থান , শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাজারসহ এলাকার কয়েকশ পরিবার।
দৌলতদিয়া ও দেবগ্রাম এলাকার নদী শাসন আন্দোলনের সদস্য সচিব মো. জামাল মুন্সি বলেন, অপরিকল্পিত জিওব্যাগ ফেলানোর কারণে তা কোনো কাজেই আসছে না। ফলে বস্তাগুলো এখন নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। আমরা প্রাশাসনের কাছে দাবি করে আসছি যেন শুষ্ক মৌসুমে নদীর তলদেশ হতে জিওব্যাগ ফেলে নদী ভাঙন প্রতিরোধের কাজ করা হয়; কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ড আমাদের কথায় কর্নপাত করেনি। তারা ভরা বর্ষায় যখন নদী ভাঙন শুরু হয় তখন জরুরিভিত্তিতে নদীর তীর ঘেঁষে উপরিভাগে জিওব্যাগ ফেলে; যা তেমন কোনো কাজেই আসেনা। আমরা দ্রুত টেকসই মজবুত নদী শাসনের দাবি করছি।
সরেজমিন দেখা গেছে, নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় তীব্র স্রোত ও ঢেউয়ের কারণে নতুন করে ভাঙন দেখা দিয়েছে। যেসব স্থানে জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধ করা হয়েছিল, সেই জিওব্যাগগুলো নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে।
এ সময় আলাপকালে লোকমান সরদার, মোজাম্মেল শেখ, শহিদুল ইসলাম, নাজমুল শেখ, মজিদ সরদার, আমেনা খাতুনসহ কয়েকজন অভিযোগ করে বলেন, নদীর নিচ থেকে বস্তা না ফেলানোয় এখন স্রোতের টানে উপরের বস্তাগুলো ধসে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে আমাদের অনেকের ভিটেমাটি বিলীন হয়ে গেছে। নিরাপদ স্থানে সরে যাচ্ছেন অনেকে।
এ বিষয়ে রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী মো. তাজমিনুল রহমান বলেন, দেবগ্রামে নদী ভাঙনের স্থান আমরা পরিদর্শন করেছি। ওখানকার কবরস্থান এবং বসতবাড়ি রক্ষায় দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। আশা করছি তাড়াতাড়িই জিওব্যাগ অথবা টিউবব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের কাজ শুরু করতে পারব।
গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল হুদা বলেন, নদী ভাঙন বিষয়ে আমি রাজবাড়ী পানি উন্নয়নে বোর্ডের প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলেছি। তারা তাদের ঊর্ধ্বতম কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত সময়ের মধ্যে নদী ভাঙন স্থানে কাজ শুরু করবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন।
