দেশের প্রতিটি সরকারি হাসপাতালকে দালালমুক্ত করা হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
সিলেট ব্যুরো
প্রকাশ: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৪৫ পিএম
দেশের প্রতিটি সরকারি হাসপাতালকে দ্রুত দালালমুক্ত করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
দেশের প্রতিটি সরকারি হাসপাতালকে দ্রুত দালালমুক্ত করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নতুন জেলা হাসপাতাল ও শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, গত এক মাসে ২৫টির বেশি হাসপাতাল পরিদর্শন করে চিকিৎসকদের শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিত করেছি। ওসমানী হাসপাতালে সময়মতো আসা-যাওয়ার যে সমস্যা রয়েছে, আগামী ৭ কর্মদিবসের মধ্যে তার স্থায়ী সমাধান করা হবে। একই সঙ্গে হাসপাতালের ড্রেনেজ ও পরিচ্ছন্নতার যাবতীয় সমস্যা সাত দিনের মধ্যে সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্টদের কঠোর নির্দেশ দেন মন্ত্রী।
তিনি বলেন, রোগীদের মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে প্রাইভেট ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া একটি চিহ্নিত চক্রান্ত। এ ধরনের দালাল চক্র উৎখাতে ডিজিএফআই, র্যাবসহ সব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী একযোগে কাজ করছে। এরই মধ্যে পরিচালিত অভিযানগুলোর ফলে দালালদের উৎপাত আগের চেয়ে কমেছে। এ ছাড়া অবৈধ ক্লিনিক ও ভুয়া চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসক ও সিভিল সার্জনদের মাধ্যমে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে জরিমানা ও প্রতিষ্ঠান সিলগালা করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্য খাতে ব্যাপক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেন জানান, চলতি মাসের শেষেই দেশব্যাপী হামের বিশেষ টিকা ক্যাম্পেইন শুরু হচ্ছে। পাশাপাশি আগামী তিন মাসের মধ্যে স্বাস্থ্য খাতে বড় পরিসরে জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে। এর মধ্যে সাড়ে ৭ হাজার নার্স ও আড়াই হাজার ডাক্তারসহ মোট ৪৩ হাজার ৩৯০ জন জনবল নিয়োগ পাবে, যার ৮০ শতাংশই থাকবেন নারী কর্মী।
তিনি আশ্বাস দেন, সিলেটে নবনির্মিত ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালটি আগামী তিন মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা হবে।
স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানান, নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সিলেটে শিগগিরই একটি বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল এবং অসম্পূর্ণ থাকা ৪৫০ শয্যাবিশিষ্ট ক্যান্সার ইনস্টিটিউট চালু করা হবে। নতুন মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন ও এসব স্বাস্থ্য প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে সিলেট অঞ্চলের চিকিৎসা খাতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে।
সারাদিনের ব্যস্ত সফর ও পরিদর্শন শেষে বিকালে সিলেট ত্যাগ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

