Logo
Logo
×
   

ডাক্তার আছেন

হাম হলে করণীয় কী, জেনে নিন

ইসরাত জাহান ইফাত

ইসরাত জাহান ইফাত

প্রকাশ: ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ১০:০৬ পিএম

হাম হলে করণীয় কী, জেনে নিন

প্রতীকী ছবি

হাম আবারও উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। শিশুদের মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া এই ভাইরাসজনিত রোগ প্রতিরোধযোগ্য। কিন্তু টিকাদানের ঘাটতি, অপুষ্টি এবং অসচেতনতার কারণে এটি মহামারী আকার ধারণ করতে পারে।

সঠিক পুষ্টিকর খাবার + টিকাদান + পরিচ্ছন্নতা = শিশুর সুরক্ষা

হাম: কেন এখন এত আলোচনা?

বাংলাদেশে গত কয়েক বছরে টিকাদান কর্মসূচি থাকা সত্ত্বেও কিছু এলাকায় হাম পুনরায় দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে স্কুলগামী শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ দ্রুত ছড়াচ্ছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে- 

টিকাদানের কভারেজ কমে গেলে হাম দ্রুত ছড়ায়

অপুষ্ট শিশুদের মধ্যে জটিলতা বেশি

ঘনবসতিপূর্ণ পরিবেশ সংক্রমণ বাড়ায়

প্রিভ্যালেন্স ধারণা:

কিছু এলাকায় আউটব্রেক হলে প্রতি ১০০০ শিশুর মধ্যে ৫–১৫ জন পর্যন্ত আক্রান্ত হতে পারে।

হাম কীভাবে ছড়ায়?

কাশি ও হাঁচির মাধ্যমে

বাতাসে ভাসমান ভাইরাস (২ ঘণ্টা পর্যন্ত সক্রিয়)

আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে

আর তাই প্রতিরোধই সবচেয়ে ভালো উপায়। 

টিকাদান (সবচেয়ে কার্যকর): এমএমআর টিকার ২ ডোজ নিশ্চিত করতে হবে, নির্ধারিত সময়ে শিশুদের টিকা সম্পন্ন করা জরুরি।

দৈনন্দিন অভ্যাস

সাবান দিয়ে ২০ সেকেন্ড হাত ধোয়া

মুখে হাত দেওয়া কমানো

কাশি/হাঁচিতে টিস্যু ব্যবহার

আইসোলেশন

আক্রান্ত শিশুকে ৭–১০ দিন আলাদা রাখা

স্কুলে না পাঠানো

সঠিক পুষ্টিই দ্রুত সুস্থতার চাবিকাঠি, যে সকল পুষ্টিকর খাবার খুব প্রয়োজন এই সময়ে  

ভিটামিন এ → চোখ ও ইমিউনিটি

ভিটামিন সি → সংক্রমণ প্রতিরোধ

জিঙ্ক → দ্রুত রিকভারি ও সুস্থতা

তরল → পানিশূন্যতা প্রতিরোধ

সারাদিনের পুষ্টিকর খাবারের তালিকা 

সকাল:

নরম খিচুড়ি / দুধের তৈরি সুজি বা ফিরনি পায়েস

কলা / পেঁপে লাউ

সেদ্ধ ডিম বা হালকা পোচ ডিম

কমলার বা মালটার জুস বাসায় বানানো

মধ্য সকাল:

ডাবের পানি / লেবুর শরবত, মৌসুমী রঙিন ফল, দই

দুপুর:

নরম ভাত + ডাল এবং পাতলা ঝোলে রান্না করা মাছ বা মুরগি

মুরগির স্যুপ

গাজর/কুমড়া

বিকাল: 

আপেল সেদ্ধ অথবা মিক্সড ফলের সালাদ, অথবা ফালুদা অথবা কাস্টার্ড

সাবুদানা সেদ্ধ + দুধ অথবা দুধের তৈরি পুডিং, ফিরনি পায়েস, বাসায় বানানো হালুয়া

রাত: 

হালকা খিচুড়ি বা গলানো খিচুড়ি / স্যুপ

কুশুম গরম দুধ

হাইজিন ও কেয়ার গাইড

করণীয়-

প্রতিদিন কাপড় পরিষ্কার

বিছানা ধোয়া

ঘরে বাতাস চলাচল নিশ্চিত

সূর্যের আলো প্রবেশ

ব্যক্তিগত যত্ন

চোখ পরিষ্কার রাখা

নখ ছোট রাখা

আলাদা তোয়ালে ব্যবহার

তরল গ্রহণ

বারবার পানি / ডাক্তারের পরামর্শে সঠিক ডোজ এ ওআরএস বা খাবার স্যালাইন

ডাবের পানি, বাসায় বানানো মৌসুমী ফলের শরবত, বাসায় বানানো মুরগির সুপ, সবজির সুপ, ডালের সুপ, ভাতের মার, চিড়ার পানি

হাম হলে যেসব খাবার এড়িয়ে চলতে হবে 

হাম আক্রান্ত শিশুর ক্ষেত্রে কিছু খাবার রোগকে দীর্ঘস্থায়ী করে এবং উপসর্গ বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই নিচের খাবারগুলো এড়িয়ে চলা জরুরি—

১. ভাজাপোড়া ও ঝাল খাবার

যেমন: পুরি, পরোটা, বিস্কুট চানাচুর, ফাস্ট ফুড, চিপস। এগুলো হজমে কষ্ট করে এবং শরীরে প্রদাহ বাড়ায়। 

২. ঠান্ডা ও আইসক্রিমজাত খাবার

যেমন: আইসক্রিম, ঠান্ডা পানীয় গলা ব্যথা ও কাশি বাড়াতে পারে

৩. অতিরিক্ত মিষ্টি খাবার

যেমন: কেক, চকলেট, মিষ্টি ইমিউন সিস্টেম দুর্বল করে

৪. প্রসেসড ও প্যাকেটজাত খাবার

যেমন: জুস ড্রিংক, সফট ড্রিংক, ইনস্ট্যান্ট নুডলস। এসব খাবারে পুষ্টিগুণ কম, ক্ষতিকর উপাদান বেশি

৫. শক্ত ও হজমে কঠিন খাবার

যেমন: গরুর মাংস, ভাজা মাছ (কঠিন)। এই ধরনের খাবার দুর্বল শরীরে হজমে সমস্যা করে

কেন এসব খাবার ক্ষতিকর?

শরীরের প্রদাহ বাড়ায়

ইমিউন রেসপন্স কমিয়ে দেয়

জ্বর ও দুর্বলতা দীর্ঘায়িত করে

গ্যাস্ট্রিক ও বমির প্রবণতা বাড়ায়

সতর্ক সংকেত

দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন যদি শ্বাসকষ্ট হয়, ৩ দিনের বেশি জ্বর থাকে, খাওয়া বন্ধ করে দেয়, চোখ ফুলে যায়। 

মনে রাখবেন

হাম একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগ— কিন্তু অবহেলা করলে তা মারাত্মক হতে পারে।

✔ টিকা দিন

✔ পুষ্টি নিশ্চিত করুন

✔ পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন

সচেতন পরিবারই পারে শিশুকে নিরাপদ রাখতে।

লেখক: সিনিয়র ক্লিনিক্যাল ডায়েটিশিয়ান, বাংলাদেশ সাইকিয়াট্রিক কেয়ার ক্লিনিক ধানমন্ডি ও বায়োজিন কসমেসিউটিক্যালস, ধানমন্ডি, ঢাকা। 

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .