Logo
Logo
×
   

ডাক্তার আছেন

যেসব কারণে কম বয়সে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বেশি

Icon

যুগান্তর ডেস্ক

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬, ১২:২৫ পিএম

যেসব কারণে কম বয়সে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বেশি

লিভারে অতিরিক্ত মেদ (ফ্যাটি লিভার) জমলে তা শুধু লিভারের ক্ষতি করে না; বরং কম বয়সেই হৃদরোগ বা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি মারাত্মকভাবে বাড়িয়ে দেয়। রক্তে চর্বি জমা, উচ্চ রক্তচাপ এবং ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের কারণে এ দুটি সমস্যা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। নিজের অজান্তে শরীরের বড় বিপদ ডেকে আনা এ ক্ষতিকর অভ্যাসগুলো প্রতিরোধের উপায় খুঁজে বের করা।

বাঙালির রান্নাঘরে তেল একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। মাছ ভাজা, লুচি, পরোটা, বেগুনি, চপ, কাটলেট কিংবা নানা ধরনের ঝাল-মসলাদার রান্না তেল ছাড়া যেন ভাবাই যায় না। কিন্তু স্বাদের জন্য খাবারে অতিরিক্ত তেল ব্যবহার করার অভ্যাস ধীরে ধীরে আপনার শরীরের বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে বলে সতর্ক করে দিয়েছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।

তারা বলছেন, শরীরের স্বাভাবিক কাজকর্মের জন্য কিছু পরিমাণ ফ্যাটের প্রয়োজন আছে। কিন্তু সেই পরিমাণের চেয়ে বেশি তেল খাওয়া শুরু করলে বড় বিপদ ঘটতে পারে। কারণ অতিরিক্ত তেল আপনার শরীরে অপ্রয়োজনীয় ক্যালোরি বাড়িয়ে তোলে, যার ফলে ওজন দ্রুত বৃদ্ধি পায়। আর অতিরিক্ত ওজন থেকেই ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ এবং হৃদরোগের মতো নানা অসুখের ঝুঁকি বাড়ে।

আর সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় হৃদযন্ত্র। অতিরিক্ত তেল ও চর্বিযুক্ত খাবার খেলে রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল কিংবা এলডিএলের মাত্রা বাড়তে পারে। এই কোলেস্টেরল ধমনির ভেতরে জমতে শুরু করে। ফলে রক্ত চলাচল বাধাগ্রস্ত হয় এবং হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের আশঙ্কা বেড়ে যায়। 

শুধু হৃদযন্ত্র নয়, লিভারের ওপরও এর খারাপ প্রভাব পড়ে থাকে। বর্তমানে ফ্যাটি লিভারের সমস্যা দিন দিন দ্রুত বাড়ছে। অতিরিক্ত তেল, জাঙ্ক ফুড এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার নিয়মিত খেলে লিভারে চর্বি জমতে থাকে। যদিও প্রথম দিকে তেমন কোনো লক্ষণ না থাকলেও ধীরে ধীরে লিভারের কার্যক্ষমতা কমে যেতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে লিভারে প্রদাহও দেখা দিতে পারে। 

এ ছাড়া আরও একটি বিপজ্জনক অভ্যাস হতে পারে, একই তেল বারবার ব্যবহার করা। অনেকে বাড়িতে কিংবা দোকানে ভাজার পর বেঁচে যাওয়া তেল ব্যবহার করে থাকেন। বারবার গরম করলে তেলের গঠন বদলে যায় এবং কিছু ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ তৈরি হয়। এগুলো শরীরে প্রবেশ করে কোষের ক্ষতি করতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে নানা রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। তবে এর মানে এই নয় যে, আপনি পুরোপুরি তেল খাওয়া বন্ধ করে দেবেন।

 চিকিৎসকরা আরও বলেন, তবে পরিমিত পরিমাণে ভালো মানের তেল ব্যবহার করা উচিত। সরষে তেল, চিনাবাদাম তেল কিংবা অন্যান্য উদ্ভিজ্জ তেল সীমিত পরিমাণে ব্যবহার করা উচিত। এর পাশাপাশি ভাজাভুজির বদলে সেদ্ধ, গ্রিল কিংবা কম তেলে রান্না করা খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা।

আর প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় সাধারণ মানের কিছু শাকসবজি, ফল, ডাল, মাছ ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার রাখলে আপনার শরীর সুস্থ থাকবে। এ ছাড়া নিয়মিত হাঁটা কিংবা শরীরচর্চাও অতিরিক্ত চর্বি জমতে বাধা দেয়। মনে রাখবেন, রোগ একদিনে হয় না। প্রতিদিনের খাবারে অল্প অল্প করে বাড়তি তেলই ভবিষ্যতে বড় সমস্যার কারণ হয়ে উঠতে পারে। তাই সুস্বাদু খাবারের পাশাপাশি তেলের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখাই সুস্থ জীবনের অন্যতম চাবিকাঠি।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .