Logo
Logo
×
   

ডাক্তার আছেন

ফলের রসে কি শিশুর স্থূলতা ও ডায়াবেটিস বাড়তে পারে?

Icon

যুগান্তর ডেস্ক

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬, ১২:৪৭ পিএম

ফলের রসে কি শিশুর স্থূলতা ও ডায়াবেটিস বাড়তে পারে?

শিশুর সুস্বাস্থ্যের জন্য ফল কিংবা ফলের রস খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। বাজারে প্যাকেটজাত ফলের রস ক্ষতিকর। এর বদলে ঘরেই টাটকা মৌসুমি ফল দিয়ে রস বানিয়ে খাওয়া বেশি উপকারী বলেই অনেকে মনে করেন। 

কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে— টাটকা ফলের রস খুবই উপকারী, এটি ঠিক। কিন্তু কীভাবে ও কোন সময়ে ছোটদের খাওয়ানো হচ্ছে তা গুরুত্বপূর্ণ। ভুল পদ্ধতিতে ফলের রস খাওয়ালে তা শিশুর স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতি হতে পারে। এতে যেমন শিশুর ওজন বৃদ্ধি হতে পারে, ঠিক তেমনই বেড়ে যেতে পারে রক্তচাপও।

এ বিষয়ে আমেরিকান জার্নাল অব ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশনে প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্রে লেখা হয়েছে— ফলের রস ভুল পদ্ধতিতে খাওয়ালে তা উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি হয়। সমীক্ষায় দেখা গেছে, যে শিশুদের ফলের রসে চিনি বা মধু মিশিয়ে খাওয়ানো হয় বা সকালে খালি পেটে খাওয়ানো হয়, তাদের ওজন দ্রুত বাড়ে এবং ভবিষ্যতে টাইপ-২ ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকিও থাকে।

ফল গোটা খেলে যতটা ফাইবার শরীরে ঢুকবে, তা ব্লেন্ড করে খেলে ফাইবারের মাত্রা অনেকটাই কমে যাবে। আপেল, আঙুর, পেয়ারা, শসা, স্ট্রবেরিজাতীয় ফলগুলোতে ক্যারোটিনয়েড, ফ্লাভোনয়েড থাকে, যা উপকারী। কিন্তু খোসা ছাড়িয়ে রস করলে এ উপাদানগুলোর পরিমাণ অনেক কমে যায় এবং কমবে ফাইবারের মাত্রাও। ফাইবার যেহেতু কমবে, তাই ফলের প্রাকৃতিক চিনি বা ফ্রুক্টোজ রক্তে মিশলেই তা শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দেবে। কাজেই ছোটদের প্রতিদিন ফলের রস না খাইয়ে, গোটা ফল খাওয়ানোরও অভ্যাস তৈরি করুন। এক গ্লাস রস তৈরি করতে একাধিক ফলের প্রয়োজন হয়। এতগুলো ফলে থাকা ফ্রুক্টোজ লিভারে গিয়ে পৌঁছালে হজমপ্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটায়। ফলে ক্যালোরির মাত্রা বাড়তে থাকে। হজমের সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

আর দীর্ঘক্ষণ খালি পেটে থাকার পর শিশুকে ফলের রস খাওয়ালে তা দ্রুত ইনসুলিনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। নিয়মিত এমনটি করলে শরীরে ‘ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স’ তৈরি হয়, যা পরে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের প্রধান কারণ হয়ে ওঠে।

আর শিশু যদি গোটা ফল খেতে না চায়, তাহলে ফলের রস না ছেঁকে শাঁসসমেতই স্মুদি বানিয়ে দিন। এতে ফাইবারের মাত্রা ঠিক থাকবে। ফলের রস বা ফল দিয়ে তৈরি স্মুদির সঙ্গে কিছুটা টক দই, চিয়া বীজ ও বাদাম বা ড্রাই ফ্রুটস মিশিয়ে দিতে পারেন। এতে ফলের রসের সঙ্গে প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাট মিশে যাবে যা রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়তে দেবে না।

আমেরিকান অ্যাকাডেমি অব পেডিয়াট্রিকসের নির্দেশিকা অনুযায়ী, শিশুর বয়স এক বছরের কম হলে কোনোভাবেই ফলের রস খাওয়ানো যাবে না। ১-৬ বছর বয়সে দিনে আধ গ্লাস বা তারও কম ফলের রস খাওয়াতে পারেন। আর প্যাকেটবন্দি ফলের রস বা ‘নো অ্যাডেড সুগার’ লেখা ফলের রসও শিশুকে দেবেন না। এগুলোতে এমন প্রিজারভেটিভ থাকে, যা শিশুর স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .