Logo
Logo
×
   

ডাক্তার আছেন

ফিট শরীরেও লুকিয়ে থাকতে পারে উচ্চ কোলেস্টেরল

Icon

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৬, ০৬:২৮ পিএম

ফিট শরীরেও লুকিয়ে থাকতে পারে উচ্চ কোলেস্টেরল

ছবি: সংগৃহীত

শারীরিকভাবে স্লিম কিংবা ফিট থাকা মানেই যে কেউ উচ্চ কোলেস্টেরলের ঝুঁকি থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত, এমনটি ভাবার কোনো কারণ নেই বলে সতর্ক করেছেন যুক্তরাজ্যের একজন শীর্ষস্থানীয় হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ। 

শরীরের ওজন বা জীবনযাত্রা যেমনই হোক না কেন, প্রত্যেককে নিয়মিত রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে কোলেস্টেরল পরিমাপের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

লন্ডনের নিউ ভিক্টোরিয়া হাসপাতালের কনসালটেন্ট কার্ডিওলজিস্ট ড. জোয়ে এস্ট্রোলক্স জানান, অনেকের মধ্যেই একটি ভুল ধারণা রয়েছে যে— উচ্চ কোলেস্টেরল কেবল অতিরিক্ত ওজন, বার্ধক্য কিংবা অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের কারণেই হয়ে থাকে। 

তিনি ব্যাখ্যা করেন, উচ্চ কোলেস্টেরল সাধারণত শরীরে কোনো দৃশ্যমান উপসর্গ বা লক্ষণ তৈরি করে না। ফলে বছরের পর বছর ধরে এটি অলক্ষ্যেই রয়ে যায়, যা একে একটি ‘নীরব ঘাতক’ হিসেবে গড়ে তোলে। আর এই অনাবিষ্কৃত ও অনিরাময়যোগ্য উচ্চ কোলেস্টেরল পরবর্তীতে একজন আপাতদৃষ্টে সুস্থ মানুষেরও হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক এবং অন্যান্য হৃদরোগের ঝুঁকি মারাত্মকভাবে বাড়িয়ে দিতে পারে।

ড. এস্ট্রোলক্সের মতে, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা, নিয়মিত ব্যায়াম করা এবং সুষম খাদ্য গ্রহণ করা সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত জরুরি হলেও তা স্বাভাবিক কোলেস্টেরলের মাত্রার শতভাগ নিশ্চয়তা দিতে পারে না। কোনো রকম পূর্ব সতর্কবার্তা ছাড়াই মানুষ বছরের পর বছর এটি শরীরে বয়ে বেড়াতে পারে। তাই নিজের কোলেস্টেরলের সঠিক মাত্রা জানার একমাত্র নির্ভরযোগ্য উপায় হলো রক্ত পরীক্ষা করা। 

বিশেষ করে যাদের পরিবারে উচ্চ কোলেস্টেরল বা হৃদরোগের ইতিহাস রয়েছে, তারা শারীরিকভাবে পুরোপুরি সুস্থ বোধ করলেও তাদের নিয়মিত স্ক্রিনিং বা পরীক্ষা করানো উচিত বলে তিনি জোর দেন।

চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, কোলেস্টেরল হলো এক ধরণের চর্বিযুক্ত উপাদান, যা বিভিন্ন লিপোপ্রোটিনের মাধ্যমে রক্তপ্রবাহে পরিবাহিত হয়। এর মধ্যে লো-ডেন্সিটি লিপোপ্রোটিন, যা সাধারণত খারাপ কোলেস্টেরল নামে পরিচিত, ধমনীর দেয়ালে জমা হয়ে রক্তনালীকে সংকুচিত করে ফেলে। ফলে হৃদপিণ্ড ও মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন বাধাগ্রস্ত হয়। 

অন্যদিকে, হাই-ডেন্সিটি লিপোপ্রোটিন বা ভালো কোলেস্টেরল রক্তপ্রবাহ থেকে অতিরিক্ত কোলেস্টেরল অপসারণ করতে সাহায্য করে। শরীরে এইচডিএল-এর মাত্রা কমে গেলে ক্ষতিকারক কোলেস্টেরল দূর করার ক্ষমতা হ্রাস পায়, যা হৃদরোগের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়।

উদ্ভূত পরিস্থিতি বিবেচনায়, যেকোনো ধরনের অন্তর্নিহিত স্বাস্থ্যঝুঁকি দ্রুত সনাক্তকরণ এবং সময়মতো চিকিৎসার সুবিধার্থে বয়স, শরীরের ওজন বা বাহ্যিক অবয়ব বিবেচনা না করেই সব প্রাপ্তবয়স্ক মানুষকে নির্দিষ্ট সময় পরপর কোলেস্টেরল পরীক্ষা করার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা।

সূত্র: সামা টিভি।


Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .