Logo
Logo
×
   

ডাক্তার আছেন

সন্তান জন্মদানের ক্ষমতা কী কী কারণে কমে যায়?

Icon

যুগান্তর ডেস্ক

প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৬, ০৯:২৭ এএম

সন্তান জন্মদানের ক্ষমতা কী কী কারণে কমে যায়?

আমাদের আজকালকার জীবনে আমাদের মানসিক স্ট্রেস যখন থাকে।  কিন্তু এই স্ট্রেসটা অনেক বেশি হলে আমাদের মাথায় যে হরমোনগুলো হয়, যা থেকে নারীদের ডিম্বাশয় ও পুরুষের শুক্রানুর উপর প্রভাব বিস্তার করে। ওই হরমোনের কারণে পুরুষের শুক্রাণুর ডেভলপমেন্ট হয় আর নারীদের ডিম্বাণুর ডেভলপমেন্ট হয়। কিন্তু মানসিক স্ট্রেসের কারণে অনেক ক্ষেত্রে শুক্রাণু এবং ডিম্বাণুর কোয়ালিটি খারাপ হয়। যার কারণে ওই ব্যক্তির সন্তান জন্মদানের ক্ষমতা কমে যা যায়। এর কারণে বন্ধ্যত্বের হার বেড়ে যাচ্ছে।

এছাড়া খাদ্য অভ্যাস এবং জীবন যাত্রার কারণেও মানুষের সন্তান জন্মদানের ক্ষমতা কমে যা যায়। আমরা অনেক ফাস্ট ফুড খাই। এর প্রভাবেও মানুষের প্রজনন ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। 

লাইফস্টাইলের কারণেও সন্তান জন্মদানের ক্ষমতা কমে যায় বা বন্ধ্যত্বের মাত্রা বেড়ে যায়।  অনেকেই সারাদিন কাজ করেন কিন্তু তা বসে থেকে করেন। যার কারণে কায়িক পরিশ্রম হচ্ছে না।

চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতে, অলস জীবনযাত্রা নারী ও পুরুষ উভয়ের প্রজনন ক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। শারীরিক পরিশ্রম না করলে শরীরে অতিরিক্ত চর্বি জমতে শুরু করে।  স্থূলতা হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে:

১. নারীদের ক্ষেত্রে: শরীরে অতিরিক্ত চর্বি থাকলে 'ইস্ট্রোজেন' হরমোন প্রয়োজনের চেয়ে বেশি তৈরি হয়। এটি ডিম্বস্ফোটন বা ওভুলেশন প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করে।

২. পুরুষদের ক্ষেত্রে: অতিরিক্ত ওজনের কারণে পুরুষ হরমোন 'টেস্টোস্টেরন'-এর মাত্রা কমে যায় এবং নারী হরমোন 'ইস্ট্রোজেন'-এর মাত্রা বেড়ে যায়, যা শুক্রাণু উৎপাদনে ব্যাঘাত ঘটায়।

মানুষের  আমাদের খাদ্যাবাস চেঞ্জ হয়েছে।  আগে যেমন আমরা অনেক বেশি সবজি, শাক এগুলা খেতাম। মাঠে খেলা করতাম, হাঁটাহাটি করতাম। এই জিনিসগুলো কিন্তু চেঞ্জ হয়ে গেছে। এখনকার বাচ্চারা কিন্তু মাঠে খেলে না। ওরা ছোট্ট একটি স্কুল ঘরে পড়াশোনা করে। ওখানে ফাস্ট ফুড খায়। এরা মুটিয়ে যাচ্ছে। কাজেই দেখা যায় যে ওভুলেশনের প্রবলেম হচ্ছে।

পলিসিস্টিক ওভারি সিন্ড্রোম (পিসিওএস)

বর্তমানে নারীদের বন্ধ্যত্বের অন্যতম প্রধান কারণ হলো পিসিওএস। কায়িক পরিশ্রম না করলে শরীরে 'ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স' বা ইনসুলিনের কার্যকারিতা কমে যাওয়ার প্রবণতা বাড়ে। এটি ডিম্বাশয়ে ছোট ছোট সিস্ট তৈরি করে এবং নিয়মিত ডিম্বাণু ফুটতে দেয় না। নিয়মিত হাঁটাচলা ও ব্যায়াম এই ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে আনে।

পিসিওএসের কারণে মাসিক অনিয়মিত হচ্ছে।  যার কারণে বন্ধ্যত্বের আশংকা বাড়ছে। ওই একই জিনিস কাজ করে ছেলেদের শুক্রাণুর উপরে।  কাজেই ছেলেদের ক্ষেত্রে বন্ধ্যত্বের আশংকাও বাড়ছে।

প্লাস্টিকের ব্যবহারের কারণেও প্রজনন ক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছে। আমরা প্লাস্টিক অনেক পরিমাণে প্লাস্টিক ইউজ করছি। এতে অনেক কেমিক্যাল আছে। সেটার কারণেও কিন্তু বন্ধাত্ব সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। প্রাকৃতিক পরিবেশের বদলে পরিবেশ এতে দূষিত হচ্ছে।     

রক্ত সঞ্চালন কমে যাওয়া

শারীরিক নিষ্ক্রিয়তার কারণে শ্রোণী অঞ্চল বা পেলভিক এরিয়াতে রক্ত সঞ্চালন কমে যায়। প্রজনন অঙ্গগুলোতে পর্যাপ্ত রক্ত ও অক্সিজেন না পৌঁছালে ডিম্বাশয় এবং জরায়ুর কার্যক্ষমতা হ্রাস পেতে পারে।

এসব কারণে নারী-পুরুষের দুজনেরই বন্ধ্যত্ব বাড়ছে।

ডা. ফারজানা দীবা

গাইনি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ

সহযোগী অধ্যাপক, গাইনি অ্যান্ড অবস, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .