প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাস যেভাবে বাড়াচ্ছে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ জুলাই ২০২৬, ০৬:০১ পিএম
প্রতীকী ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
দৈনন্দিন খাবারের তালিকায় থাকা সাধারণ কিছু খাবার অজান্তেই বাড়িয়ে দিচ্ছে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি। সম্প্রতি স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা অতিরিক্ত লবণ এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার বর্জন করার জোর তাগিদ দিয়েছেন। মানুষের অসচেতনতার সুযোগেই এই নীরব ঘাতক শরীরে বাসা বাঁধছে বলে সতর্ক করেছেন তারা।
উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশনকে চিকিৎসা বিজ্ঞানে প্রায়শই নীরব ঘাতক হিসেবে অভিহিত করা হয়, কারণ এর প্রাথমিক লক্ষণগুলো সাধারণত সহজে প্রকাশ পায় না। চিকিৎসকদের মতে, উচ্চ রক্তচাপ দীর্ঘদিন অনিয়ন্ত্রিত থাকলে হৃদরোগ, স্ট্রোক, কিডনি রোগ এমনকি দৃষ্টিশক্তির মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রক্রিয়াজাত মাংস, ইনস্ট্যান্ট নুডলস, ক্যানজাত স্যুপ, চিপস, মিষ্টি পানীয় এবং ফাস্টফুডের মতো দৈনন্দিন খাবারগুলো উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। এর মধ্যে সোডিয়াম বা অতিরিক্ত লবণই সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয়। শরীরে অতিরিক্ত সোডিয়াম প্রবেশ করলে পানি জমে যায়, যার ফলে রক্তপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে হৃৎপিণ্ডকে অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হয়।
বর্তমানে মানুষের শরীরে যে পরিমাণ সোডিয়াম প্রবেশ করে, তার সিংহভাগই আসে প্রক্রিয়াজাত ও প্যাকেটজাত খাবার থেকে।
লবণের পাশাপাশি অস্বাস্থ্যকর চর্বি এবং মিষ্টি পানীয়র নেতিবাচক প্রভাবও কম নয়। অতিরিক্ত চিনিযুক্ত পানীয় বা খাবার গ্রহণের ফলে শরীরে অতিরিক্ত মেদ বা ওজন বৃদ্ধি পায়, যা হাইপারটেনশনের একটি অন্যতম প্রধান কারণ। এছাড়া ভাজাপোড়া, পেস্ট্রি, কেক এবং ফাস্টফুডের মতো খাবারে থাকা স্যাচুরেটেড ও ট্রান্স ফ্যাট দীর্ঘমেয়াদে রক্তনালীর ক্ষতি করে এবং রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়।
বিশেষ করে বেকন, সসেজ, হ্যাম, সালামি এবং হট ডগের মতো প্রক্রিয়াজাত মাংসে উচ্চ মাত্রার সোডিয়াম ও প্রিজারভেটিভ থাকে, যা কার্ডিওভাসকুলার বা হৃদরোগের সাথে সরাসরি জড়িত। তাই এসব খাবার পরিহার করে তাজা চর্বিহীন মাংস, মাছ, ডাল এবং চামড়াবিহীন মুরগির মাংস খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন পুষ্টিবিদরা।
উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং সুস্থ হৃদপিণ্ড পেতে সুষম খাদ্যের বিকল্প নেই। ফলমূল, শাকসবজি, গোটা শস্য, লেবুজাতীয় খাবার, বাদাম এবং স্বাস্থ্যকর চর্বিযুক্ত খাবার রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে দারুণ কার্যকর। বিশেষ করে কলা, পালং শাক, টমেটো, আলু এবং শিম জাতীয় খাবারে পর্যাপ্ত পটাশিয়াম থাকে, যা সোডিয়ামের ক্ষতিকর প্রভাব প্রতিহত করতে এবং রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে।
দীর্ঘমেয়াদী হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে এবং হাইপারটেনশন থেকে মুক্ত থাকতে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা প্রসেসড ফুড ও লবণের পরিমাণ কমিয়ে আনার পাশাপাশি মিষ্টি পানীয়র পরিবর্তে বিশুদ্ধ পানি পান করা, নিয়মিত ব্যায়াম করা এবং সঠিক ওজন বজায় রাখার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন।
সূত্র: সামা টিভি।

