শেষ মুহূর্তে জমজমাট যমুনা ফিউচার পার্কে ঈদের কেনাকাটা
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১৬ মার্চ ২০২৬, ১১:৪২ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ শপিংমল যমুনা ফিউচার পার্কে ঈদের কেনাকাটা। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নিজেদের পছন্দের পোশাক সংগ্রহ করছেন সব শ্রেণি-পেশার মানুষ। তাদের আগমনে শীতাতাপ নিয়ন্ত্রিত সুবিশাল এই শপিংমলে গভীর রাত পর্যন্ত বেচাকেনা চলছে। একই ছাদের নিচে দেশি ও আন্তর্জাতিক সব ব্র্যান্ডের পোশাক পেয়ে খুশি ক্রেতারা। অন্য বছরের তুলনায় বিক্রি ভালো হওয়ায় স্বস্তিতে রয়েছেন বিক্রেতারাও।
এদিকে শপিংমলে আসা ক্রেতাদের ঈদের আনন্দ বাড়িয়ে দিতে কোটি টাকার উপহার জেতার সুযোগ করে দিয়েছে যমুনা ফিউচার পার্ক কর্তৃপক্ষ। সর্বনিম্ন দুই হাজার টাকায় যে কোনো পণ্য ক্রয় করে টিভি, ফ্রিজ, ইলেকট্রনিক্স ও ইলেকট্রিকসহ কোটি টাকার উপহার জিতে নিচ্ছেন ক্রেতারা। এই ক্যাম্পেইন চলবে চাঁদরাত পর্যন্ত।
সোমবার সরেজমিন যমুনা ফিউচার পার্কে দেখা যায়, শপিংমলে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। ঈদ সামনে রেখে দেশি ও আন্তর্জাতিক সব পোশাকের ব্র্যান্ডের আউটলেট, জুতার দোকান, শাড়ির দোকান, মোবাইলশপ, কসমেটিকস ও পারফিউমের দোকানে ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। পার্কের মেট্রো ফ্যাশন, হুর, ইনফিনিটি, কে-ক্রাফট, অঞ্জনস, আড়ং, বিগ বস, ফ্রিল্যান্ড, জিন্স অ্যান্ড কোম্পানি, টুয়েলভ, রেড, জেন্টল পার্ক, টিন’স ক্লাব, প্লাস পয়েন্ট, কান্ট্রি বয়, রেঞ্জ, সিক্স লাইফ স্টাইল, লা রিভ, আর্টিসান, টপ টেন মার্ট পোশাকের ব্র্যান্ড ও শপগুলোতে সব বয়সের ক্রেতাদের সমাগম দেখা গেছে। অনেকেই সকালে বা দুপুরে এসে মধ্যে রাত পর্যন্ত কেনাকাটা করেছেন। মাঝখানে ইফতার সেরেছেন যমুনা ফিউচার পার্কের ফুড কোর্টে।

রাজধানীর নিকুঞ্জ এলাকা থেকে আসা ফারজিয়া যুগান্তরকে বলেন, আমি প্রতি বছর ঈদে যমুনা ফিউচার পার্ক থেকে ঈদের কেনাকাটা শেষ করি। কারণ অন্য যে কোনো জায়গা থেকে এখানে ঈদের কেনাকাটায় স্বস্তি পাওয়া যায়। এছাড়া আমি কেনাকাটা করে উপহার হিসাবে ইলেকট্রিক পণ্য জিতেছি। এটা পেয়ে বাড়তি আনন্দ পেয়েছি।
যাত্রাবাড়ী থেকে আসা সিনথিয়া বলেন, অনলাইনের যুগে সহজে ভালো পোশাক পাওয়া অনেক কঠিন। কিন্তু যমুনা ফিউচার পার্কে সব সময় ভালো কিছু পাওয়া যায়। শপিংমলে একদিকে যেমন সবকিছু পাওয়া যায়, অন্যদিকে দামও তুলনামূলক অনেক কম। তাই এখান থেকে ঈদের সব কেনাকাটা শেষ করলাম।
শপিংমলের টেক্সমার্ট আউটলেটের ম্যানেজার মিজানুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, প্রতি বছর ঈদে পণ্য বিক্রিতে আমাদের একটি লক্ষ্যমাত্রা থাকে। এবার নির্ধারিত সময়ের আগেই আমাদের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়েছে। কারণ এবার ক্রেতাদের ভিড় অনেক বেশি। আশা করি চাঁদরাত পর্যন্ত ক্রেতারা আসবেন ও নিজেদের পছন্দের পোশাক সংগ্রহ করবেন।
এদিকে দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ শপিংমল যমুনা ফিউচার পার্কে ঈদ কেনাকাটায় আকর্ষণীয় ক্যাম্পেইন ‘কোটি টাকার ঈদ উপহার’ আয়োজন করেছে স্বনামধন্য শিল্পগোষ্ঠী যমুনা গ্রুপ। শপিংমলের যে কোনো শোরুম থেকে সর্বনিম্ন দুই হাজার টাকার কেনাকাটা করলেই থাকছে টিভি, ফ্রিজ, ইলেকট্রনিক্স ও ইলেকট্রিকসহ নানা ধরনের পণ্য। এই ক্যাম্পেইন চলবে চাঁদরাত পর্যন্ত। ক্রেতারা যেন সহজে উপহার পেতে পারেন-সেজন্য শপিংমলের সেন্টার কোর্টে গিফটের পৃথক বুথ করা হয়েছে। পণ্য ক্রয়ের রসিদ নিয়ে সেখানে থাকা কিউআর কোডে গিয়ে তথ্য দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্রেতা উপহার জিতলে বুথ থেকে সংগ্রহ করতে পারছেন।
সর্বশেষ সোমবারও আসা ক্রেতারা কেনাকাটা করে শপিংমল থেকে টিভি, ইলেকট্রনিক্স, ইলেকট্রিক, রাইস কুকার, ড্রাই আয়রনসহ নানা ধরনের পণ্য জিতে নিয়েছেন। এর মধ্যে লন্ডন গ্যালারি থেকে আবির আহমেদ, সেইলর থেকে রাদিয়া নওশিন, টেক্সট মার্ট থেকে তালহা, মারুনড থেকে মাসুদ, ফিক্স প্রো থেকে বাতেন, ইনফিনিটি থেকে শাহরিয়ার সিফাত, ইলিয়েন থেকে সাজিদ, আলোড়ন থেকে শরিফুল ইসলাম, ওয়ান বাই ওয়ান সুজ থেকে রনি মোল্লা, মোবাইল লাইফ থেকে ওমর ফারুক, লারিভ থেকে মুরাদ, আর্টিসান থেকে দেলোয়ার, নবরুপা থেকে মাহফুজ, ব্র্যাক থেকে মিঠুন, লন্ডন গ্যালারি থেকে আলামীন, অ্যাপ্যাক্স থেকে সুমন, ইয়েলো থেকে সিয়াম, বিডি বাজেট বিউটি থেকে রায়হান রিফাত, ইনফিনিটি থেকে জাওয়াদ, ইলিয়েন থেকে মনিরুল, লন্ডন গ্যালারি থেকে সাইফুল খান, প্রসিডেন্ট পয়েন্ট থেকে মাহমুদ হাসান, অ্যাপ্যাল ক্লাব থেকে রাব্বি, ড্যাজেল থেকে রবিউল, বিট থেকে মামুন, চায়না বেস্ট থেকে উর্মি আফসা, টপ গিয়ার বিডি থেকে সুজন, থাই মার্ট থেকে শিপু ব্যাপারী, অ্যাপ্যল গ্যাজেট থেকে সাইদ ইব্রাহীম। রমজানের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত অসংখ্য মানুষ এই শপিংমল থেকে ঈদের কেনাকাটা করে কোটি টাকার ঈদ উপহার জিতে নিয়েছেন।
