ইরানে সংস্কারপন্থি রাজনীতিবিদসহ গ্রেফতার ৪
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০১:২১ পিএম
ইরানে প্রভাবশালী সংস্কারপন্থি নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে উস্কানি দেওয়া এবং ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে কাজ করার অভিযোগে দেশটির চারজন প্রভাবশালী সংস্কারপন্থি নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গ্রেফতারদের মধ্যে রয়েছেন ইরানের রিফর্ম ফ্রন্টের প্রধান আজর মনসুরি, সাবেক কূটনীতিক মোহসেন আমিনজাদেহ এবং সাবেক সংসদ সদস্য ইব্রাহিম আসগারজাদেহ। চতুর্থ ব্যক্তির নাম এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) ইরানের বিচার বিভাগীয় বার্তা সংস্থা মিজান নিউজ জানিয়েছে, দেশ যখন ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হুমকির মুখে রয়েছে, তখন এই ব্যক্তিরা রাজনৈতিক ও সামাজিক শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার অপচেষ্টা চালিয়েছেন।
ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) আজর মনসুরিকে তার বাড়ির সামনে থেকে গ্রেফতার করে। এছাড়া সংগঠনের আরও বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতাকে তলব করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, গ্রেফতারকৃতরা রাজপথের ‘সন্ত্রাসীদের’ কর্মকাণ্ডকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।
উল্লেখ্য, গত জানুয়ারিতে অর্থনৈতিক সংকটের জেরে তেহরানে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দ্রুত দেশজুড়ে সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। এই সহিংসতায় সরকারের হিসেবে ৩,১১৭ জন নিহত হলেও মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই সংখ্যা দ্বিগুণ বলে দাবি করছে। সরকার বরাবরই এই অস্থিরতার পেছনে বিদেশি ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে আসছে।
গ্রেফতার হওয়া নেতাদের মধ্যে মোহসেন আমিনজাদেহ সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ খাতামির আমলে উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। অন্যদিকে ইব্রাহিম আসগারজাদেহ ১৯৭৯ সালে মার্কিন দূতাবাসে হামলার অন্যতম ছাত্রনেতা ছিলেন।
বিশ্লেষকদের মতে, সংস্কারপন্থীদের গ্রেপ্তার করে ইরানের বর্তমান প্রশাসন ভিন্নমতাবলম্বীদের কঠোর বার্তা দিচ্ছে যে, শাসনের বিরুদ্ধে যেকোনো চ্যালেঞ্জ তারা ‘লৌহ হস্ত’ দিয়ে দমন করবে। জর্জ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক সিনা আজোদি মনে করেন, এই পদক্ষেপ রাজনৈতিক উদারীকরণের সব পথ বন্ধ করার একটি সংকেত।
এমন এক সময়ে এই ধরপাকড় চলছে যখন ওমানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এই আলোচনাকে ‘এক ধাপ অগ্রগতি’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং সংলাপ চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তবে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার উত্তেজনা এখনো চরম পর্যায়ে রয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিক্ষোভকারীদের ওপর বলপ্রয়োগের বিরুদ্ধে ইরানকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। এদিকে, ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু শীঘ্রই ওয়াশিংটন সফরে যাচ্ছেন, যেখানে তিনি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা সম্পূর্ণ বন্ধের দাবি তুলবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্র: আল জাজিরা।

