Logo
Logo
×
   

আন্তর্জাতিক

পশ্চিমতীরে ১ হাজারের বেশি অবৈধ বসতি নির্মাণ করছে ইসরাইল

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৬, ০২:২৯ পিএম

পশ্চিমতীরে ১ হাজারের বেশি অবৈধ বসতি নির্মাণ করছে ইসরাইল

পরিকল্পনার আওতায় মোট ১ হাজার ২৪টি নতুন বসতি নির্মাণের প্রস্তাব রয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

অধিকৃত পশ্চিমতীরে নতুন করে  এক হাজার ২৪টি অবৈধ বসতি (সেটেলমেন্ট) নির্মাণের পরিকল্পনা করছে ইসরাইল। এসব বসতি ফিলিস্তিনিদের এক হাজার ৬৯ ডুনামেরও বেশি (প্রায় এক হাজার ২৬৪ একর) জমিতে নির্মাণ করা হবে। ফিলিস্তিনের কলোনাইজেশন অ্যান্ড ওয়াল রেজিস্ট্যান্স কমিশন এ তথ্য জানিয়েছে। 

শুক্রবার (১৭ জুলাই) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে কমিশন জানায়, অধিকৃত পশ্চিমতীরে বাস্তবিক অর্থে দখল (ডি ফ্যাক্টো অ্যানেক্সেশন) আরও শক্তিশালী করা এবং বসতি সম্প্রসারণের লক্ষ্যেই ইসরাইল দ্রুতগতিতে এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।

কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ইসরাইলের সিভিল অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের অধীনস্থ হায়ার প্ল্যানিং কাউন্সিল জুলাই মাসের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত নয়টি বসতি নির্মাণ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেছে। এর মধ্যে কিছু পরিকল্পনা অনুমোদনের এবং কিছু সংরক্ষিত (ডিপোজিট) পর্যায়ে রয়েছে।

এসব পরিকল্পনার আওতায় মোট এক হাজার ২৪টি নতুন বসতি নির্মাণের প্রস্তাব রয়েছে। এর মধ্যে ৪৫৫টি ইউনিট অনুমোদন পেয়েছে এবং আরও ৫৬৯টি ইউনিট পরবর্তী পরিকল্পনা প্রক্রিয়ার জন্য জমা রাখা হয়েছে।


কমিশনের দাবি, এটি একটি সুশৃঙ্খল ও ধারাবাহিক নীতির অংশ, যার মাধ্যমে পূর্ব জেরুজালেমসহ অধিকৃত পশ্চিমতীরে বিদ্যমান বসতিগুলোকে আরও সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।  পাশাপাশি নতুন বসতি স্থাপনকারীদের জন্য আবাসনের ঘনত্বও বাড়ানো হচ্ছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, নতুন বসতি গড়ার পরিবর্তে বর্তমানে ইসরাইল বিদ্যমান বসতিগুলোর পরিধি বাড়ানোর দিকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। এ জন্য নির্মাণ পরিকল্পনা, ভূমি ব্যবহার এবং জোনিং নীতিতে পরিবর্তন এনে বসতির ঘনত্ব বাড়ানো হচ্ছে।

প্রকল্পগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো জেনিনের দক্ষিণে আররাবা শহরের ফিলিস্তিনের জমিতে নির্মিত মেভো দোতান বসতি সম্প্রসারণ। সেখানে প্রায় ৫৩৯ ডুনাম জমিতে আরও ৪৫৫টি নতুন বসতি নির্মাণের পরিকল্পনা অনুমোদন করা হয়েছে।

এ ছাড়া দক্ষিণ-পশ্চিমতীরের হেবরন গভর্নরেটে অবস্থিত বেইত হাগাই ও আসায়েল বসতি সম্প্রসারণের জন্য আরও দুটি পরিকল্পনা জমা দেওয়া হয়েছে। এসব প্রকল্পে ৫১৯ ডুনামের বেশি জমিতে আরও ৫৬৯টি বসতি নির্মাণের প্রস্তাব রয়েছে।


কমিশনের ভাষ্য, বসতি নির্মাণ পরিকল্পনা এখন এমন একটি সমন্বিত ব্যবস্থায় পরিণত হয়েছে, যার মাধ্যমে ফিলিস্তিনের ভৌগোলিক বাস্তবতা পরিবর্তন করা হচ্ছে। একদিকে বসতিগুলোকে ইসরাইলি অবকাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে, অন্যদিকে ফিলিস্তিনিদের নগর উন্নয়নের সুযোগ সীমিত করা হচ্ছে। কমিশনের মতে, এটি অধিকৃত ফিলিস্তিন ভূখণ্ডকে কার্যত ইসরাইলের সঙ্গে একীভূত করার নীতিরই অংশ।

জাতিসংঘ বারবার বলেছে, অধিকৃত ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে ইসরাইলি বসতি নির্মাণ আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন। সংস্থাটির মতে, এসব বসতি স্বাধীন ফিলিস্তিন ও ইসরাইল—এই দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের সম্ভাবনাকে দুর্বল করে দিচ্ছে।

তথ্যসূত্র: আনাদোলু

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম