কিশোরদের জন্য সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারে কঠোর হচ্ছে ভিয়েতনাম
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৬, ১২:৫৬ পিএম
শুধু সামাজিক মাধ্যম নয়, অনলাইন গেমেও শিশুদের জন্য নতুন বিধিনিষেধ আনার প্রস্তাব করা হয়েছে।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
১৬ বছরের কম বয়সি শিশু-কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা, মন্তব্য করা বা অন্যের পোস্টে প্রতিক্রিয়া (রিঅ্যাক্ট) জানানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরিকল্পনা করছে ভিয়েতনাম। শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা জোরদারে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উদ্যোগের সঙ্গে তাল মিলিয়েই এ পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে দেশটি।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের হাতে আসা একটি খসড়া ডিক্রিতে বলা হয়েছে, ১৬ বছরের কম বয়সিদের সামাজিক মাধ্যমের অ্যাকাউন্ট অবশ্যই তাদের বাবা-মা বা আইনগত অভিভাবকের তথ্য দিয়ে নিবন্ধন করতে হবে। একই সঙ্গে সন্তানের কী ধরনের কনটেন্ট দেখা হচ্ছে এবং তারা কত সময় সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করছে, সে বিষয়েও অভিভাবকদের দায়িত্ব নিতে হবে।
খসড়া নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, সামাজিক মাধ্যম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা ব্যবহার করে শিশু ব্যবহারকারীদের শনাক্ত করতে হবে এবং তাদের বয়স উপযোগী কনটেন্ট প্রদর্শনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি শিশুদের অ্যাকাউন্টে সর্বোচ্চ পর্যায়ের গোপনীয়তা সুরক্ষা দিতে হবে।
এছাড়া সহিংসতা, পর্নোগ্রাফি, জুয়া, মাদক, আত্মহত্যা বা অন্যান্য ক্ষতিকর কনটেন্ট শনাক্ত করে শিশুদের জন্য সেগুলোতে প্রবেশ বন্ধ বা সতর্কবার্তা দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখতে হবে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) ভিয়েতনামের উপ-সংস্কৃতিমন্ত্রী ফান তাম বলেন, শিশুদের সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা আমাদের উদ্দেশ্য নয়। বরং তারা যেন বয়স উপযোগী ও নিরাপদ পরিবেশে এসব প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করতে পারে, সেটিই নিশ্চিত করতে চাই।
শুধু সামাজিক মাধ্যম নয়, অনলাইন গেমেও শিশুদের জন্য নতুন বিধিনিষেধ আনার প্রস্তাব করা হয়েছে। খসড়া অনুযায়ী, গেম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যবহারকারীর বয়স যাচাই করতে হবে এবং ১৬ বছরের কম বয়সিদের অ্যাকাউন্ট অভিভাবকের তথ্য দিয়ে নিবন্ধন করতে হবে। একই প্রতিষ্ঠানের গেমে একজন শিশুকে দিনে সর্বোচ্চ ৬০ মিনিট খেলার সুযোগ দেওয়া হবে।
বিশ্বজুড়ে শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য ও অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকায় একের পর এক দেশ নতুন আইন প্রণয়ন করছে। সম্প্রতি ফ্রান্স ১৫ বছরের কম বয়সিদের সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা অনুমোদন করেছে। এর আগে অস্ট্রেলিয়া এ ধরনের আইন কার্যকর করে।
তবে ভিয়েতনামের প্রস্তাবিত ডিক্রিটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। সরকার এটি অনুমোদনের আগে খসড়ায় পরিবর্তন আনতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স
