হিজবুল্লাহকে সহায়তার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত সালমান রুশদির হামলাকারী
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২৬, ০২:৩৭ পিএম
ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ–মার্কিন লেখক সালমান রুশদি ও তার ওপর হামলাকারী হাদি মাতার। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ–মার্কিন লেখক সালমান রুশদিকে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় অভিযুক্ত হাদি মাতার এবার যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালতে সন্ত্রাসবাদ-সংক্রান্ত সব অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহকে সহায়তার চেষ্টা, আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকা এবং সন্ত্রাসীদের সহায়তা দেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।
স্থানীয় সময় বুধবার (২৯ জুলাই) নিউইয়র্কের বাফেলোর একটি ফেডারেল জুরি মাত্র দুই ঘণ্টার আলোচনা শেষে ২৮ বছর বয়সি হাদি মাতারকে দোষী ঘোষণা করে।
এর আগে অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের আদালতে হত্যাচেষ্টার মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে ২৫ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন মাতার। নতুন এই ফেডারেল মামলায় আগামী ৩ নভেম্বর তার সাজা ঘোষণা করা হবে। এতে তার সর্বোচ্চ শাস্তি হতে পারে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।
মামলার শুনানি গত সপ্তাহে শুরু হয়। এতে ৭৯ বছর বয়সি সালমান রুশদিও সাক্ষ্য দেন। তবে আত্মপক্ষ সমর্থনে হাদি মাতার বা তার পক্ষে অন্য কোনো সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দেননি।
‘দ্য স্যাটানিক ভার্সেস’ ঘিরে দীর্ঘদিনের হুমকি
১৯৮৮ সালে প্রকাশিত রুশদির বিতর্কিত উপন্যাস ‘দ্য স্যাটানিক ভার্সেস’ প্রকাশের পর থেকেই তিনি প্রাণনাশের হুমকির মুখে ছিলেন।
আদালতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, হামলার আগে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির জারি করা ফতোয়া নিয়ে গবেষণা করেছিলেন হাদি মাতার। এরপর ২০২২ সালের ১২ আগস্ট নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের শাটাকোয়া ইনস্টিটিউশনে এক আলোচনা অনুষ্ঠানের মঞ্চে উঠে রুশদির ওপর ছুরি নিয়ে হামলা চালান।
হামলায় রুশদিকে মাথা, ঘাড়, শরীর ও বাম হাতে এক ডজনেরও বেশি ছুরিকাঘাত করা হয়। এতে তিনি ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি হারান এবং শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গেও গুরুতর আঘাত পান। এ ঘটনায় আরও একজন আহত হন।
হামলার পর উপস্থিত দর্শকরা দ্রুত মঞ্চে উঠে হামলাকারীকে আটক করেন।
ভারত থেকে যুক্তরাষ্ট্র
যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া হাদি মাতারের লেবাননের নাগরিকত্বও রয়েছে। তিনি নিউ জার্সির ফেয়ারভিউ এলাকায় বসবাস করতেন।
অন্যদিকে, ভারতের একটি মুসলিম কাশ্মীরি পরিবারে জন্ম নেওয়া সালমান রুশদি পরে ব্রিটিশ ও মার্কিন নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন। খোমেনির ফতোয়ার পর ১৯৯০-এর দশকের বেশির ভাগ সময় তিনি ব্রিটিশ পুলিশের নিরাপত্তায় আত্মগোপনে ছিলেন। পরে তিনি নিউইয়র্কে বসবাস শুরু করেন এবং ধীরে ধীরে জনসমক্ষে উপস্থিতি বাড়ান।
তথ্যসূত্র: সামা টিভি


