Logo
Logo
×
   

আন্তর্জাতিক

জোড়াফুল প্রতীক হারালে কী করবেন মমতা?

Icon

কলকাতা প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০২ আগস্ট ২০২৬, ০৮:০৭ পিএম

জোড়াফুল প্রতীক হারালে কী করবেন মমতা?

ছবি: সংগৃহীত

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীক নিয়ে অনিশ্চয়তা ঘিরে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। দলীয় বিভাজনের জেরে নির্বাচন কমিশনের সামনে নিজেদেরই প্রকৃত তৃণমূল কংগ্রেস দাবি করে পৃথকভাবে আবেদন করেছে কালীঘাটপন্থী এবং ঋতব্রত শিবির। এই পরিস্থিতিতে জোড়াফুল প্রতীক হাতছাড়া হলে বিকল্প প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী লড়াইয়ে নামার প্রস্তুতি শুরু করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি প্রতীক ধরে রাখতে আইনি লড়াইয়ের পথেও এগোতে প্রস্তুত তার শিবির।

দলীয় সূত্রের দাবি, প্রতীক পরিবর্তনের প্রয়োজন দেখা দিলে নতুন কোনো ফুলকে নির্বাচনী প্রতীক হিসেবে বেছে নেওয়ার চিন্তাভাবনা চলছে। তবে একই সঙ্গে জোড়াফুল প্রতীক ধরে রাখতে সব ধরনের সাংবিধানিক ও আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতিও রাখা হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর আগেই প্রকাশ্যে জানিয়েছিলেন, প্রতীক হারালেও তিনি থেমে থাকবেন না। নতুন প্রতীক নিয়েই জনগণের কাছে যাবেন। এবার তার ঘনিষ্ঠ মহল থেকে ইঙ্গিত মিলছে, সেই বিকল্প পরিকল্পনা অনেকটাই প্রস্তুত।

তৃণমূলের কালীঘাট শিবিরের অন্যতম মুখ কুণাল ঘোষ বলেছেন, তৃণমূল কংগ্রেস মানেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মানেই তৃণমূল কংগ্রেস। তার ভাষায়, দল সব পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত। প্রতীক একটি আনুষ্ঠানিক বিষয় হলেও মানুষের কাছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই দলের সবচেয়ে বড় পরিচয়।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, একটি রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী প্রতীক শুধু ভোটের চিহ্ন নয়, সেটি দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক পরিচয় ও ভোটারদের আবেগেরও প্রতীক। গত প্রায় তিন দশকে জোড়াফুল প্রতীক তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে এমনভাবে জড়িয়ে গেছে যে সেটি দলের রাজনৈতিক পরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে।

১৯৯৭ সালে দল প্রতিষ্ঠার সময় ঘাসের ওপর জোড়াফুল প্রতীক গ্রহণ করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই প্রতীক নিয়েই তিনি দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম করেছেন এবং পরবর্তীতে টানা তিন দফা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন। ফলে প্রতীক নিয়ে যে কোনো সিদ্ধান্ত রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

এদিকে নির্বাচন কমিশন উভয় পক্ষের কাছেই দলীয় সাংগঠনিক ও আইনগত নথি জমা দিতে বলেছে। কালীঘাটপন্থী শিবির ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়েছে বলে দাবি করেছে। তবে ঋতব্রত শিবির এখনও সব নথি জমা দেয়নি বলে জানা গেছে।

ভারতের নির্বাচন কমিশনের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, কোনো স্বীকৃত রাজনৈতিক দল বিভক্ত হলে দলটির নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সমর্থন এবং সাংগঠনিক কাঠামোর সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন যে অংশের পক্ষে থাকবে, সাধারণত সেই অংশই দলীয় নাম ও প্রতীকের দাবিতে অগ্রাধিকার পায়।

তৃণমূলের জ্যেষ্ঠ নেতা ও সাংসদ সৌগত রায় কমিশনের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, তাদের পক্ষকে সাত দিনের মধ্যে নথি জমা দিতে বলা হলেও অপর পক্ষকে একাধিকবার অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়েছে। তার মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কমিশনের নির্দেশ মেনে সব নথি জমা দিয়েছেন। এখন দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব।

জোড়াফুল প্রতীক হারানোর সম্ভাবনা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে সৌগত রায় বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সব ধরনের পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকেন। এ বিষয়েও তিনি প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবেন। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে প্রতীক নিয়ে জল্পনা আরও বাড়তে পারে। যদি প্রতীক নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তি না হয়, তাহলে বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ানোর সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

পশ্চিমবঙ্গে আগামী রাজনৈতিক লড়াইয়ের আগে তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ এই বিরোধ রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এখন সবার নজর নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত এবং তার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার দিকে।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .