Logo
Logo
×
   

আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ অবসানে মধ্যস্থতায় বড় ‘অগ্রগতি’র কথা জানাল কাতার

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ০৫ আগস্ট ২০২৬, ০১:৫০ এএম

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ অবসানে মধ্যস্থতায় বড় ‘অগ্রগতি’র কথা জানাল কাতার

সংগৃহীত ছবি

কাতার জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধ অবসানের প্রচেষ্টায় মধ্যস্থতাকারীরা অগ্রগতি অর্জন করেছেন। এর ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমেছে। যদিও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে ইতিমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে, তবে তেহরান তা অস্বীকার করেছে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) কাতারের এমন মন্তব্যের পর বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৫ শতাংশেরও বেশি কমে যায়। অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু করার বিষয়ে শিগগিরই একটি সমঝোতা হতে পারে—এমন আশায় সোমবারও তেলের দামে বড় ধরনের পতন দেখা গিয়েছিল। তবে আপাতত প্রণালিটি কার্যত বন্ধই রয়েছে এবং এটি পার হওয়ার সময় আরেকটি জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে।

কাতারের আমিরি দিওয়ান (আমিরের কার্যালয়) জানিয়েছে, মঙ্গলবার এক ফোনালাপে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানি ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার দূরত্ব কমানো এবং একটি স্থায়ী সমাধানের সম্ভাবনা বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা করেছেন।

কার্যালয়টি আরও জানায়, জুনের মাঝামাঝি সময়ে স্বাক্ষরিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারকের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন কাতারের আমির। ওই সমঝোতায় অবিলম্বে সব ধরনের সামরিক অভিযান বন্ধ করার কথা বলা হয়েছিল। এছাড়া তিনি সংলাপের ওপরও জোর দিয়েছেন।

গত সোমবার ট্রাম্প বলেছিলেন যে তেহরানের সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়েছে এবং একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে ইরানের সামনে এটিই ‘শেষ সুযোগ’। অন্যদিকে ইরানি কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের কোনো আলোচনা হচ্ছে না।

এর আগে, সপ্তাহান্তে ইরানে ‘বড় ধরনের হামলা’র পরিকল্পনা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেন ট্রাম্প। এরপরই সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই মন্তব্য সামনে এল। এটি মূলত ট্রাম্পের সেই পুরোনো কৌশলেরই অংশ, যেখানে তিনি বড় ধরনের সামরিক হামলার হুমকি দেওয়ার পর তা থেকে পিছিয়ে এসে কূটনৈতিক যোগাযোগের কথা বলেন।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে ট্রানজিট বা জাহাজ চলাচলের বিষয়ে ওমানের সঙ্গে আলোচনা ইতিবাচক ও চলমান রয়েছে। নিরাপদ নৌপথ প্রতিষ্ঠার ওপরই এই আলোচনায় জোর দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ইরান ও ওমান উভয় দেশের সার্বভৌম অধিকার এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই নৌপথ নিয়ে আলোচনা চলছে।

যুক্তরাষ্ট্রের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারাও এ বিষয়ে আশাবাদী সুর তুলেছেন। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও—উভয়েই হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয়ে আলোচনায় অগ্রগতির ইঙ্গিত দিয়েছেন। সাধারণত বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়।

সাংবাদিকদের রুবিও বলেন, আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে, তবে তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। আমরা আশা করছি খুব শিগগিরই এটি চূড়ান্ত হবে। 

অন্যদিকে অর্থমন্ত্রী বেসেন্ট জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে মঙ্গল বা বুধবারের মধ্যেই ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছানো যেতে পারে।

সূত্র: রয়টার্স

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .