Logo
Logo
×
   

আন্তর্জাতিক

জাপানে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার জবাবে কড়া হুঁশিয়ারি উত্তর কোরিয়ার

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ০৫ আগস্ট ২০২৬, ০৪:২২ পিএম

জাপানে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার জবাবে কড়া হুঁশিয়ারি উত্তর কোরিয়ার

উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের বোন কিম ইয়ো জং। ছবি: সংগৃহীত

জাপান সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালানোর পর উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের বোন কিম ইয়ো জং কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, জাপান যেভাবে সামরিক শক্তিতে রূপান্তরিত হচ্ছে, তার জবাবে পিয়ংইয়ংও ‘অতিরিক্ত সামরিক পদক্ষেপ’ গ্রহণ করবে। খবর আল আরাবিয়ার। 

উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ-তে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে কিম ইয়ো জং অভিযোগ করেন, জাপান আত্মরক্ষামূলক অবস্থান থেকে সরে গিয়ে তাদের সশস্ত্র বাহিনীকে আত্মঘাতী হামলা ও দেশের বাইরে সামরিক অভিযান পরিচালনায় সক্ষম একটি শক্তিতে রূপান্তর করছে। 

বিবৃতিতে তিনি প্রশান্ত মহাসাগরে জাপানের অ্যাজিস যুদ্ধজাহাজ ‘চোকাই’ থেকে চালানো সাম্প্রতিক টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা, অন্যান্য ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ এবং মে মাসে ফিলিপাইনে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত যৌথ সামরিক মহড়ায় জাপানের অংশগ্রহণের বিষয়টি তুলে ধরেন।

কিম হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, উত্তর কোরিয়া এমনভাবে এর জবাব দেবে যাতে জাপান অনুভব করতে পারে যে তাদের নিরাপত্তা এখন আরও বড় ধরনের ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে টোকিওর উদ্দেশ্যে দেওয়া তীব্রতম বক্তব্যের একটিতে তিনি বলেন, ‘তাদের এই কাজের জন্য আমরা অনুশোচনা করাব।’ 

যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র সমালোচনা করে কিম বলেন, টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ, সামরিক জাহাজ পরিবর্তন এবং ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষায় সহায়তা করে ওয়াশিংটনই জাপানের সামরিক শক্তি বৃদ্ধিতে ইন্ধন দিচ্ছে। 

তিনি যোগ করেন, ‘জাপানের এসব বিপজ্জনক সামরিক পদক্ষেপের পেছনে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।’ 

উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতাসীন দলের রেকর্ড-কিপিং বিভাগের প্রধান কিম আরও উল্লেখ করেন, জাপানের দীর্ঘ পাল্লার আঘাত হানার সক্ষমতা অর্জন কার্যত উত্তর কোরিয়া এবং প্রতিবেশী দেশগুলোকে তাদের আক্রমণের আওতায় নিয়ে এসেছে। উত্তর কোরিয়ার নিরাপত্তার জন্য সম্ভাব্য হুমকি সৃষ্টিকারী জাপানের সামরিক তৎপরতা মোকাবিলায় পিয়ংইয়ং অতিরিক্ত সামরিক পথ উন্মুক্ত করবে বলে তিনি জানান, যদিও বিস্তারিত পদক্ষেপের বিষয়ে কিছু স্পষ্ট করেননি তিনি। 

কিম ইয়ো জংয়ের এই বিবৃতিটি যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা নিয়ে উত্তর কোরিয়ার ধারাবাহিক সমালোচনারই একটি অংশ। গত জুলাই মাস থেকে কেসিএনএ অন্তত ছয়টি সম্পাদকীয় ও মতামত প্রকাশ করে এই যৌথ সামরিক কর্মকাণ্ডকে আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি এবং কোরীয় উপদ্বীপে উত্তেজনা সৃষ্টিকারী বলে আখ্যা দিয়েছে। 

বিশ্লেষকদের মতে, পিয়ংইয়ং নিজেদের অস্ত্র বিকাশ ও কার্যক্রমকে বৈধতা দিতেই জাপানের সামরিক আধুনিকায়নকে প্রত্যক্ষ নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে। 

সিউলের ইউনিভার্সিটি অব নর্থ কোরিয়ান স্টাডিজের অধ্যাপক ইয়াং মু-জিন জানান, কিমের এই বক্তব্য মূলত টোকিওর পদক্ষেপগুলোকে উত্তর কোরিয়াকে প্রতিহত করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের একটি বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে উপস্থাপন করার প্রয়াস। 

অন্যদিকে, কিউংনাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার ইস্টার্ন স্টাডিজ ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক লিম উল-চুল মনে করেন, এই বার্তাটি ভবিষ্যতে উত্তর কোরিয়ার সম্ভাব্য সামরিক প্রদর্শনী—যেমন ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা বা পানির নিচের সামরিক সক্ষমতা প্রকাশের ভিত্তি তৈরি করতে পারে। 

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .