ইন্দোনেশিয়ায় দুই সপ্তাহব্যাপী বানরের তাণ্ডব, ৪০ স্কুল বন্ধ
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ আগস্ট ২০২৬, ০৫:০৪ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপে এলোপাতাড়ি আক্রমণ চালিয়ে ১৮ জনকে আহত করা হয়েছে। প্রাণীটির আতঙ্কে সেখানকার কয়েক ডজন স্কুল বন্ধ করে দিতে হয়েছে। তবে শেষমেষ বানরটির দুই সপ্তাহের তাণ্ডবের অবসান ঘটিয়েছেন প্রাণী ফাঁদ-পাতাকারীরা।
জিও নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টেম্বিলাহান শহরের ১৮ জন বাসিন্দাকে কামড়ে ও আঁচড়ে আহত করেছে প্রাণীটি। এটি একটি পূর্ণবয়স্ক লম্বা-লেজযুক্ত ম্যাকাক প্রজাতির বানর। আক্রান্তদের বেশিরভাগই একা থাকার সময় বানরটির লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে শিশু ও বৃদ্ধরাও রয়েছেন।
টেম্বিলাহান ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ সার্ভিসের প্রধান জুনাইদি ইসমাইল শুক্রবার এএফপিকে বলেন, ‘আজ পর্যন্ত ১৯টি হামলার ঘটনা ঘটেছে, যার শিকার হয়েছেন ১৮ জন। একজনকে দুবার আক্রমণ করা হয়েছে।’
আহতদের কারো কারো এক ডজনেরও বেশি সেলাই লেগেছে এবং জলাতঙ্কের টিকা নিতে হয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাতে শহরে পাতা একটি ফাঁদে বানরটিকে ধরা হয়। শুক্রবার রেসকিউ সার্ভিসের প্রকাশিত একটি ভিডিওতে বানরটিকে খাঁচার ভেতর জীবিত কিন্তু দৃশ্যত ভীত ও উদ্বিগ্ন অবস্থায় দেখা যায়।
শহরের কর্মকর্তা আরি সায়ুরিয়া বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন, কারণ বানরটি কোনো দলের অংশ হিসেবেও কাজ করতে পারে।
এক ইনস্টাগ্রাম পোস্টে আরি বলেন, উদ্বেগের বিষয় হলো, মানুষের ওপর হামলাকারী আরও বানর থাকতে পারে।
শুক্রবার ৪০টি স্কুল বন্ধ ছিল এবং টেম্বিলাহানের শত শত শিক্ষার্থীর জন্য তিন দিনের অনলাইন ক্লাসের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
স্থানীয় সরকার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিরাপদ মনে হলে আগামী সোমবার স্কুলগুলোর দরজা ফের খুলে দেওয়া হবে।
বানরটিকে সুমাত্রার রিয়াউ প্রদেশের রাজধানী পেকানবারুতে স্থানান্তর করা হয়েছে। সেখানে প্রকৃতি সংরক্ষণ সংস্থা প্রাণীটির রক্ত ও অন্যান্য শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাবে।
সংস্থাটির কর্মকর্তা উজাং হোলিসুদিন এএফপিকে বলেন, বানরটি কোনো রোগ বহন করছে কিনা, আমরা তা নির্ণয় করতে চাই।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই সুবিশাল দ্বীপপুঞ্জে মানুষ ও প্রাণীর সংঘাত বেশ সাধারণ ঘটনা। বিশেষ করে যেসব এলাকায় পাম তেলের বাগানের জন্য রেইনফরেস্ট উজাড় করার ফলে বানর, হাতি ও বাঘের মতো প্রাণীদের আবাসস্থল সংকুচিত হচ্ছে, সেসব অঞ্চলে এই ধরনের সংঘাত বেশি দেখা যায়।
