রাশিয়ার হামলায় জাপোরিজিয়ায় নিহত ৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২৬, ০৪:০৭ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
দক্ষিণ-পূর্ব ইউক্রেনে রাশিয়ার রাতভর হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। এ সময় ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের একটি শিশু হাসপাতালেও আঘাত হেনেছে ক্ষেপণাস্ত্র। খবর আলজাজিরার।
মঙ্গলবার (১০ আগস্ট) ভোরের দিকে এ দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয় বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন। প্যাট্রিয়ট বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ঘাটতিতে থাকা ইউক্রেনের এয়ার ডিফেন্সকে পর্যদুস্ত করতেই রাশিয়া সাম্প্রতিক সময়ে এ ধরনের আক্রমণ জোরদার করেছে।
ইউক্রেনের দক্ষিণ-পূর্ব জাপোরিজিয়া অঞ্চলের সামরিক প্রশাসনের প্রধান ইভান ফেদোরোভ জানান, অঞ্চলটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও এরিয়াল বোমা ব্যবহার করে এক বিশাল হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এতে ৬ জন নিহত এবং অন্তত ১৯ জন আহত হয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার পোস্ট করা ছবিগুলোতে বেশ কিছু ভবন ও যানবাহনে আগুন জ্বলতে দেখা যায়। হামলার পর এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
অন্যদিকে, কিয়েভে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও ১ জন আহত হয়েছেন। ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় জরুরি সেবা সংস্থা জানিয়েছে, শেভচেনকিভস্কি জেলার একটি শিশু হাসপাতালে হামলা এবং একটি গুদামে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর মাইকোলাইভে রাশিয়ার ড্রোন হামলায় ৭৫ বছর বয়সি এক নারী আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সামরিক প্রশাসন জানিয়েছে।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, তাদের রাতভর এ হামলার মূল লক্ষ্য ছিল কিয়েভ ও জাপোরিজিয়ার সামরিক প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরির কারখানা এবং পরিবহন ও লজিস্টিক সেন্টারগুলো।
পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে রাশিয়ার ভেতরেও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন।
রাশিয়ার ভোরোনেজ অঞ্চলের গভর্নর আলেকজান্ডার গুসেভ জানান, ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় ১ জন নিহত ও ২ জন আহত হয়েছেন। ধ্বংসপ্রাপ্ত ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে সেখানকার গুদামগুলোতে আগুন ধরে যায়।
গভর্নর গুসেভ ক্ষতিগ্রস্ত গুদামটির নাম প্রকাশ না করলেও রাশিয়ার জনপ্রিয় অনলাইন রিটার্লার ‘ওয়াইল্ডবেরিজ’ জানিয়েছে, হামলার পর ভোরোনেজে অবস্থিত তাদের লজিস্টিক সেন্টার থেকে দ্রুত কর্মীদের সরিয়ে নেওয়া হয়। রাশিয়ার বিমান প্রতিরক্ষা ইউনিটগুলো ভোরোনেজ শহর ও আশপাশের পাঁচ জেলা থেকে ১৫টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ধ্বংস করেছে বলে জানা গেছে।
সম্প্রতি ইউক্রেনীয় বাহিনী রাশিয়ার মূল ভূখণ্ডের গভীরে আক্রমণ বৃদ্ধি করার পরপরই, ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরের ওপর রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাত্রা বহুগুণ বেড়ে গেছে।

