হুতিদের হামলার মুখে সৌদি আরবকে সামরিক সহায়তা দেবে যুক্তরাজ্য
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৫১ পিএম
সৌদি আরবকে সীমিত সামরিক সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাজ্য।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতিদের হামলার মুখে সৌদি আরবকে সীমিত সামরিক সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাজ্য। ব্রিটিশ সরকার জানিয়েছে, সৌদি যুদ্ধবিমানগুলোকে আকাশে জ্বালানি সরবরাহের মাধ্যমে প্রতিরক্ষামূলক সহায়তা দেওয়া হবে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাতে যুক্তরাজ্য সরকার নিশ্চিত করে যে, রয়্যাল এয়ার ফোর্সের (আরএএফ) একটি ট্যাংকার বিমান সৌদি যুদ্ধবিমানগুলোকে ‘ডিফেন্সিভ এয়ার-টু-এয়ার রিফুয়েলিং’ সুবিধা দেবে। এর মাধ্যমে হুতিদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিরুদ্ধে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদার হবে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে হুতিরা সৌদি আরবের ওপর ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বাড়িয়ে দিয়েছে। একই সময়ে তারা ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার অভিযানও জোরদার করেছে। শনিবার রিয়াদে চালানো একটি হামলা কয়েক বছরের মধ্যে সৌদি রাজধানীকে লক্ষ্য করে প্রথম হামলা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা পরিস্থিতির বড় ধরনের উত্তেজনা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়।
ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা প্রতিমন্ত্রী লুক পোলার্ড স্কাই নিউজকে বলেন, ‘আমরা আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এই সহায়তা দিচ্ছি। কঠিন সময়ে প্রকৃত বন্ধুরা একে অপরের পাশে দাঁড়ায়।’
তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই সহায়তা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।
জানা গেছে, সাইপ্রাসের আরএএফ অ্যাকরোটিরি ঘাঁটিতে অবস্থানরত ‘ভয়েজার’ ট্যাংকার বিমান কয়েক দিনের মধ্যেই মিশন শুরু করবে। এটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য পরিচালিত হবে এবং কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত চলতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন কর্মকর্তারা।
এই মিশনের আওতায় ব্রিটিশ নির্মিত টাইফুন যুদ্ধবিমান, যা সৌদি আরব ব্যবহার করে থাকে, সেগুলোকে আকাশে জ্বালানি সরবরাহ করা হবে। এর আগে থেকেই সৌদি আরবে যুক্তরাজ্যের ‘স্কাই স্যাবার’ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন রয়েছে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক সফরের সময় সোমবার রাতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম নতুন এই সামরিক সহায়তার ঘোষণা দেন। সফরের ফাঁকে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহানের সঙ্গে তার বৈঠকেরও কথা রয়েছে।
বার্নহাম বলেন, ‘ব্রিটেন এবং বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্যের স্বার্থ সুরক্ষার জন্য’ সৌদি আরবের অনুরোধে সাড়া দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি আঞ্চলিক যোগাযোগ ও বাণিজ্যিক পথ খোলা রাখার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন।
এদিকে জি-৭ভুক্ত দেশগুলোও হুতিদের সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। তাদের মতে, এসব হামলা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য হুমকি তৈরি করছে এবং জ্বালানির দাম বৃদ্ধির ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি ও বাব আল-মান্দেব প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে ইরান ও তার মিত্রদের প্রভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নতুন মাত্রা পাচ্ছে।
সম্প্রতি হুতিরা ইয়েমেনের পুরো লোহিত সাগর উপকূলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবি করেছে। এর ফলে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব প্রণালির ওপরও তাদের প্রভাব আরও বেড়েছে।

