যেসব আচরণ ও চরিত্র— জান্নাতের নিশ্চিত পথ, জাহান্নামের ভয়ংকর দরজা
ইসলাম ও জীবন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:০৩ পিএম
জান্নাতের পথ। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
মানুষ জীবনে সফলতা খোঁজে—কেউ সম্পদে, কেউ ক্ষমতায়, কেউ খ্যাতিতে। অথচ মানুষের প্রকৃত সফলতা কেবল একটি— আখিরাতে মুক্তি ও জান্নাত লাভ। এই মুক্তির পথ কী? কী করলে মানুষ জান্নাতের কাছাকাছি যায়, আর কোন ভুলে জাহান্নামের অতল গহ্বরে পতিত হয়?
একটি হাদিসে এই চিরন্তন প্রশ্নের স্পষ্ট ও সংক্ষিপ্ত উত্তর দিয়েছেন আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সা.); যা একজন মুমিনের জীবনের দিকনির্দেশক নীতিমালা হয়ে উঠতে পারে।
মূল হাদিস: জান্নাত ও জাহান্নামের পথনির্দেশ
سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ عَنْ أَكْثَرِ مَا يُدْخِلُ النَّاسَ الْجَنَّةَ، فَقَالَ: تَقْوَى اللَّهِ وَحُسْنُ الْخُلُقِ. وَسُئِلَ عَنْ أَكْثَرِ مَا يُدْخِلُ النَّاسَ النَّارَ، فَقَالَ: الْفَمُ وَالْفَرْجُ.
রাসুলুল্লাহকে (সা.) প্রশ্ন করা হলো, কোন কর্মটি সবচেয়ে বেশি মানুষকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে? তিনি বললেন— আল্লাহভীতি (তাকওয়া) ও উত্তম চরিত্র।
আবার তাকে প্রশ্ন করা হলো, কোন কাজটি সবচেয়ে বেশি মানুষকে জাহান্নামে নিয়ে যাবে? তিনি বললেন— মুখ (জিহ্বা) ও লজ্জাস্থান।’ (তিরমিজি ২০০৪)
জান্নাতের চাবিকাঠি: আল্লাহভীতি (তাকওয়া)
তাকওয়া মানে শুধু ভয় নয়— বরং আল্লাহর উপস্থিতি সর্বদা অনুভব করা, গোপনে ও প্রকাশ্যে গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা। তাকওয়াবান ব্যক্তি অন্যায় করতে ভয় পায়, কারণ সে জানে—আল্লাহ দেখছেন। কুরআনের ঘোষণা—
إِنَّ أَكْرَمَكُمْ عِندَ اللَّهِ أَتْقَاكُمْ
‘নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে তোমাদের মধ্যে সর্বাধিক মর্যাদাবান সে-ই, যে সবচেয়ে বেশি তাকওয়াবান।’ (সুরা আল-হুজুরাত: আয়াত ১৩)
উত্তম চরিত্র: নবুয়তের উদ্দেশ্য
রাসুলুল্লাহ (সা.) তার আগমনের মূল উদ্দেশ্যই ঘোষণা করেছেন চরিত্র গঠনের মাধ্যমে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
إِنَّمَا بُعِثْتُ لِأُتَمِّمَ صَالِحَ الأَخْلَاقِ
‘আমি প্রেরিত হয়েছি উত্তম চরিত্রকে পূর্ণতা দানের জন্য।’ (মুসনাদে আহমাদ ৮৯৩৯)
উত্তম চরিত্রের মধ্যে রয়েছে—
> সত্যবাদিতা
> নম্রতা
> ক্ষমাশীলতা
> ধৈর্য
> মানুষের প্রতি সদাচরণ
এগুলোই জান্নাতের ওজনদার আমল।
জাহান্নামের ভয়ংকর দুই দরজা: জিহ্বা ও লজ্জাস্থান
জিহ্বার গুনাহ
মিথ্যা, গিবত, অপবাদ, অশ্লীল কথা—এসব জিহ্বার অপরাধ মানুষকে ধ্বংস করে দেয়। আল্লাহ তাআলা বলেন—
مَا يَلْفِظُ مِنْ قَوْلٍ إِلَّا لَدَيْهِ رَقِيبٌ عَتِيدٌ
‘মানুষ যে কথাই উচ্চারণ করে, তার জন্যই একজন পর্যবেক্ষক প্রস্তুত থাকে।’ (সুরা ক্বাফ: আয়াত ১৮)
লজ্জাস্থানের গুনাহ
ব্যভিচার ও অশ্লীলতা সমাজ ধ্বংসের মূল। আল্লাহ তাআলা বলেন—
وَلَا تَقْرَبُوا الزِّنَى ۖ إِنَّهُ كَانَ فَاحِشَةً وَسَاءَ سَبِيلًا
‘তোমরা ব্যভিচারের কাছে যেয়ো না। নিশ্চয়ই এটি অশ্লীল কাজ ও নিকৃষ্ট পথ।’ (সুরা আল-ইসরা: আয়াত ৩২)
একটি মানুষ জান্নাতি বা জাহান্নামি হয়—তার জিহ্বা, চরিত্র ও তাকওয়ার ওপর ভিত্তি করে। আমাদের নামাজ, রোজা যতই হোক— যদি চরিত্র না থাকে, জিহ্বা নিয়ন্ত্রণে না থাকে, তবে মুক্তি কঠিন।
আজ নিজেকে প্রশ্ন করুন— আমি কি আল্লাহভীতিকে জীবনের মানদণ্ড বানিয়েছি? আমার কথা কি মানুষকে শান্তি দেয়, না কষ্ট? আমার চরিত্র কি মানুষকে ইসলামের দিকে আকর্ষণ করে? আসুন, আমরা তাকওয়া ও উত্তম চরিত্রকে আঁকড়ে ধরি— যেন এই দুই আমল আমাদের জান্নাতের দরজায় পৌঁছে দেয়, আর জিহ্বা ও প্রবৃত্তির গুনাহ থেকে বেঁচে থেকে জাহান্নামের পথ রুদ্ধ করতে পারি। আল্লাহ আমাদের সবাইকে জান্নাতি চরিত্র দান করুন। আমিন।

