|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ইরশাদ হচ্ছে ‘নিশ্চয়ই যারা ইমান আনে, সৎকর্ম করে, নামাজ কায়েম করে এবং জাকাত আদায় করে, তাদের প্রতিদান তাদের প্রতিপালকের কাছে সংরক্ষিত। তাদের কোনো ভয় নেই এবং তারা চিন্তিতও হবে না।’ জাকাত শরিয়ত নির্ধারিত সেই সম্পদকে বলা হয়, যা নিজের প্রয়োজনীয়তা পূরণের পর আল্লাহতায়ালার সন্তুষ্টির জন্য নির্ধারিত কোনো দরিদ্র ব্যক্তিকে প্রদান করা হয়। জাকাত দ্বিতীয় হিজরিতে রোজার আগে ফরজ হয়।
অনেকের ধারণা, জাকাত দিলে সম্পদ কমে যায়। কিন্তু বাস্তবে জাকাত প্রদানে সম্পদ কমে না; বরং তা বরকতপূর্ণ হয়ে বৃদ্ধি পায়। রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘সদকা দ্বারা সম্পদ কমে না।’ যেমন গাছের পচা ডাল কেটে দিলে গাছকে ছোট মনে হলেও বাস্তবে তা গাছের বিকাশে সহায়ক হয়। তেমনি জাকাত সম্পদকে পরিশুদ্ধ ও কল্যাণময় করে।
জাকাত, সদকা ও কর এ তিনটির মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। জাকাত আল্লাহর নির্ধারিত বাধ্যতামূলক দান, যা দরিদ্রদের অধিকার। সদকা হলো স্বেচ্ছায় আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য দান। আর কর হলো রাষ্ট্র কর্তৃক আরোপিত বাধ্যতামূলক অর্থ, যা রাষ্ট্রের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করা হয়। জাকাতের মধ্যে নৈতিক, ইমানি ও সামাজিক সহমর্মিতার দিকটি বিশেষভাবে বিদ্যমান।
জাকাত কাদের ওপর ফরজ
সাবালক, সুস্থ মস্তিষ্কের মুসলমান যদি নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হয় এবং সেই সম্পদের ওপর চন্দ্র বছর পূর্ণ হয়, তবে তার ওপর জাকাত ফরজ হয়। নিসাব হলো সাড়ে সাত তোলা বা প্রায় ৮৭.৪৮ গ্রাম স্বর্ণ, অথবা সাড়ে ৫২ তোলা বা প্রায় ৬১২.৩৫ গ্রাম রৌপ্য কিংবা সমপরিমাণ অর্থ বা ব্যবসায়িক সম্পদ। তবে এ সম্পদ মৌলিক প্রয়োজনের অতিরিক্ত হতে হবে এবং এমন ঋণ থাকা যাবে না, যা পরিশোধ করলে নিসাব পরিমাণ সম্পদ অবশিষ্ট থাকে না। নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হওয়ার এক বছর পূর্ণ হলে মোট সম্পদের চল্লিশ ভাগের এক ভাগ (অর্থাৎ ২.৫%) জাকাত হিসাবে আদায় করা ফরজ। কোনো ব্যক্তি একাধিক ধরনের সম্পদের মালিক হলে সেগুলোর সম্মিলিত মূল্য যদি নিসাবের সমপরিমাণ হয়, তাহলেও জাকাত ফরজ হবে।
একই পরিবারের একাধিক ব্যক্তি নিসাবের মালিক হলে প্রত্যেককে আলাদাভাবে জাকাত দিতে হবে। স্ত্রীর জাকাত স্বামীর ওপর এবং সন্তানের জাকাত পিতার ওপর বর্তায় না। তবে অনুমতিক্রমে অন্য কেউ তার পক্ষ থেকে জাকাত আদায় করলে তা আদায় হয়ে যাবে।
