আখেরাতমুখী জীবনেই সফলতা। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
আজকের পৃথিবীতে মানুষ দুনিয়ার চিন্তা, ভবিষ্যতের ভয়, রিজিকের দুশ্চিন্তা আর প্রতিযোগিতার চাপে ক্লান্ত। অথচ একজন মুমিনের প্রকৃত প্রশান্তি লুকিয়ে আছে আল্লাহর উপর ভরসা এবং আখেরাতমুখী জীবনে। রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাদের শিখিয়েছেন— যে ব্যক্তি তার জীবনের মূল লক্ষ্য আখেরাতকে বানাবে, আল্লাহ তাআলাই তার দুনিয়ার সমস্ত চিন্তা সহজ করে দেবেন। কিন্তু যে ব্যক্তি দুনিয়ার মোহে হারিয়ে যায়, সে শেষ পর্যন্ত অশান্তি আর ধ্বংসের দিকেই ধাবিত হয়।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
مَنْ جَعَلَ الْهُمُومَ هَمًّا وَاحِدًا هَمَّ الْمَعَادِ كَفَاهُ اللَّهُ هَمَّ دُنْيَاهُ وَمَنْ تَشَعَّبَتْ بِهِ الْهُمُومُ فِي أَحْوَالِ الدُّنْيَا لَمْ يُبَالِ اللَّهُ فِي أَىِّ أَوْدِيَتِهِ هَلَكَ
‘যার চিন্তার কেন্দ্রবিন্দু হবে আখেরাত, তার পার্থিব চিন্তার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট হয়ে যান। আর যে ব্যক্তি দুনিয়ার চিন্তায় মোহগ্রস্ত থাকে, সে কোন উপত্যকায় ধ্বংস হলো—আল্লাহ তার পরোয়া করেন না।’ (ইবনে মাজাহ ৪১০৬)
কুরআনের আলোকে আখেরাতমুখী জীবন
আল্লাহ তাআলা বলেন—
وَمَا الْحَيَاةُ الدُّنْيَا إِلَّا مَتَاعُ الْغُرُورِ
‘দুনিয়ার জীবন তো প্রতারণার সামগ্রী ছাড়া কিছুই নয়।’ (সুরা আল-ইমরান: আয়াত ১৮৫)
আরেক জায়গায় মহান আল্লাহ বলেন—
مَنْ كَانَ يُرِيدُ حَرْثَ الْآخِرَةِ نَزِدْ لَهُ فِي حَرْثِهِ ۖ وَمَنْ كَانَ يُرِيدُ حَرْثَ الدُّنْيَا نُؤْتِهِ مِنْهَا وَمَا لَهُ فِي الْآخِرَةِ مِنْ نَصِيبٍ
‘যে আখেরাতের ফসল কামনা করে, আমি তার ফসল বৃদ্ধি করে দেই। আর যে দুনিয়ার ফসল কামনা করে, তাকে তার কিছু দেই; কিন্তু আখেরাতে তার কোনো অংশ থাকবে না।’ (সুরা আশ-শুরা: আয়াত ২০)
দুনিয়া নাকি আখেরাত— কোনটি আমাদের লক্ষ্য?
বর্তমানে অধিকাংশ মানুষ দুনিয়ার সফলতাকেই জীবনের চূড়ান্ত লক্ষ্য মনে করে। বাড়ি, গাড়ি, সম্পদ, সম্মান— এসবের পেছনে ছুটতে ছুটতে মানুষ আত্মার প্রশান্তি হারিয়ে ফেলে। অথচ ইসলাম আমাদের শিখিয়েছে— দুনিয়া হবে আখেরাতের প্রস্তুতির স্থান। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
الدُّنْيَا سِجْنُ الْمُؤْمِنِ وَجَنَّةُ الْكَافِرِ
‘দুনিয়া মুমিনের জন্য কারাগার এবং কাফিরের জন্য জান্নাতস্বরূপ।’ (মুসলিম ২৯৫৬)
অর্থাৎ একজন মুমিন কখনো দুনিয়াকে চূড়ান্ত গন্তব্য মনে করে না; বরং সে জানে প্রকৃত সফলতা আখেরাতেই।
আখেরাতমুখী জীবনের ফলাফল
> অন্তরে প্রশান্তি আসে
> আল্লাহ দুশ্চিন্তা দূর করে দেন
> রিজিকে বরকত আসে
> ইবাদতে স্বাদ অনুভূত হয়
> মৃত্যুভয় কমে যায়
> জান্নাতের আশা হৃদয়কে আলোকিত করে
আল্লাহ তাআলা বলেন—
أَلَا بِذِكْرِ اللَّهِ تَطْمَئِنُّ الْقُلُوبُ
‘জেনে রাখো, আল্লাহর স্মরণেই অন্তরসমূহ প্রশান্তি লাভ করে।’ (সুরা আর-রা‘দ: আয়াত ২৮)
দুনিয়া ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু আখেরাত চিরস্থায়ী। তাই একজন বুদ্ধিমান মুমিন সেই ব্যক্তি, যে দুনিয়াকে নয়— আখেরাতকে জীবনের মূল লক্ষ্য বানায়। যখন আমাদের চিন্তা, স্বপ্ন এবং পরিশ্রম আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য হবে, তখন আল্লাহ নিজেই আমাদের দুনিয়ার দায়িত্ব সহজ করে দেবেন। আসুন, আমরা দুনিয়ার মোহে হারিয়ে না গিয়ে আখেরাতমুখী জীবন গড়ি। আল্লাহ আমাদের অন্তরে আখেরাতের চিন্তা ও তার স্মরণকে প্রাধান্য দেওয়ার তৌফিক দান করুন। আমীন।


