দৈনন্দিন ৭টি অভ্যাসই মুছে দিতে পারে জীবনের গুনাহ
ইসলাম ও জীবন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ আগস্ট ২০২৬, ১০:০২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
মানুষ মাত্রই ভুলের ঊর্ধ্বে নয়। চলার পথে অবচেতন মনে বা শয়তানের প্ররোচনায় মানুষ নানা গুনাহে জড়িয়ে পড়ে। তবে পরম দয়ালু আল্লাহ তাআলা বান্দার গুনাহ ক্ষমা করার জন্য দৈনন্দিন জীবনের সাধারণ কিছু বাক্য ও অভ্যাসের মাঝে রেখেছেন অপার সওয়াব ও ক্ষমার প্রতিশ্রুতি। প্রতিনিয়ত মুখ ও অন্তরে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তাসবিহ ও জিকির চর্চা করলে জীবনের ছোট-বড় অনেক গুনাহ মাফ হয়ে যায় এবং অন্তর আল্লাহর নৈকট্যে সতেজ থাকে।
গুনাহ মাফ ও বরকত লাভের ৭টি উত্তম অভ্যাস
১. প্রতিটি ভালো কাজের শুরুতে ‘বিসমিল্লাহ’ বলা
যেকোনো নেক ও কল্যাণকর কাজ শুরুর সময় আল্লাহর পবিত্র নাম নেওয়ার মাধ্যমে কাজে বরকত অবতীর্ণ হয় এবং শয়তানের অনিষ্ট থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।
২. নিয়ামত প্রাপ্তি ও কাজ শেষে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলা
প্রতিটি ভালো কাজ সম্পন্ন হলে বা কোনো নিয়ামত লাভ করলে আল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে হয়। হাদিস অনুযায়ী এই বাক্য মিজানের পাল্লাকে নেকি দিয়ে পূর্ণ করে দেয়। হজরত আবু মালিক আল-আশআরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
...وَالْحَمْدُ لِلَّهِ تَمْلَأُ الْمِيزَانَ...
‘...আর ‘আলহামদুলিল্লাহ’ (আল্লাহর প্রশংসা) মিজানের পাল্লাকে ভরপুর করে দেয়...।’ (মুসলিম ২২৩)
৩. ভুল বা অন্যায়ের পর ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’ বলা
মানুষের অনিচ্ছাকৃত ভুল বা গুনাহ হয়ে গেলে অবিলম্বে খাঁটি দিলে ক্ষমা প্রার্থনা করা জরুরি। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা ক্ষমার সুস্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন এভাবে—
وَمَن يَعْمَلْ سُوءًا أَوْ يَظْلِمْ نَفْسَهُ ثُمَّ يَسْتَغْفِرِ اللَّهَ يَجِدِ اللَّهَ غَفُورًا رَّحِيمًا
‘যে ব্যক্তি কোনো মন্দ কাজ করে কিংবা নিজের আত্মার ওপর জুলুম করে, অতঃপর আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে— সে আল্লাহকে অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু হিসেবে পাবে।’ (সুরা আন-নিসা: আয়াত ১১০)
৪. ভবিষ্যতের কোনো পরিকল্পনায় ‘ইনশাআল্লাহ’ বলা
ভবিষ্যতে কোনো কিছু করার সংকল্প করলে মহান আল্লাহর ইচ্ছার ওপর ছেড়ে দেওয়া এবং ‘ইনশাআল্লাহ’ (যদি আল্লাহ চান) বলা মুমিনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। আল্লাহ তাআলা বলেন—
وَلَا تَقُولَنَّ لِشَيْءٍ إِنِّي فَاعِلٌ ذَٰلِكَ غَدًا • إِلَّا أَن يَشَاءَ اللَّهُ
‘আর আপনি কোনো বিষয়ের ক্ষেত্রে কখনো বলবেন না যে, 'আমি এটি আগামীকাল করব', ‘আল্লাহ ইচ্ছা করলে’ (ইনশাআল্লাহ) বলা ছাড়া।’ (সুরা আল-কাহফ: আয়াত ২৩-২৪)
৫. কঠিন বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতিতে ‘লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ’ বলা
কোনো বিপদ বা কঠিন অবস্থার মুখোমুখি হলে এই কালেমা পাঠ করা আল্লাহর ওপর পূর্ণ নির্ভরতার প্রতীক। হাদিসে এটিকে জান্নাতের রত্নভাণ্ডার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। হজরত আবু মুসা আশআরি (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি (সা.) আমাকে বললেন—
أَلاَ أَدُلُّكَ عَلَى كَنْزٍ مِنْ كُنُوزِ الجَنَّةِ؟ فَقُلْتُ: بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ، قَالَ: تَقُولُ: لاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ
‘আমি কি তোমাকে জান্নাতের গুপ্তধনসমূহের একটি রত্নের সন্ধান দেব না? আমি বললাম, অবশ্যই হে আল্লাহর রাসুল! তিনি বললেন, তুমি বলো— লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ তথা আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো উপায় নেই এবং কোনো শক্তি নেই।’ (বুখারি ৪২০৫)
৬. বিপদ-আপদে ‘ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন’ বলা
যেকোনো বিপদ, শোক বা ক্ষতির খবরে ধৈর্য ধারণ করে এই বাক্যটি পাঠ করলে আল্লাহ তাআলা গুনাহ ক্ষমা করেন এবং উত্তম প্রতিদান দান করেন। আল্লাহ তাআলা বলেন—
الَّذِينَ إِذَا أَصَابَتْهُم مُّصِيبَةٌ قَالُوا إِنَّا لِلَّهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُونَ
‘যাদের ওপর কোনো বিপদ আপতিত হলে তারা বলে—নিশ্চয়ই আমরা সবাই আল্লাহর জন্য এবং আমরা সবাই তারই সান্নিধ্যে ফিরে যাব।’ (সুরা আল-বাকারা: আয়াত ১৫৬)
৭. বেশি বেশি ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ জিকির করা
তাওহিদের এই কালেমা সমস্ত জিকিরের মধ্যে সর্বোত্তম এবং অন্তরের যাবতীয় মলিনতা ও গুনাহ দূর করার অন্যতম বড় মাধ্যম। হজরত জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি—
أَفْضَلُ الذِّكْرِ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ
‘সর্বোত্তম জিকির হলো ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ তথা আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই।’ (তিরমিজি ৩৩৮৩)
দৈনন্দিন জীবনের সাধারণ কাজের সঙ্গে এই ৭টি বাক্যকে মুখে অভ্যাসে পরিণত করা খুব বেশি কষ্টসাধ্য নয়। জিহ্বাকে সর্বদা আল্লাহর প্রশংসায় সিক্ত রাখলে একদিকে যেমন অন্তরে মানসিক শান্তি বিরাজ করে, তেমনি পরকালীন জীবনে এই আমলগুলোই গুনাহ মাফ ও নাজাতের বড় উসিলা হয়ে দাঁড়াবে।
