আলহামদুলিল্লাহ। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
মনের গভীরে প্রতিনিয়ত একটি প্রশ্ন জাগে— মহান আল্লাহর অসীম করুণার চাদরে ঢাকা আমাদের জীবন: আমরা কি রবের প্রতি যথেষ্ট কৃতজ্ঞ? আমাদের প্রতিটি নিঃশ্বাস, প্রতিটি হৃদস্পন্দন এবং অস্তিত্বের প্রতিটি মুহূর্ত আল্লাহর অপার দয়ার এক একটি জীবন্ত প্রমাণ। তিনি কেবল আমাদের অস্তিত্বই দেননি, বরং মাতৃগর্ভ থেকে শুরু করে জীবনের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত প্রতিনিয়ত ঢেলে দিচ্ছেন তার অজস্র নেয়ামত। শত ভুলত্রুটি ও অবাধ্যতার পরও তিনি আমাদের ভালোবাসেন, ক্ষমা করেন এবং রক্ষা করেন। রবের এই সীমাহীন অনুগ্রহের বিপরীতে আমাদের হৃদয় থেকে কেবল একটাই বাক্য উচ্চারিত হওয়া উচিত— ‘আলহামদুলিল্লাহ’।
সৃষ্টি, জীবন ও অফুরন্ত রিজিকের ব্যবস্থা
আল্লাহ তাআলা আমাদের অনস্তিত্ব থেকে অস্তিত্বে এনেছেন এবং বেঁচে থাকার সমস্ত উপকরণ সহজলভ্য করে দিয়েছেন। পৃথিবীর প্রতিটি জীবের আহারের নিশ্চয়তা একমাত্র তিনিই বহন করেন। বিষয়টি কুরআনে এভাবে এসেছে—
وَمَا مِن دَابَّةٍ فِي الْأَرْضِ إِلَّا عَلَى اللَّهِ رِزْقُهَا
‘ভূপৃষ্ঠে বিচরণকারী এমন কোনো প্রাণী নেই যার রিজিকের দায়িত্ব আল্লাহর ওপর নেই।’ (সুরা হুদ: আয়াত ৬)
গুনাহের পরও ক্ষমার দুয়ার খোলা রাখা
মানুষ মাত্রই দুর্বল এবং ভুলপ্রবণ। কিন্তু বান্দা যতবারই ভুল করে অনুতপ্ত হৃদয়ে ফিরে আসে, আল্লাহ ততবারই ক্ষমার চাদরে তাকে জড়িয়ে নেন। হাদিসে পাকে নবীজি (সা.)-এর ঘোষণায় আল্লাহ তাআলা বলেন—
يَا ابْنَ آدَمَ إِنَّكَ مَا دَعَوْتَنِي وَرَجَوْتَنِي غَفَرْتُ لَكَ عَلَى مَا كَانَ فِيكَ وَلَا أُبَالِي
‘হে আদম সন্তান! যতক্ষণ তুমি আমাকে ডাকবে এবং আমার কাছে ক্ষমার আশা রাখবে, তোমার থেকে যা-ই প্রকাশ পাক না কেন, আমি তোমাকে ক্ষমা করে দেব; আমি কোনো পরোয়া করি না।’ (তিরমিজি ৩৫৪০)
অদৃশ্য বিপদ থেকে সুরক্ষা ও অন্তরের প্রশান্তি
আমরা যা দেখি এবং যা দেখি না—এমন বহু বিপদাপদ থেকে আল্লাহ নীরবে আমাদের আগলে রাখেন। জীবনের কঠিন পরীক্ষায় তিনি বান্দাকে ভেঙে পড়তে দেন না, বরং ঈমানের মাধ্যমে অন্তরে দান করেন অনন্য শক্তি ও প্রশান্তি। আল্লাহ তাআলা ইমানদারদের লক্ষ্য করে ঘোষণা করেন—
الَّذِينَ آمَنُوا وَتَطْمَئِنُّ قُلُوبُهُم بِذِكْرِ اللَّهِ ۗ أَلَا بِذِكْرِ اللَّهِ تَطْمَئِنُّ الْقُلُوبُ
‘যারা ইমান আনে এবং আল্লাহর স্মরণে যাদের অন্তর প্রশান্ত হয়; জেনে রেখো, আল্লাহর স্মরণেই কেবল হৃদয়সমূহ প্রশান্ত হয়।’ (সুরা আর-রাদ: আয়াত ২৮)
দোয়া কবুল ও চিরস্থায়ী জান্নাতের প্রতিশ্রুতি
নিঃসঙ্গ মুহূর্তে কিংবা ঘোর বিপদে বান্দা যখন রবের দরবারে হাত তোলে, তিনি কখনোই তাকে শূন্য হাতে ফিরিয়ে দেন না। আর পার্থিব জীবনের ক্ষুদ্র আত্মত্যাগের বিনিময়ে অনুগত বান্দাদের জন্য তিনি তৈরি রেখেছেন চিরসুখের জান্নাত। আল্লাহ তাআলা কীভাবে বান্দার ডাকে সাড়া দেন তা এভাবে ওঠে এসেছে—
وَإِذَا سَأَلَكَ عِبَادِي عَنِّي فَإِنِّي قَرِيبٌ ۖ أُجِيبُ دَعْوَةَ الدَّاعِ إِذَا دَعَانِ
‘আর আমার বান্দারা যখন আপনার কাছে আমার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে, (তাদের জানিয়ে দিন) নিশ্চয় আমি অতি নিকটে। আহ্বানকারী যখন আমাকে ডাকে, আমি তার ডাকে সাড়া দিই।’ (সুরা আল-বাকারা: আয়াত ১৮৬)
যে রব আমাদের অজান্তেই এত বিপদ থেকে রক্ষা করেন, প্রতি মুহূর্তে বাঁচিয়ে রাখেন এবং পরম মমতায় ক্ষমা করেন—তার প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞতার কোনো বিকল্প নেই। জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে তার নেয়ামতকে উপলব্ধি করে অন্তরের গভীর থেকে শুকরিয়া আদায় করাই মুমিনের প্রকৃত পরিচয়। সমস্ত প্রশংসা একমাত্র সেই মহান প্রতিপালকের, যিনি আমাদের প্রতি এত বেশি দয়ালু। তারই প্রতি সর্বোচ্চ কৃতজ্ঞতা— ‘আলহামদুলিল্লাহ’।

