দুবাই আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় আবেদনের নতুন রেকর্ড: প্রথম পুরস্কার কী?
ইসলাম ও জীবন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৬, ১০:৫৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বিশ্বজুড়ে পবিত্র কোরআন চর্চা ও সুন্দর তিলাওয়াতকে উৎসাহিত করতে আয়োজিত দুবাই আন্তর্জাতিক পবিত্র কোরআন প্রতিযোগিতার ২৯তম আসরে সৃষ্টি হয়েছে এক অভূতপূর্ব ইতিহাস। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা বিপুল সাড়ায় অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে গেছে। ১৪৪৮ হিজরি (২০২৭ খ্রিষ্টাব্দ)-এর এই আসরে বিশ্বের ১৩৫টি দেশ থেকে মোট ২০ হাজার ৫০০টি আবেদন জমা পড়েছে। আরব ও মুসলিম বিশ্ব ছাড়াও অন্যান্য অমুসলিম দেশের সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায় থেকেও প্রতিযোগীরা এতে ব্যাপকভাবে অংশ নিয়েছেন।
শীর্ষ আবেদনকারী দেশ ও বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যান
দেশভিত্তিক আবেদনের দিক থেকে বরাবরের মতো শীর্ষে রয়েছে মিসর। শীর্ষ আবেদনকারী দেশসমূহ—
- মিসর: ৬,৮৩৮টি
- ইন্দোনেশিয়া: ১,৯২৩টি
- পাকিস্তান: ১,৮৬২টি
- সিরিয়া: ১,৫১১টি
বয়সভিত্তিক বিভাগ
- ১৬ বছরের বেশি বয়সী পুরুষ বিভাগ: ১৪,০৪০টি আবেদন।
- ১৬ বছরের কম বয়সী (বালক ও বালিকা) বিভাগ: ৬,৪৯৫টি আবেদন (যার মধ্যে বালিকা প্রতিযোগীর সংখ্যা ২,৩৯৪ জন)।
সরাসরি আবেদনের নতুন সুযোগ ও আধুনিকায়ন
সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভাইস প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী ও দুবাইয়ের শাসক শেখ মোহাম্মদ বিন রাশিদ আল মাকতুমের পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় এবার আনা হয়েছে বড় ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তন। ২৮তম আসর থেকে শুরু হওয়া উন্নয়ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে নিজ দেশের মনোনয়ন কিংবা স্বীকৃত ইসলামিক সেন্টারের সুপারিশের পাশাপাশি এবার সরাসরি আবেদনের সুযোগ রাখা হয়েছে।
দুবাইয়ের ইসলামিক অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড চ্যারিটেবল অ্যাক্টিভিটিজ বিভাগের মহাপরিচালক এবং ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আহমেদ দারবিশ আল মুহাইরি জানান, এই ব্যাপক অংশগ্রহণ বিশ্বমঞ্চে প্রতিযোগিতার গ্রহণযোগ্যতারই প্রমাণ। তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হলো সনাতন প্রতিযোগিতার গণ্ডি ছাড়িয়ে বিশ্বের অসাধারণ তিলাওয়াতকারী প্রতিভাদের জন্য একটি অনুপ্রেরণাদায়ী ও বিশ্বমানের পরিবেশ গড়ে তোলা।’
পুরস্কারের চমকপ্রদ অর্থমূল্য
এবারের আসরে মোট পুরস্কারের অর্থমূল্য ধরা হয়েছে ১ কোটি ২০ লাখ দিরহামেরও বেশি।
- প্রথম পুরস্কার: ১৬ বছরের বেশি বয়সী পুরুষ এবং ১৬ বছরের কম বয়সী উভয় ক্যাটাগরিতে প্রথম স্থান অর্জনকারী প্রত্যেকে পাবেন ১০ লাখ মার্কিন ডলার।
- দ্বিতীয় পুরস্কার: দুই ক্যাটাগরির দ্বিতীয় স্থান অধিকারীরা পাবেন ১ লাখ মার্কিন ডলার করে।
- তৃতীয় পুরস্কার: তৃতীয় স্থান অধিকারীদের দেওয়া হবে ৫০ হাজার মার্কিন ডলার করে।
- বিশেষ সম্মাননা: ‘গ্লোবাল কোরআনিক পার্সোনালিটি’ বা বৈশ্বিক কোরআনিক ব্যক্তিত্ব পুরস্কারের অর্থমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ লাখ মার্কিন ডলার।
তারাবির ইমামতি ও ‘বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর তিলাওয়াত’ নির্বাচন
প্রাথমিক পর্যায়ে আবেদনকারীদের তাজবিদ, কণ্ঠের মাধুর্য, তিলাওয়াতের মান ও পরিবেশনা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। চূড়ান্ত পর্বের জন্য নির্বাচিত সেরা প্রতিযোগীদের পবিত্র রমজান মাসে দুবাইয়ে আমন্ত্রণ জানানো হবে এবং তারা শহরের বড় বড় মসজিদে তারাবির নামাজের ইমামতি করার সুযোগ পাবেন। পরবর্তীতে ২০২৭ সালের ৮ থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সাধারণ মানুষের সরাসরি ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত করা হবে ‘বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর কোরআন তিলাওয়াত’।
পেছনের ইতিহাস ও অর্জন
প্রতিষ্ঠার পর থেকে সফলভাবে সম্পন্ন হওয়া ২৮টি আসরে এখন পর্যন্ত ১২৩টি দেশের ৭ হাজার ৮২৬ জন প্রতিযোগী অংশ নিয়েছেন। এই দীর্ঘ যাত্রায় প্রতিভাবান হাফেজ ও কারিদের সম্মান জানাতে বিতরণ করা হয়েছে ৬ কোটি ৭০ লাখ দিরহামের বেশি অর্থ পুরস্কার।
দুবাই আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতার ২৯তম আসর কেবল পুরস্কারের অঙ্কেই নয়, বরং সুযোগের উন্মুক্ততা এবং বিশ্বজুড়ে কোরআনপ্রেমীদের মেলবন্ধনের ক্ষেত্রে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
