সরকারি ১৪৮৫ পদের জন্য আবেদন পড়ল সোয়া ২১ লাখ!
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:০০ এএম
সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সরকারি চাকরির প্রতি তরুণদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে, যার সবচেয়ে বড় প্রমাণ মিলেছে সমাজসেবা অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে। মাত্র ১ হাজার ৪৮৫টি পদের জন্য আবেদন জমা পড়েছে ২১ লাখ ২৩ হাজারের বেশি অর্থাৎ প্রতিটি পদের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রায় ১ হাজার ৪৩০ জন। এই বিশাল সংখ্যক আবেদনকারী সামলাতে গিয়ে এখন হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।
গত মে মাসে ১৩ থেকে ২০তম গ্রেডের অন্তর্ভুক্ত ৫২টি ক্যাটাগরিতে স্থায়ী-অস্থায়ী মিলিয়ে এই পদগুলোর জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছিল অধিদপ্তর, এবং ২ থেকে ২৩ জুন পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন গ্রহণ করা হয়। আবেদন ফি রাখা হয়েছিল পদভেদে ৫০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে।
তবে এত বিপুলসংখ্যক আবেদন পাওয়া সত্ত্বেও তিন মাস পেরিয়ে গেলেও পরীক্ষার তারিখ এখনো ঘোষণা করা সম্ভব হয়নি। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ আবু ইউসুফ জানিয়েছেন, দ্রুততম সময়ে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার উপযুক্ত পদ্ধতি ঠিক করতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কাছে অনুমতি চাওয়া হয়েছে।
অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, এত বড় মাপের নিয়োগ পরীক্ষা পরিচালনার পূর্ব অভিজ্ঞতা তাদের নেই। পরীক্ষাকেন্দ্র বাছাই, প্রশ্নপত্র মুদ্রণ, পরিদর্শক নিয়োগ এবং উত্তরপত্র মূল্যায়নের প্রতিটি ধাপেই তৈরি হয়েছে বড় আকারের লজিস্টিক ও আর্থিক জটিলতা। ফলে লিখিত, ব্যবহারিক (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) ও মৌখিক—এই তিন স্তরের পরীক্ষা কীভাবে সাজানো হবে, তা নিয়ে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা চলমান রয়েছে। অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ মোহাম্মদ মাহবুব বলেন, স্বচ্ছতা বজায় রেখেই দ্রুত নিয়োগ সম্পন্ন করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে, তবে আবেদনকারীর সংখ্যা বিবেচনা করে করণীয় ঠিক করতে মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা প্রয়োজন হচ্ছে।
তুলনামূলক বিচারে, সাম্প্রতিক পাঁচটি সাধারণ বিসিএসের যেকোনো একটির চেয়েও এই নিয়োগে আবেদনকারীর সংখ্যা বেশি। যেমন সর্বশেষ ৫০তম বিসিএসে ২ হাজার ১৫০ পদের জন্য আবেদন জমা পড়েছিল ২ লাখ ৯০ হাজার। এর আগের ৪৯তম, ৪৭তম, ৪৬তম ও ৪৫তম বিসিএসে যথাক্রমে আবেদন এসেছিল ৩ লাখ ১২ হাজার, ৩ লাখ ৭৪ হাজার, ৩ লাখ ৩৭ হাজার ও ৩ লাখ ৪৬ হাজার। এমনকি এবারের আবেদনকারীর সংখ্যা ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী মোট শিক্ষার্থী সংখ্যাকেও (প্রায় ১৮ লাখ ৫৭ হাজার) ছাড়িয়ে গেছে।
শূন্য পদগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি, ৪৭৮টি পদ অফিস সহায়কের, যেখানে যোগ্যতা হিসেবে চাওয়া হয়েছে শুধু এসএসসি পাস। এ ছাড়া ইউনিয়ন পর্যায়ে ৩১২ জন সমাজকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে, যাদের কাজ হবে বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতাসহ নানা সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির উপকারভোগী বাছাই ও যাচাই করা।
অর্থনীতিবিদরা এই বিপুল আবেদনকে দেখছেন বেসরকারি খাতে কর্মসংস্থান সংকটের একটি প্রতিফলন হিসেবে। সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম মনে করেন, বেসরকারি খাতের প্রবৃদ্ধি স্থবির হয়ে থাকার কারণেই মানুষ প্রতিযোগিতামূলক বেতন, চাকরির নিশ্চয়তা ও সামাজিক মর্যাদার আশায় সরকারি চাকরির দিকে ঝুঁকছে। তিনি বলেন, করপোরেট খাতে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়লে সরকারি চাকরির ওপর এই বাড়তি চাপ তৈরি হতো না।
