প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন, যা বলল টিআইবি
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৪২ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে সাংবাদিকের প্রশ্নে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির যে জবাব দিয়েছেন, সেটির নিন্দা ও উদ্বেগ জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উদ্বেগ জানায় সংস্থাটি।
বিজ্ঞপ্তিতে টিআইবি বলেছে, টেকনোক্র্যাট কোটায় দ্বৈত নাগরিকত্বধারীর পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ সংবিধানসম্মত নয়। এ বিষয়ে স্বচ্ছতার সঙ্গে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা না করে পদ গ্রহণও প্রশ্নবিদ্ধ। অথচ জনস্বার্থে পেশাগত দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে সংবাদকর্মীরা যখন এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রশ্ন করেছেন, প্রতিমন্ত্রী তার সরাসরি উত্তর না দিয়ে পালটা প্রশ্ন করেছেন।
ঘটনাটিকে মুক্ত গণমাধ্যম, স্বাধীন সাংবাদিকতা, বাকস্বাধীনতা ও জনগণের তথ্যপ্রাপ্তির অধিকার খর্বের প্রয়াস হিসেবে উল্লেখ করেছে টিআইবি। একই সঙ্গে এমন চর্চা পরিহারের আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির স্বার্থে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর নিয়োগকে কেন্দ্র করে চলমান বিতর্কের মূল বিষয় দ্বৈত নাগরিকত্ব সম্পর্কে নিজের অবস্থান সুস্পষ্ট করারও আহ্বান জানিয়েছে টিআইবি।
এ বিষয়ে সংবিধানের বিধি-বিধান তুলে ধরে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সংবিধানের ৫৬ (২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদ সদস্য নন-এমন ব্যক্তিকে মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগের ক্ষেত্রে তাকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য হতে হবে। অন্যদিকে ৬৬ (২) (গ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অর্জনকারী বা সেই রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য স্বীকারকারী ব্যক্তি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার অযোগ্য। একই সঙ্গে ৬৬ (২ক) অনুচ্ছেদে দ্বৈত নাগরিকত্বের ক্ষেত্রে বিদেশি নাগরিকত্ব ত্যাগের বিষয়টিও সুস্পষ্ট। ফলে দ্বৈত নাগরিকত্ব বহাল থাকা অবস্থায় টেকনোক্র্যাট কোটায় তার (পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির) নিয়োগ সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ফলে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের সময় তার বিদেশি নাগরিকত্ব বহাল ছিল কিনা- এমন একটি সুস্পষ্ট সাংবিধানিক ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেওয়া তার দায়িত্ব।
