Logo
Logo
×
   

জাতীয়

জমির খতিয়ানে ভুল হলে আইনগত প্রতিকার কী?

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৯:১৩ পিএম

জমির খতিয়ানে ভুল হলে আইনগত প্রতিকার কী?

ছবি: সংগৃহীত

জমির খতিয়ানে ভুল পাওয়া বর্তমানে একটি সাধারণ সমস্যা। কখনো নামের বানান, কখনো দাগ নম্বর বা জমির অংশে ভুল থাকে। এমনকি জালিয়াতি করে অন্যের জমিও নিজের নামে করার ঘটনা ঘটে। তবে ২০২১ সালের নতুন গেজেট অনুযায়ী, এসব সমস্যার আইনি সমাধান এখন অনেক সহজ। জমির খতিয়ান সংশোধন ও হারানো খতিয়ান উদ্ধারের বিস্তারিত প্রক্রিয়া নিচে বর্ণনা করা হল-

১. খতিয়ানে ভুল থাকলে কোথায় আবেদন করবেন? (মিস কেস করার নিয়ম)

ভূমি মন্ত্রণালয়ের ২০২১ সালের ২৯ জুলাই প্রকাশিত গেজেট (পরিপত্র নং ৩৪৩) অনুযায়ী, খতিয়ানে যে কোনো করণিক ভুল থাকলে আপনি সরাসরি সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ডের কাছে আবেদন করতে পারেন।

আবেদন পদ্ধতি: একটি সাদা কাগজে আবেদন লিখে তার সাথে ২০ টাকার কোর্ট ফি সংযুক্ত করতে হবে।

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র: মালিকানা সংশ্লিষ্ট দলিল, আগের খতিয়ানের কপি এবং জাতীয় পরিচয়পত্র।

আইনি সুযোগ: এই প্রক্রিয়ায় নামের ভুল, দাগ নম্বর বা অংশের ভুল সংশোধন করা সম্ভব।

২. প্রতারণা বা জালিয়াতির মাধ্যমে খতিয়ান হলে করণীয়

যদি কেউ জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে অন্যের জমি নিজের নামে খতিয়ান করে নেয়, তবে ঘাবড়ানোর কিছু নেই।

মিস কেস (Miss Case): জালিয়াতি বা ভুল খতিয়ান বাতিলের জন্য এসিল্যান্ড বরাবর 'মিস কেস' আবেদন করা যায়।

শুনানি ও তদন্ত: আবেদন পাওয়ার পর এসিল্যান্ড উভয় পক্ষকে শুনানিতে ডাকবেন এবং নথিপত্র যাচাই করবেন। প্রমাণ সাপেক্ষে আগের সঠিক মালিকের নামে খতিয়ান ফিরিয়ে দেওয়ার আইনি সুযোগ রয়েছে।

৩. খারিজ খতিয়ানের মূল কপি হারিয়ে গেলে কী করবেন?

আপনার নামজারি বা খারিজ খতিয়ানের মূল কপি হারিয়ে গেলে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুন:

থানায় জিডি: প্রথমে নিকটস্থ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (GD) করুন।

আবেদন: জিডির কপি ও ২০ টাকার কোর্ট ফি দিয়ে এসিল্যান্ড অফিসে নতুন কপির জন্য আবেদন করুন।

ডিসিআর (DCR) সংগ্রহ: আবেদন অনুমোদিত হলে মাত্র ১০০ টাকা ফি জমা দিয়ে আপনি নতুন খতিয়ান সংগ্রহ করতে পারবেন।

৪. S.A, C.S, R.S বা B.S খতিয়ান তোলার নিয়ম

জরিপের পুরাতন খতিয়ান (যেমন: CS, SA, RS বা BS) হারিয়ে গেলে বা প্রয়োজন হলে জেলা প্রশাসকের (DC) কার্যালয়ের রেকর্ড রুম থেকে তা সংগ্রহ করা যায়। এক্ষেত্রে আপনার মৌজা নম্বর ও খতিয়ান নম্বর উল্লেখ করে আবেদন করতে হবে।

৫. খতিয়ান সংশোধনে কত সময় এবং খরচ লাগে?

সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, নামজারি বা খতিয়ান সংশোধনের পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হতে সাধারণত ৩০ থেকে ৪৫ দিন সময় লাগে। আবেদন করার পর ইউনিয়ন ভূমি অফিস থেকে প্রতিবেদন চাওয়া হয়। প্রতিবেদন আসার পর উভয় পক্ষকে শুনানির জন্য ডাকা হয়। কোনো আপত্তি না থাকলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সংশোধিত খতিয়ান হস্তান্তর করা হয়।

৬. খতিয়ান সংশোধনের আইনি ধারা

ভূমি আইন অনুযায়ী সহকারী কমিশনার (ভূমি) নির্দিষ্ট কিছু ক্ষমতা ভোগ করেন:

১৪৩ ধারা (State Acquisition and Tenancy Act, 1950): এই ধারা অনুযায়ী করণিক ভুল (নাম, দাগ, অংশ) সংশোধনের ক্ষমতা এসিল্যান্ডের রয়েছে।

২৩(৩) ও ২৩(৪) বিধিমালা (১৯৫৫): এই বিধিমালার আওতায় তদন্ত ও শুনানির মাধ্যমে খতিয়ানের জটিল ভুল বা জালিয়াতি সংশোধন করা হয়।

বাস্তবে অনেক সময় ভূমি অফিসে অনীহা দেখা যেতে পারে বা আদালতের পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে নিয়ম অনুযায়ী এসিল্যান্ড এই সমস্যাগুলো সমাধান করতে বাধ্য। সঠিক তথ্য ও কাগজপত্র সাথে থাকলে হয়রানি ছাড়াই আপনার জমির অধিকার রক্ষা করা সম্ভব।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম