Logo
Logo
×

জাতীয়

জিয়া-খালেদা-তারেকের মতো একই পরিবারে তিন সরকার প্রধান ছিলেন যারা

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৬:০৯ পিএম

জিয়া-খালেদা-তারেকের মতো একই পরিবারে তিন সরকার প্রধান ছিলেন যারা

দেড় দশক পর দেশে একটি উৎসবমুখর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে ঐতিহাসিক জয় পেয়েছে বিএনপি। দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন নিয়ে সরকারও গঠন করছে জাতীয়তাবাদী দলটি। এর মাধ্যমে প্রায় দুই দশক পর ক্ষমতার মসনদে ফিরে আসার এক বিরল মাইলফলক অর্জন করেছে তারেক রহমান নেতৃত্বাধীন বিএনপি। একই সঙ্গে দলটির ঝুড়িতে জমা হয়েছে আরো দুটি রেকর্ড, আর তা হলো- একই পরিবার থেকে তিনজন সরকার প্রধান হওয়ার গৌরব।

আগামীকাল মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) নতুন সরকার গঠনের মাধ্যমে বিরল এ নজিরের অংশ হচ্ছে জিয়া পরিবার।  এই পরিবার থেকে বিএনপি প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ও তার স্ত্রী খালেদা জিয়ার পর এবার বাংলাদেশ শাসনের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিচ্ছেন তাদের সন্তান তারেক রহমান। পৃথিবীতে এমন ইতিহাস গুটি কয়েক পরিবারের আছে। এর মধ্যে পাকিস্তানের ভুট্টো, ভারতের গান্ধী ও থাইল্যান্ডের সিনাওয়াত্রা পরিবার অন্যতম।

আরব বিশ্ব ও কয়েকটি দেশের রাজ পরিবার বাদে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় যেসব দেশের বিভিন্ন পরিবারের একাধিক সদস্য দেশ পরিচালনা করেন, তাদের বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:

বাংলাদেশের জিয়া পরিবার

১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহী জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে দেশের শাসন ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসে। ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন প্রয়াত জিয়াউর রহমান বীর উত্তম। দলীয় তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল তৎকালীন রাষ্ট্রপতি এ এস এম সায়েম পদত্যাগ করলে জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপতি হন।

১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর বিএনপি গঠনের মাধ্যমে নতুন রাজনৈতিক দলের আবির্ভাব ঘটান জিয়াউর রহমান। তিনি থাকেন দলটির চেয়ারম্যান পদে। ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সেনাবাহিনীর কিছু বিপথগামী সদস্যের হাতে জিয়াউর রহমান খুন হন। তখন খালেদা জিয়া ছিলেন একজন গৃহিণী। দলের হাল ধরেন তিনি। যুক্ত হন স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলনে। ১৯৯১ সালের পর থেকে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে তিন বার সরকার গঠন করে বিএনপি। এবার চতুর্থ দফায় তাদের ছেলে তারেক রহমান দেশ পরিচালনার ভার পেলেন।

বিএনপির দলীয় সূত্র অনুযায়ী, বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি সাধারণ নির্বাচনে একাধিক আসনে দাঁড়িয়ে কখনোই কোনোটিতে না হারার অনন্য রেকর্ডও আছে খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে। গত ৩০ ডিসেম্বর বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ইন্তেকাল করেন।

মায়ের মৃত্যুর পর বিএনপির চেয়ারম্যান হন তারেক রহমান। গত ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার নেতৃত্বে দলটি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়। এখন বাবা-মায়ের পর তিনিও দেশ চালানোর দায়িত্ব নিচ্ছেন। এর আগে গত ২৫ ডিসেম্বর ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন ছেড়ে যুক্তরাজ্যের লন্ডন থেকে দেশে ফেরেন তিনি।

পাকিস্তানের ভুট্টো পরিবার

জুলফিকার আলী ভুট্টোর হাত ধরে তার পরিবারে রাষ্ট্রক্ষমতা আসে। পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন তিনি। ১৯৬৭ সালের ৩০ নভেম্বর দলটি প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। এর মাত্র তিন বছর পর, ১৯৭০ সালের নির্বাচনে পিপিপি তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানে (বর্তমান পাকিস্তান) বড় জয় পায়। তার দল পশ্চিম পাকিস্তানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে, কিন্তু পূর্ব পাকিস্তানের আওয়ামী লীগ সার্বিক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করা সত্ত্বেও তাদের ওপর ক্ষমতা অর্পণে ভুট্টো আপত্তি জানান। 

১৯৭১ সালের বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে পাকিস্তানের পরাজয়ের পর ১৬ ডিসেম্বর পরাজয় মেনে রাষ্ট্রক্ষমতা ছাড়েন জেনারেল ইয়াহিয়া খান। তার স্থলে দেশটির রাষ্ট্রপতি হন ভুট্টো। ১৯৭৩ সালে দেশের সংবিধান পরিবর্তনের মাধ্যমে তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর পদ গ্রহণ করেন। ১৯৭৭ সালে পুনরায় প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন তিনি, কিন্তু অল্প দিনের মধ্যেই জেনারেল জিয়াউল হক নেতৃত্বাধীন এক সামরিক অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হন। এক ব্যক্তিকে হত্যার ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৯৭৯ সালে সামরিক আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ডে দন্ডিত করে। ফাঁসিতে ঝুলিয়ে ভুট্টোর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। 

পরে পিপিপির হাল ধরেন জুলফিকার আলীর মেয়ে বেনজির ভুট্টো। তার রাজনৈতিক দক্ষতা দেখিয়ে সরকারপ্রধান হন। তিনি পাকিস্তান তথা পুরো মুসলিম বিশ্বের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবেও ইতিহাসে নাম লেখান।

বেনজির প্রথম প্রধানমন্ত্রী হন ১৯৮৮ সালের ডিসেম্বরে। এই মেয়াদে তিনি ১৯৯০ সালের আগস্ট পর্যন্ত মসনদে ছিলেন। এরপর ১৯৯৩ সালের অক্টোবরে আবার সরকারপ্রধান হন বেনজির ভুট্টো। ক্ষমতায় ছিলেন ১৯৯৬ সালের নভেম্বর পর্যন্ত। ২০০৭ সালের ২৭ ডিসেম্বর রাওয়ালপিন্ডির লিয়াকত বাগে নির্বাচনি সমাবেশে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন বেনজির।

বেনজিরের স্বামী আসিফ আলী জারদারি পাকিস্তানের বর্তমান প্রেসিডেন্ট। ২০২৪ সালের মার্চে এ দায়িত্ব নেন তিনি। এর আগে ২০০৮ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত প্রথম দফায় পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ছিলেন তিনি। আসিফ আলী জারদারি বর্তমানে পিপিপির কো-চেয়ারম্যান। দলটির চেয়ারম্যানের দায়িত্বে আছেন বেনজিরের ছেলে বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি।

ভারতের গান্ধী পরিবার

১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট ব্রিটিশদের কাছ থেকে স্বাধীন হয় ভারত। নতুন দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হন জওহরলাল নেহরু। দেশটির জাতীয় কংগ্রেসের এই নেতা স্বাধীনতা সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাও রাখেন। ভারতে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায়ও নেহেরুর ভূমিকা আছে। 

নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিন অসুস্থতায় কাতরানোর পর ১৯৬৪ সালের ২৭ মে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে মারা যান প্রধানমন্ত্রী নেহরু। তার পরিবার থেকে ভারতের তিনজন প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। পরের নামটি নেহরুর মেয়ে ইন্দিরা গান্ধীর।

ইন্দিরা দুই মেয়াদে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। ১৯৬৬ সালের জানুয়ারিতে তিনি সরকারপ্রধানের দায়িত্ব নেন। মসনদে ছিলেন ১৯৭৭ সালের মার্চ পর্যন্ত। এরপর ১৯৮০ সালে আবার তার নেতৃত্বে কংগ্রেস সরকার গঠন করে। এ দফায় তিনি ক্ষমতায় ছিলেন ১৯৮৪ সালের অক্টোবর পর্যন্ত। ভারতের প্রথম ও একমাত্র নারী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার রেকর্ডও তার ঝুড়িতে জমা হয়েছে। পরে ১৯৮৪ সালের ৩১ অক্টোবর নয়াদিল্লিতে দুই শিখ দেহরক্ষীর গুলিতে নিহত হন ইন্দিরা।

মায়ের মরদেহ রেখে ওই দিনই ইন্দিরার ছেলে রাজীব গান্ধীকে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে শপথ নিতে হয়। তখন রাজীব গান্ধীর বয়স ছিল ৪০ বছর। এখন পর্যন্ত তিনি ভারতের সবচেয়ে কম বয়সী প্রধানমন্ত্রী। নানা ও মায়ের মতো দক্ষ হাতে দেশ চালিয়েছিলেন তিনিও। 

মা ইন্দিরা গান্ধীর মৃত্যুর সাত বছর পর একই ভাগ্য বরণ করতে হয় ছেলে রাজীব গান্ধীকেও। ১৯৯১ সালের ২১ মে তামিলনাড়ু রাজ্যের চেন্নাইয়ে নির্বাচনি প্রচার চালাতে গিয়ে আত্মঘাতী বোমায় নিহত হন তিনি।

থাইল্যান্ডের সিনাওয়াত্রা পরিবার

থাইল্যান্ডের বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ও ধনকুবের থাকসিন সিনাওয়াত্রা। ফেউ থাই পার্টির এ নেতা ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল মেয়াদে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। পরে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে দেশটিতে ব্যাপক আন্দোলন হয় এবং ২০০৬ সালেই সামরিক অভ্যুত্থানে তার সরকারের পতন ঘটে। তিনি নির্বাসনে চলে যান এবং তার অনুপস্থিতিতে তার দুবছরের সাজাও হয়।

নির্বাসনে থেকেই রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করতে থাকেন থাকসিন। এক পর্যায়ে তাদের দল আবার নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়। থাইল্যান্ডের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মসনদে বসেন তার বোন ইংলাক সিনাওয়াত্রা। ২০১১ সালের সাধারণ নির্বাচনে তিনি ফেউ থাই পার্টি থেকে বিজয়ী হয়ে ২৮তম প্রধানমন্ত্রী নিবার্চিত হন। 

কিন্তু তারও পরিণতি অনেকটা ভাইয়ের মতো হয়। ২০১৪ সালের ৭ মে থাইল্যান্ডের সাংবিধানিক আদালত ইংলাক সিনাওয়াত্রাকে ২০১১ সালে জাতীয় নিরাপত্তা প্রধানকে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত করে ক্ষমতাচ্যুত করে। আদালতের রায়ের পরপরই, ২০১৪ সালের মেতে থাই সামরিক বাহিনী একটি রক্তপাতহীন অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করে এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করে। এছাড়া ধান ভর্তুকি দুর্নীতি মামলায় তাকে পাঁচ বছরের সাজা দেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৫ সালে তাকে পাঁচ বছরের জন্য রাজনীতি থেকে নিষিদ্ধ করা হয়। ২০১৭ সালের আগস্টে চাল কেলেঙ্কারি মামলার রায় ঘোষণার আগে তিনি দেশ থেকে পালিয়ে যান এবং পরে তার অনুপস্থিতিতে ৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। 

থাকসিন ও ইংলাকের পরিণতি রাজনীতিতে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ফেললেও তা বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। আবার মাঠে ফিরে এসেছে এই পরিবার।  ২০২৩ সালে ফেউ থাই পার্টির নেতা হন পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রা।  একাধারে রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী এই নারী নারী থাকসিনের সর্বকনিষ্ঠ মেয়ে ও ইংলাকের ভাতিজি। বাবা ও ফুফুর উত্তরসূরী হিসেবে থাইল্যান্ডের সর্বকনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মসনদে বসেন ২০২৪ সালে।  ওই বছরের ১৬ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর বেশি দিন চেয়ারটিতে থাকতে পারেননি। পরের বছর ২৯ আগস্ট তাকে ক্ষমতা ছাড়তে হয়।

তার বিরুদ্ধেও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। এর মধ্যে অন্যতম ছিল ফোনকল ক্যালেঙ্কারি।  ২০২৫ সালের ১৮ জুন পেতংতার্ন কম্বোডিয়ান রাজনীতিবিদ ও সাবেক সামরিক কর্মকর্তা হুন সেনের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছিলেন। ৯ মিনিটের একটি অংশ ফাঁস হয়েছিল। হুন সেন স্বীকার করেন যে, তিনি ১৫ জুনের ফোনালাপটি রেকর্ড করেছিলেন এবং এটি প্রায় ৮০ জন কাম্বোডীয় কর্মকর্তার কাছে বিতরণ করেছিলেন। পরে ১৮ জুনেই, হুন সেন পুরো ১৭ মিনিটের ফোনালাপটি ফেসবুকে প্রকাশ করেন, যাতে কোনও ভুল বোঝাবুঝি বা ভুল ব্যাখ্যা না হয়। একই দিন, পেতংতার্ন স্বীকার করেন যে ফাঁস হওয়া ফোনালাপে যিনি কথা বলছিলেন, তিনি-ই ছিলেন। এ কারণে তাকে আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয়।

আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, ওই ফোনকলে নৈতিকতা লঙ্ঘন করেছিলেন পেতংতার্ন।  এ কারণে সরকারপ্রধানের পদ হারান ফেউ থাই পার্টির এ নেত্রী। 

শ্রীলঙ্কার বন্দরানায়েকে পরিবার

বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও ভারতের মতো বিরল রেকর্ড আছে শ্রীলঙ্কার এসডব্লিউআরডি বন্দরনায়েকের পরেবারের। তিনি ছিলেন দেশটির চতুর্থ ও অত্যন্ত প্রভাবশালী প্রধানমন্ত্রী। ১৯৫৬ সালের এপ্রিলে সরকারপ্রধানের দায়িত্ব নেন তিনি। এর আগে ১৯৫১ সালে প্রতিষ্ঠা করেন রাজনৈতিক দল শ্রীলঙ্কা ফ্রিডম পার্টি। তাকে আধুনিক শ্রীলঙ্কার (তখনকার সিলন) অন্যতম প্রভাবশালী নেতা ধরা হয়। ১৯৫৯ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর আততায়ীর গুলিতে নিহত হন বন্দরনায়েকে।

স্বামীর মৃত্যুর পর শ্রীলঙ্কা ফ্রিডম পার্টির হাল ধরেন বন্দরনায়েকের স্ত্রী শ্রীমাভো বন্দরনায়েকে। দক্ষ হাতে দল পরিচালনা করেছেন তিনি। সেই সঙ্গে সরকার চালানোর গুরু দায়িত্বও কয়েক দফায় সামলেছেন। ১৯৬০ সালের জুলাইয়ে শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন শ্রীমাভো। শুধু শ্রীলঙ্কা নয়, পুরো বিশ্বের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তিনি। ক্ষমতায় ছিলেন ১৯৬৫ সালের মার্চ পর্যন্ত।

এরপর ১৯৭০ সালের মে মাসে দ্বিতীয় দফায় শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী হন শ্রীমাভো বন্দরনায়েকে। সরকারপ্রধানের দায়িত্বে ছিলেন ১৯৭৭ সালের জুলাই পর্যন্ত। ১৯৯৪ সালের নভেম্বরে শ্রীমাভো তৃতীয় মেয়াদে দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন। তখন তার মেয়ে চন্দ্রিকা কুমারাতুঙ্গা দেশের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। রাষ্ট্রপ্রধান পদে মেয়ে আর সরকারপ্রধান পদে মা—এমন নজির বিশ্বে বিরল।

শ্রীমাভো বন্দরনায়েকে শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী পদে ছিলেন ২০০০ সালের আগস্ট পর্যন্ত। এরপর রাজনীতি থেকে অবসরে যান তিনি। এরও মাসদুয়েক পরে ২০০০ সালের অক্টোবরে তার মৃত্যু হয়।

এসডব্লিউআরডি বন্দরনায়েকে ও শ্রীমাভো বন্দরনায়েকে দম্পতির মেয়ে চন্দ্রিকা কুমারাতুঙ্গা। বাবা-মায়ের পথ ধরে তিনিও শ্রীলঙ্কার রাজনীতিতে সফল একজন ব্যক্তি। চন্দ্রিকা কুমারাতুঙ্গা দেশের প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী-দুই পদেই ছিলেন। ১৯৯৪ সালের আগস্টে শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী হন তিনি। একই বছরের নভেম্বর পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিলেন। স্বল্প মেয়াদের প্রধানমন্ত্রিত্বের পর মায়ের হাতে সরকারপ্রধানের দায়িত্ব ছেড়ে দেন তিনি। চন্দ্রিকা হন প্রেসিডেন্ট। ১৯৯৪ সালের নভেম্বরে দায়িত্ব নেওয়ার পর চন্দ্রিকা ২০০৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত টানা রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্বে ছিলেন।

উত্তর কোরিয়ার কিম পরিবার

মধ্যপ্রাচ্যের বা আরব দেশ না হলেও রাজপরিবারের মতো রাষ্ট্রক্ষমতায় আছে উত্তর কোরিয়ার কিম পরিবার।  বাবা, ছেলে ও নাতি—একই পরিবারের তিন প্রজন্মের তিনজনের রাষ্ট্রক্ষমতায় যাওয়ার উদাহরণ আছে দেশটিতে। কিম পরিবার ১৯৪৮ সাল থেকে উত্তর কোরিয়া শাসন করছে।

দেশটি প্রতিষ্ঠার শুরু থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত নেতৃত্ব দিন কিম ইল-সাং।  তিনি উত্তর কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন ১৯৪৮ সাল থেকে ১৯৭২ সাল এবং ১৯৭২ সাল থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত উত্তর কোরিয়ার প্রথম রাষ্ট্রপতি ছিলেন। তিনি কোরীয় ওয়ার্কার্স পার্টিরও নেতা ছিলেন ১৯৪৯ থেকে ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত। 

কিম ইল-সাংয়ের মৃত্যুর পর ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক এবং উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা (প্রেসিডেন্ট) হন তার ছেলে কিম জং-ইল। ২০১১ সালের ডিসেম্বরে মারা যান তিনি। আমৃত্যু এ পদে ছিলেন। কিম জং-ইলের উত্তরসূরি হন তারই ছেলে কিম জং-উন। ২০১১ সাল বাবার মৃত্যুর পর যখন কিম জং-উন রাষ্ট্রক্ষমতা নেন তখন তার বয়স ছিল ২০ বছরের কাছাকাছি।

উত্তর কোরিয়ায় কিম জং-উনের উত্তরসূরি বিবেচনা করা হচ্ছে তার কিশোরী মেয়ে কিম জু-আয়েকে। যদিও এখনো বিষয়টি স্পষ্ট নয়, কারণ তার বোন কিম ইয়ো-জং উত্তর কোরিয়ার রাজনীতির অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব, কূটনীতিক এবং ওয়ার্কার্স পার্টির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। কিম দীর্ঘ দিন তাকে খুব কাছে রেখেছেন এবং শাসনের নানা কাজে তাকে পাশে রেখেছেন। এ কারণে তাদের দুজনের যে কেউ পরবর্তী সরকার বা রাষ্ট্রপ্রধান হতে পারেন।

উইকিপিডিয়া ও দলীয় তথ্য ভাণ্ডার থেকে এসব তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম