চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব: ‘পাঁচ বছরেও এমন কাজ হয়নি’
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:১৭ পিএম
ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব দাবি করেছেন, টেলিকম ও আইসিটি খাতে অল্প কয়েক মাসে যে পরিমাণ ভিত্তিগত (ফাউন্ডেশনাল) সংস্কার তিনি ও তার টিম সম্পন্ন করেছেন- পৃথিবীর কোনো দেশ পাঁচ বছরেও এত কাজ করতে পারেনি। তিনি প্রকাশ্যেই এ নিয়ে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন।
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি এসব কথা লেখেন। এর আগে শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে তিনি দেশ ত্যাগ করেন।
‘লাইসেন্স দেইনি, দুর্নীতির স্কোপ রাখিনি’
ফেসবুক পোস্টে ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব লেখেন, টেলিকম খাতে দুর্নীতির অন্যতম প্রধান উৎস হলো লাইসেন্স প্রদান। বাংলাদেশের ইতিহাসে দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রী হিসেবে তিনি কোনো লাইসেন্স দেননি বলে দাবি করেন। তার ভাষ্য, লাইসেন্স না দেওয়ার ফলে দুর্নীতির সুযোগও তৈরি হয়নি, যদিও এতে বিভিন্ন মহলের অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও মন্তব্য করেন, প্রয়োজন হলে এসব বিষয়ে বিস্তারিত বলবেন। তার কাজ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এতে দেশের উপকার হবে।
আইসিটি খাতে যেসব আইন ও নীতিমালা
সংস্কার কার্যক্রম মূল্যায়নের জন্য তিনি পাঠকদের কয়েকটি আইন ও নীতিমালা পড়ার অনুরোধ জানান। তার মতে, এগুলো বুঝলে তার টিম ও অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের কাজের যথাযথ মূল্যায়ন সম্ভব হবে।
আইসিটি খাতে উল্লেখিত পদক্ষেপগুলো হলো—
- সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫ (গেজেট প্রকাশিত)
- ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫ (গেজেট প্রকাশিত)
- ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা (সংশোধনী) অধ্যাদেশ ২০২৬ (গেজেট প্রকাশিত)
- জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ ২০২৫ (গেজেট প্রকাশিত)
- ন্যাশনাল সোর্স কোড পলিসি ২০২৬ (আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় গৃহীত)
- ন্যাশনাল এআই পলিসি ২০২৬ (ড্রাফট প্রকাশিত)
- ন্যাশনাল ক্লাউড পলিসি ২০২৬ (ড্রাফট প্রকাশিত)
তার দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষকদের জন্য বাংলাদেশের ডেটা গভর্নেন্স ফ্রেমওয়ার্ক বোঝা গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য টেলিকম সার্ভেইলেন্স কাঠামো থেকে ডাক আইন পর্যন্ত প্রায় ২০০ পৃষ্ঠার নীতিমালা অধ্যয়ন প্রয়োজন।
টেলিকম খাতে বড় রদবদল
ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব দাবি করেন, আওয়ামী লীগের আমলের সব টেলিকম আইন, নীতিমালা ও গাইডলাইন পরিবর্তন করা হয়েছে এবং নতুন পারফরম্যান্স বেঞ্চমার্কিং চালু করা হয়েছে।
টেলিকম খাতে তার উল্লেখিত সংস্কারসমূহ—
- বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন লাইসেন্স ও নেটওয়ার্কিং পলিসি ২০২৫ (গেজেট প্রকাশিত)
- টেলিযোগাযোগ (সংশোধনী) অধ্যাদেশ ২০২৬ (গেজেট প্রকাশিত)
- ন্যাশনাল সার্ভেইল্যান্স প্রসেস প্রস্তাবনা ২০২৬ (চূড়ান্ত প্রতিবেদন)
- টেলিকম নেটওয়ার্ক লাইসেন্সের নতুন গাইডলাইন ২০২৬ (গৃহীত)
- রোলআউট অব্লিগেশন ও কেপিআই বেঞ্চমার্কিং ২০২৫ (গৃহীত)
তার ভাষায়, এটি ছিল ‘ম্যামথ টাস্ক’, এবং ইন্ডাস্ট্রির সিইও ও সিটিওদের কাছে এ বিষয়ে জানতে বলা যেতে পারে।
ডাক বিভাগে রূপান্তরের উদ্যোগ
ডাক বিভাগেও মৌলিক পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করেন তিনি। এর মধ্যে রয়েছে—
- ডাকসেবা অধ্যাদেশ ২০২৬, যার মাধ্যমে ১৮৯৮ সালের পুরোনো ডাক আইন পরিবর্তন
- নতুন ঠিকানা ব্যবস্থাপনা ও ম্যাপিং (ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যাডাপ্টেশনসহ)
- ডিজিটাল পার্সেল ও পোস্টাল ট্র্যাকিং
- ই-কমার্স রূপান্তরের জন্য সেন্ট্রাল লজিস্টিক্স ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্ম (নতুন CLTP ফ্রেমওয়ার্ক)
প্রকাশিত দুই কৌশলপত্র
বিদায়ের আগে দুটি কৌশলগত বই প্রকাশের কথাও জানান তিনি—
1. National Digital Transformation Strategy 2025–2030
2. Posts & Telecommunications Transformation Strategy 2025–2030
তার আহ্বান, ব্যক্তিকে তার কাজের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হোক; অন্যথায় ভবিষ্যতে দক্ষ জনবল রাষ্ট্রীয় কাজে আগ্রহ হারাবে।
ডেটা গভর্নেন্স ও ‘ওয়ান আইডি’ পরিকল্পনা
তিনি জানান, ন্যাশনাল ডেটা গভর্নেন্স ইন্টার-অপারেবিলিটি ও ওয়ান আইডি ম্যানেজমেন্ট প্রকল্পের ডিপিপি প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ডিজিটাল ‘আইল্যান্ড’ সংযুক্ত হবে এবং আইডি ডেটা ফিল্ড ম্যাপিং করা হবে।
ডেটা গভর্নেন্স অথরিটি ডেটা শেয়ারিং, ইন্টারঅপারেবিলিটি কমপ্লায়েন্স ও সাইবার নিরাপত্তা তদারক করবে। ন্যাশনাল রেসপন্সিবল ডেটা এক্সচেঞ্জ (NRDeX) নিয়ে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে কাজের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
এছাড়া ‘ন্যাশনাল সার্ভিস বাস’ বা ‘ন্যাশনাল এপিআই এক্সচেঞ্জ হাব’ গঠনের পরিকল্পনার কথা বলেন, যা ভবিষ্যতে মন্ত্রণালয়গুলোর ফ্রন্ট ডেস্কের বিকল্প হবে।
‘নোট টু সাকসেসর’ ও শেষ চ্যালেঞ্জ
ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব জানান, দায়িত্ব ছাড়ার আগে তিনি ‘নোট টু সাকসেসর’ লিখে গেছেন—যা বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম বলে দাবি করেন। তার মতে, ভবিষ্যৎ দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি একটি প্রস্তুত বেজলাইনের ওপর কাজ শুরু করার সুযোগ পাবেন।
সবশেষে তিনি আবারও চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেন—
পৃথিবীর কোনো দেশে এত ফাউন্ডেশনাল কাজ পাঁচ বছরেও হয়নি।
তিনি পাঠকদের আইন, নীতিমালা ও কৌশলপত্র পড়ে আলোচনা শুরু করার আহ্বান জানান এবং ভবিষ্যতে প্রকল্প ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত লেখার আশ্বাস দেন।
