Logo
Logo
×
   

জাতীয়

হঠাৎ কেন বন্ধ হচ্ছে গুলশানে ভূগর্ভস্থ বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র নির্মাণ

Icon

হামিদ-উজ-জামান

প্রকাশ: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:৪৩ পিএম

হঠাৎ কেন বন্ধ হচ্ছে গুলশানে ভূগর্ভস্থ বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র নির্মাণ

গ্রীষ্মকালে লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে যায় জনগণ। গ্রাম থেকে শহর- সবখানেই প্রচণ্ড গরমে নাজেহাল হয় মানুষ। সেই কষ্ট থেকে রাজধানীর গুলশানবাসীকে নিস্তার দেওয়ার জন্য দেশে প্রথম একটি ভূগর্ভস্থ বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সে অনুযায়ী নেওয়া হয় বড় পরিকল্পনা। পাওয়া গিয়েছিল অর্থদাতাও। পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ শুরু করেছিলেন প্রকল্প বাস্তবায়নকারীরা। শুরুতেই হোচট খেয়েছেন তারা। এগোয়নি কর্মসূচি, একপর্যায়ে বন্ধই হয়ে গেছে স্বপ্নের প্রকল্পটি।

গুলশানে মাটির নিচে বিদ্যুতের গ্রিড উপকেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ থেকে সরে আসছে সরকার। প্রকল্পটি কাজ শেষ না করেই সমাপ্ত ঘোঘণা করতে যাচ্ছে বিদ্যুৎ বিভাগ। ইতোমধ্যে ‘ঢাকার গুলশানে ১৩২/৩৩/১১ কেভি ভূগর্ভস্থ গ্রিড উপকেন্দ্র নির্মাণ’ প্রকল্পের সংশোধনী প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা হয়। ভাবিষ্যতে এমন প্রকল্প যাতে নেওয়া না হয়, সেদিকে সতর্ক থাকতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে সভায়। 

প্রকল্প বন্ধের কারণে প্রায় ৭৮ কোটি টাকা ক্ষতি হলো। এই টাকা শুধু পরামর্শকদের বেতন ভাতা এবং ড্রইং ডিজাইনের পেছনে খরচ করা হয়েছে। এর মধ্যে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) ঋণের ৪২ কোটি ৯৬ লাখ, সরকারি তহবিলের ১৯ কোটি ৫৪ লাখ এবং বাস্তবায়নকারী সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে ১৫ কোটি ৩১ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশনের এক কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, জাইকার নিজস্ব সম্ভাব্যতা সমীক্ষার ওপর নির্ভর করে প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হয়। কিন্তু বাস্তবায়ন পর্যায়ে দরপত্র প্রক্রিয়ায় প্রাক্কলিত ব্যয়ের চেয়ে ৯৬ শতাংশ বেশি দামে টেন্ডার দাখিল করেন ঠিকাদাররা। এছাড়া মাটির নিচে কারণে অনেক বেশি ব্যয়বহুল হওয়ায় বিপাকে পড়ে বাস্তবায়নকারী সংস্থা ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেড (ডেসকো)। এ কারণে এটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। 

সূত্র জানায়, প্রকল্পটির অনুমোদিত ব্যয় ধরা হয়েছিল ৯৫০ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিলের ২৪৭ কোটি ৩৭ লাখ, জাইকার ঋণের ৬২৮ কোটি ৯৬ লাখ এবং বাস্তবায়নকারী সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে ৭৪ কোটি ৬২ লাখ টাকা ব্যয় করার কথা ছিল। ২০১৮ সালের জুলাই থেকে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সাড়ে ৫ বছরে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য ছিল। কিন্তু ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্পের আওতায় খরচ হয়েছে ৭৭ কোটি ৮১ লাখ টাকা। আর্থিক অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ১৮ শতাংশ এবং বাস্তবে পরিকল্পিত লক্ষ্যমাত্রার ১০ দশমিক ৩৫ শতাংশ অগ্রগতি হয়েছে। এ অবস্থায় প্রকল্পটি বন্ধে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। ওই সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রকল্প সংশোধনের উদ্যোগ নেয় বিদ্যুৎ বিভাগ। এজন্য ২০২৫ সালের ১৬ অক্টোবর প্রথম পিইসি সভা হয়। ওই সভায় ১১টি সুপারিশ দেওয়া হয়।

এসব প্রতিপালন করে সংশোধিত ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়। এখন দ্বিতীয় পিইসি সভা হয়ে সংশোধন প্রক্রিয়া শেষ করা হলো।

জানা যায়, দ্বিতীয় পিইসি সভায় অংশ নিয়ে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) প্রতিনিধি বলেন, জাইকার ঋণে সুদের হার আগে কম থাকলেও সাম্প্রতিককালে তা বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই বৈদেশিক ঋণে প্রকল্প নিতে সচেতন থাকতে হবে। এছাড়া সঠিকভাবে যাচাই-বাছাই করে সম্ভাব্যতা সমীক্ষার মাধ্যমে সতর্কভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

প্রকল্পের শুরু থেকে বর্তমান পর্যন্ত অনিষ্পন্ন বিষয়াদি, অডিট আপত্তি ও তা নিষ্পত্তির বিষয়ে সভায় জানতে চাওয়া হয়। এর জবাবে প্রকল্প পরিচালক বলেন, এ পর্যন্ত ৪টি অডিট আপত্তির মধ্যে ২টি নিষ্পত্তি হয়েছে। অন্য দুটি আপত্তি নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। সভার সভাপতি পরিকল্পনা কমিশনের শিল্প ও শক্তি বিভাগের সদ্য সাবেক হওয়া সদস্য (সিনিয়র সচিব) মোখলেস উর রহমান বলেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রযুক্তিঘন এবং ব্যয়বহুল প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে অবশ্যই সম্ভাব্যতা সমীক্ষা যথাযথভাবে করতে হবে। সেই সঙ্গে যৌক্তিকভাবে ব্যয় প্রাক্কলন এবং বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সচেতন থাকতে হবে।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম