শিশুদের মধ্যে হঠাৎ হামের প্রকোপ বাড়ার কারণ কী?
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ৩০ মার্চ ২০২৬, ০৯:২৮ পিএম
ফাইল ছবি।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বাংলাদেশে সম্প্রতি শিশুদের মধ্যে হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। দুই দশক আগে প্রায় নির্মূল হওয়া এই রোগটি আবারও জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ও ইউনিসেফের প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২৪ সালে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৯৫ হাজার মানুষ হামে প্রাণ হারিয়েছেন, যাদের অধিকাংশই পাঁচ বছরের কম বয়সি শিশু। টিকার প্রাপ্যতা থাকা সত্ত্বেও টিকাদানে অনীহা ও স্বাস্থ্য কাঠামোর দুর্বলতার কারণে এই মৃত্যু রোধ করা সম্ভব হয়নি।
দেশের ঢাকা, রাজশাহী, ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন জেলায় হঠাৎ করেই শিশুদের মধ্যে এর সংক্রমণ বেড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, হামের সংক্রমণ রোধ করতে একটি এলাকায় অন্তত ৯৫ শতাংশ শিশুকে টিকা দিতে হয়; কিন্তু সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় এই হার অনেক এলাকায় পূরণ হয়নি। ২০২০ সালের কোভিড-১৯ মহামারি, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা এবং বিশেষ টিকাদান ক্যাম্পেইন বন্ধ থাকার কারণে শিশুদের টিকাদান ব্যাহত হয়েছে।
হামের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধির অন্যান্য কারণ
চিকিৎসকরা বলছেন, হামের ভাইরাস অত্যন্ত সংক্রামক। এতে এক রোগী থেকে কমপক্ষে ১৮ জন সংক্রমিত হতে পারে। টিকাদানের ঘাটতি ছাড়া অপুষ্টি, মাতৃদুধের অভাব, কৃমিনাশক ওষুধের অনুপস্থিতি এবং শিশুদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকা এই প্রকোপের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
লক্ষণসমূহ ও করণীয়
এর প্রধান লক্ষণ হলো তীব্র জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া, চোখ লাল হওয়া এবং পরে সারা শরীরে লাল ফুসকুড়ি ছড়িয়ে পড়া। সাধারণত ভাইরাস সংক্রমণের ১০-১৪ দিন পর লক্ষণগুলো প্রকাশ পায় এবং মুখে প্রথমে দাগ দেখা দিয়ে তা ধীরে ধীরে পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়ে।
শিশু বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, হাম প্রতিরোধযোগ্য। সময়মতো টিকা নেওয়া গেলে শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব। এ সময় রোগীকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে হবে। প্রচুর পরিমাণে পানি, ডাবের পানি, ফলের রস বা তরল জাতীয় খাবার খাওয়াতে হবে যাতে পানিশূন্যতা না হয়।
