আলোচনাসভায় সালমা ইসলাম
মানুষের কর্মসংস্থান করাই ছিল নুরুল ইসলামের জীবনের অন্যতম লক্ষ্য
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৬:৫৯ পিএম
বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলামের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখছেন যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যান ও দৈনিক যুগান্তরের প্রকাশক অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যান ও দৈনিক যুগান্তরের প্রকাশক অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম বলেছেন, মানুষের কর্মসংস্থান করাটাই ছিল বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলামের জীবনের অন্যতম লক্ষ্য। এ জন্য দেশের মানুষের কল্যাণে অগণিত শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন তিনি।
যমুনা গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান নুরুল ইসলামের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সোমবার দুপুরে যমুনা টেলিভিশন অডিটোরিয়ামে আয়োজিত আলোচনাসভা ও দোয়া মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।
পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে আলোচনা সভা শুরু হয়। তিলাওয়াতের পর প্রয়াত নুরুল ইসলামের জীবন ও কর্ম নিয়ে একটি ডকুমেন্টরি প্রদর্শন করা হয়।
যমুনা গ্রুপের গ্রুপ পরিচালক মনিকা নাজনীন ইসলাম, গ্রুপ পরিচালক এসএম আবদুল ওয়াদুদ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
স্মরণসভা ও দোয়া অনুষ্ঠানে স্বামীর স্মৃতিচারণ করে যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম যখন মুক্তিযুদ্ধ শেষে ফিরে আসেন, তখন তিনি দেখলেন দেশটি সম্পূর্ণ যুদ্ধবিধ্বস্ত। মানুষ ভালোভাবে থাকতে পারছে না, কেউ ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারছে না, কেউ অফিস করতে পারছে না। সবাই যেন অসহায় হয়ে পড়েছে। চারদিকে অস্থিরতা ও অশান্তি বিরাজ করছিল। মেয়েরা নিরাপদে বাইরে যেতে পারছিল না, ব্যাংক লুট হয়ে যাচ্ছিল, মানুষ লুণ্ঠনের শিকার হচ্ছিল। দেশের সার্বিক পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত ভয়াবহ। ঠিক সেই সময় কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা ও গুণী মানুষ দেশের পুনর্গঠনের কাজে এগিয়ে আসেন। তাদের মধ্যে নুরুল ইসলাম অন্যতম ছিলেন। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন, দেশের সবচেয়ে বড় সংকট অর্থনৈতিক। ব্যাংকে অর্থ নেই, কর্মসংস্থান নেই। তিনি ভাবতে শুরু করলেন, কীভাবে এই দেশকে আবার একটি সুন্দর, সমৃদ্ধ দেশে রূপান্তর করা যায়। একজন মানুষ, একটি মাথা কিন্তু একের পর এক তিনি শিল্পকারখানা গড়ে তুলতে শুরু করলেন। যাদের কোনো কর্মসংস্থান ছিল না, তারা কীভাবে কাজ করে পরিবার চালাবে এই বিষয়টিই তিনি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছিলেন। সেই চিন্তা থেকেই তিনি শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার উদ্যোগ নেন।
সালমা ইসলাম বলেন, পুরান ঢাকার ওয়াইজঘাটে তার আগে থেকেই কয়েকটি দোকান ছিল। রমনা ভবনে ছিল তিনটি দোকান। ওয়াইজঘাটে ছিল বড় একটি বৈদ্যুতিক পণ্যের প্রতিষ্ঠান যমুনা বিদ্যুৎ বিতান। কিন্তু তিনি বলতেন, ‘আমি দোকানদার হিসেবে পরিচিত হতে চাই না। আমি মিল-ফ্যাক্টরির মালিক হিসেবে পরিচিত হতে চাই। আমি শিল্প গড়ে তুলতে চাই।’ তার ভেতরে ছিল অদম্য জেদ, অসাধারণ মেধা, শক্তি ও আত্মবিশ্বাস। তিনি কখনো অন্যের ওপর নির্ভর করতে শেখেননি। নিজের যোগ্যতা, পরিশ্রম ও সাহসকে পুঁজি করেই তিনি এগিয়ে গেছেন।
স্বামীর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে সালমা ইসলাম বলেন, সহধর্মিণী হিসেবে আমি তাকে নিয়ে গর্ববোধ করি। কারণ, স্বামী হিসেবে স্ত্রীকে সম্মান দিতে পেরেছিলেন। ব্যক্তিগতভাবে তিনি আমাকে কখনো কষ্ট দেননি। আমাকে কোনো কাজ করতে দিতেন না। অনেক স্মৃতি বারবার আমার মনে দোলা দেয়। এই স্মৃতি সবসময় অম্লান হয়ে থাকবে।
ব্যক্তিগত জীবনের স্মৃতিচারণ করেন তিনি বলেন, বিয়ের পর আমি এক নতুন মানুষের সন্ধান পাই। আমাদের বিয়েতে তিনি কোনো ছুটি নেননি। বিয়ের পরদিনও অফিস করেছেন। সকালে বেরিয়ে যেতেন আসতেন রাতে। বিভিন্ন দাওয়াত বা অনুষ্ঠানে যেতেন না। আমি জোর করলে বলতেন- আমাকে ছেড়ে দাও কাজের জন্য।
মানুষের কর্মসংস্থান তৈরিতে নুরুল ইসলামের আপ্রাণ প্রচেষ্টার কথা স্মরণ করে তার সহধর্মিণী বলেন, শুরুতে রমনা ভবনসহ বিভিন্ন জায়গায় তার কয়েকটি দোকান ছিল কিন্তু তিনি এ পরিচয়ে সীমাবদ্ধ থাকতে চাননি। দেশের মানুষের কল্যাণে অগণিত শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। দোকানগুলো বিক্রি করে গাজীপুরে জমি কিনে ইন্ডাস্ট্রি করতে লাগলেন। মানুষের কর্মসংস্থান করাটা ছিল তার জীবনের অন্যতম লক্ষ্য। পরে গণমানুষের কথা তুলে ধরার জন্য প্রথমে দৈনিক যুগান্তর ও পরে যমুনা টেলিভিশন সৃষ্টি করলেন।
সালমা ইসলাম বলেন, জীবিত অবস্থায় নুরুল ইসলাম আমাদের অনেক দিকনির্দেশনা দিতেন। আজকে তিনি নেই। কিন্তু তার আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন- যুগান্তরের সাবেক সম্পাদক সাইফুল আলম, যমুনা টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ফাহিম আহমেদ, যুগান্তরের নির্বাহী সম্পাদক এনাম আবেদীন, যুগ্ম সম্পাদক বিএম জাহাঙ্গীর এবং যমুনা টেলিভিশনের হেড অব নিউজ তৌহিদুল ইসলাম।
উপস্থিত ছিলেন— যুগান্তরের ডেপুটি এডিটর আসিফ রশীদ, বার্তা সম্পাদক জোহায়ের ইবনে কলিম, নগর সম্পাদক মিজান মালিক, সম্পাদকীয় ও ফিচার বিভাগের প্রধান হাসান শরীফ, যুগ্ম বার্তা সম্পাদক (মফস্বর ইনচার্জ) নাঈমুল কবির, যুগ্ম বার্তা সম্পাদক (অনলাইন ইনচার্জ) আতাউর রহমান, বিশেষ প্রতিনিধি সিরাজুল ইসলাম, কাজী জেবেল, শাহেদ সিদ্দিকী, সহযোগী সম্পাদক মাহবুব কামাল, সহকারী সম্পাদক জুন্নু রাইন, ফিচার ইনচার্জ সেলিম কামাল, মাল্টিমিডিয়া ইনচার্জ অমিত হাসান রবিন প্রমুখ।
আলোচনাসভা শেষে দোয়া পরিচালনা করেন যুগান্তরের সহ-সম্পাদক মুফতি মাওলানা তোফায়েল গাজালি।
এর আগে সকালে বনানীতে প্রয়াত নুরুল ইসলামের কবরে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন পরিবারের সদস্য ও তারই হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান যমুনা গ্রুপ, দৈনিক যুগান্তর ও যমুনা টেলিভিশনের কর্মকর্তারা।
এ সময় মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলামের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

