কিংবদন্তী শিল্পী মোহাম্মদ রফির স্মরণে ভারতীয় হাইকমিশনে সঙ্গীত সন্ধ্যা
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৬ পিএম
ভারতীয় হাইকমিশনের ইন্দিরা গান্ধী সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে সংগীত সন্ধ্যায় বক্তব্য দেন বাংলাদেশে নিযুক্ত হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। ছবি: যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কিংবদন্তী ভারতীয় প্লে-ব্যাক শিল্পী মোহাম্মদ রফির মৃত্যুবার্ষিকী স্মরণে, ঢাকায় অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশনের ইন্দিরা গান্ধী সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে (আইজিসিসি) সংগীত সন্ধ্যা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সন্ধ্যা থেকে রাত ৯টা পযর্ন্ত অনুষ্ঠিত সংগীত সন্ধ্যায় মোহাম্মদ রফির বিখ্যাত অন্তত ১২টি গান গাওয়া হয়।
সন্ধ্যা থেকে প্রখ্যাত ভারতীয় কণ্ঠশিল্পী প্রিয়ংবদা ব্যানার্জী এবং প্রখ্যাত বাংলাদেশি শিল্পী মোহাম্মদ রাশেদ উদ্দিন একটি হৃদয়স্পর্শী সংগীত পরিবেশনা করেন। তারা রফির নির্বাচিত কিছু কালজয়ী গান এবং অন্যান্য শাস্ত্রীয় জনপ্রিয় গান পরিবেশন করে ভারত ও বাংলাদেশের অভিন্ন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে প্রতিফলিত করে একটি সুরেলা শ্রদ্ধাঞ্জলি তৈরি করেন।
কলকাতাভিত্তিক বহুমুখী শিল্পী প্রিয়ংবদা ব্যানার্জী, যিনি রবীন্দ্র সংগীত, নজরুল গীতি, ভারতীয় শাস্ত্রীয়, লোক এবং সমসাময়িক সংগীতে প্রশিক্ষিত, তার অভিব্যক্তিপূর্ণ কণ্ঠের পরিসর দিয়ে দর্শকদের মুগ্ধ করেন। এক সম্ভ্রান্ত সংগীত পরিবার থেকে এসে তিনি রবীন্দ্রনাথের অ্যালবাম প্রকাশ করেছেন এবং উনিশ ও বিশ শতকের বাংলা সংগীত ঐতিহ্যের সঙ্গে তার গভীর সম্পৃক্ততা ও বাংলাদেশের শ্রোতাদের সঙ্গে তার দৃঢ় সাংস্কৃতিক সংযোগের জন্য ব্যাপকভাবে প্রশংসিত।
তার সঙ্গে যোগ দেন বাংলাদেশি কণ্ঠশিল্পী মো. রাশেদ উদ্দিন, যিনি শাস্ত্রীয় ও সমসাময়িক বাংলা গানে তার গতিশীল পরিবেশনার জন্য পরিচিত। বাংলাদেশি সংগীতের প্রসারে অবদান এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক মঞ্চে তার আকর্ষণীয় উপস্থিতির জন্য তিনি স্বীকৃতি অর্জন করেছেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, রফি সাহেবের কালজয়ী গান বিশ্বজুড়ে প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে চলেছে। তিনি এই সংগীত কিংবদন্তীর বিনয়, উদারতা এবং তার শিল্পের প্রতি অবিচল নিষ্ঠাকে ব্যতিক্রমী গুণাবলী হিসেবে তুলে ধরেন। এ সময় ভারতীয় হাইকমিশনের ডেপুটি হাইকমিশনার পবন বাধে, ভারতীয় হাইকমিশনের ফাস্ট সেক্রেটারি (পলিটিক্যাল অ্যান্ড প্রেস) গোকূল ভি কে উপস্থিত ছিলেন।
মোহাম্মদ রফি ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্লে-ব্যাক শিল্পী ছিলেন, যিনি তার বহুমুখী কণ্ঠ, আবেগের গভীরতা এবং অসাধারণ বিস্তৃতির জন্য প্রশংসিত ছিলেন। তিনি হিন্দিসহ আরও বিভিন্ন ভারতীয় ভাষায় হাজার হাজার গান গেয়েছেন। তার সংগীতে রোমান্টিক সুর, ভক্তিগীতি, দেশাত্মবোধক সংগীত এবং শাস্ত্রীয় সংগীতসহ বিভিন্ন শৈলী অন্তর্ভুক্ত ছিল। রফি শীর্ষস্থানীয় সংগীত পরিচালকদের সঙ্গে কাজ করেছেন এবং অনেক বিখ্যাত অভিনেতার জন্য গান গেয়েছেন, যার মাধ্যমে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা ও সম্মান অর্জন করেন। তিনি ১৯৬৭ সালে পদ্মশ্রীসহ অসংখ্য পুরস্কার পেয়েছেন এবং তার কালজয়ী গানগুলো বিশ্বজুড়ে গায়কদের অনুপ্রাণিত করে ও শ্রোতাদের বিনোদন দিয়ে চলেছে।
অনুষ্ঠানটি মোহাম্মদ রফির কালজয়ী উত্তরাধিকারকে শ্রদ্ধা নিবেদন করে, যার ভারতীয় সংগীত অতুলনীয় অবদান বিশ্বজুড়ে প্রজন্মের পর প্রজন্ম শিল্পী ও সংগীতপ্রেমীদের অনুপ্রাণিত করে চলেছে।
অনুষ্ঠানটি ছিল সাংস্কৃতিক আদান-প্রদানকে উৎসাহিত করা এবং সেইসব কিংবদন্তী সংগীত ব্যক্তিত্বদের সম্মান জানানোর ক্ষেত্রে আইজিসিসির ধারাবাহিক প্রতিশ্রুতির অংশ, যাদের শৈল্পিক উত্তরাধিকার সীমানা অতিক্রম করে এবং সংগীতের মাধ্যমে শ্রোতাদের একত্রিত করে। এই স্মরণীয় সন্ধ্যায় বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ও ব্যবসায়ী ব্যক্তিত্ব, গণমাধ্যম প্রতিনিধি, সংগীতের শিক্ষার্থী এবং সংগীতপ্রেমীরা উপস্থিত ছিলেন।
