Logo
Logo
×
   

জাতীয়

খাওয়ার ছবি কেন দিছো—কাদেরের প্রশ্নে যা বলেছিলেন হারুন

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৬, ০২:২৭ পিএম

খাওয়ার ছবি কেন দিছো—কাদেরের প্রশ্নে যা বলেছিলেন হারুন

তৎকালীন ডিবি প্রধান হারুন অর রশীদ এবং ওবায়দুল কাদের। সংগৃহীত ছবি

ডিবি কার্যালয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের খাবারের ছবি তোলা ও তা গণমাধ্যমে প্রকাশের সিদ্ধান্ত তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশেই নেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেছেন তৎকালীন ডিবি প্রধান হারুন অর রশীদ। 

বুধবার (১২ আগস্ট) এ সংক্রান্ত একটি অডিও কলের কথোপকথনের প্রতিলিপি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে  ওবায়দুল কাদের ও অন্য ছয়জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার যুক্তিতর্কের উপস্থাপনের দিনে কল রেকর্ডটি প্রমাণ হিসেবে জমা দেয় প্রসিকিউশন।

ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপিত ওবায়দুল কাদের ও হারুন অর রশীদের কথোপকথনের প্রতিলিপিতে ওবায়দুল কাদেরকে বলতে শোনা যায়, হারুন, পিএম তোমার নেতৃত্বে বিরক্ত হইছে, তোমারে প্রত্যেকদিন বলতেছিলাম তুমি ভালো করতেছো। খাওয়ার ছবি কেন দিছো? 

জবাবে সমন্বয়কদের খাওয়ানোর সিদ্ধান্ত তার নিজের ছিল না। তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও এসবি প্রধানের নির্দেশেই খাবারের ব্যবস্থা করা এবং ছবি তোলা হয়েছিল বলে হারুন দাবি করেন।

তিনি বলেন,  খাওয়ার ডিসিশনটা আমাকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং এসবির চিফ-এরা দিছে।  

পরবর্তীতে ওবায়দুল কাদের বলেন, তোমাকে ছবি তুলে বাইরে দিতে বলছে তারা? 

জবাবে হারুন বলেন, জি স্যার, ছবি তোলা প্লাস বিবৃতিটা প্রকাশ করতে উনারা বলছে। মনির স্যার, এসবি স্যারকে জিজ্ঞাসা করেন যে বলছে কিনা। 

কথোপকথনের একপর্যায়ে হারুন অভিযোগ করেন, এ ঘটনায় তাকে ডিবি থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি ওবায়দুল কাদেরের কাছে জানতে চান, তার অপরাধ কী।

হারুন আরও বলেন, তিনি যা করেছেন তা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইজিপির নির্দেশেই করেছেন। এর বাইরে তিনি একবিন্দুও কিছু করেননি। এ বিষয়ে প্রমাণ নেওয়ার জন্যও ওবায়দুল কাদেরকে অনুরোধ করেন তিনি।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় ওবায়দুল কাদের ছাড়াও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান আসামি।

প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, মামলার সাত আসামিই বর্তমানে পলাতক। চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২।

পরে গত ২ আগস্ট মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব শেষ হয়। তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ২৮ জন সাক্ষী এ মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন। বর্তমানে মামলাটির যুক্তিতর্ক উপস্থাপন চলছে।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম