মন্ত্রিসভায় রদবদলের গুঞ্জন অব্যাহত
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২৩ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৫৬ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
মন্ত্রিসভা রদবদলের আলোচনায় ‘আতঙ্কে’ থাকা কয়েকজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর আপাতত বিপদ কেটে গেছে। কাঙ্ক্ষিত পারফরম্যান্সের ঘাটতি ও নানা বিতর্কের কারণে বাদ পড়ার আলোচনায় থাকা এসব মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী এবারও মন্ত্রিসভায় বহাল রয়েছেন। তবে তাদের এই স্বস্তি কতদিন স্থায়ী হবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা থামেনি। দ্রুতই আবারও মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন আসতে পারে—এমন গুঞ্জনও রয়েছে।
সরকারের ছয় মাস পূর্তিকে সামনে রেখে বেশ কিছুদিন ধরেই মন্ত্রিসভায় পরিবর্তনের গুঞ্জন ছিল। কর্মদক্ষতা ও পারফরম্যান্স বিবেচনায় কয়েকজন মন্ত্রী বাদ পড়তে পারেন—এমন আলোচনা ছিল রাজনৈতিক ও সরকারি বিভিন্ন মহলে। বিশেষ করে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, শিক্ষা এবং যোগাযোগ মন্ত্রণালয় নিয়ে আগ্রহ ছিল বেশি। তবে শেষ পর্যন্ত এসব মন্ত্রণালয়ে কোনো পরিবর্তন আসেনি। বরং আলোচনায় না থাকা তথ্য মন্ত্রণালয়ে নতুন মুখ যুক্ত হওয়ায় অনেকেই বিস্মিত হয়েছেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সরকারের একজন প্রভাবশালী মন্ত্রী বলেন, ‘মন্ত্রিসভায় এবার বড় ধরনের রদবদল না হলেও বিতর্কিত বা কম সক্রিয় মন্ত্রীদের জন্য এটি ছিল শেষ সুযোগের মতো। আপাতত বিপদ কাটলেও পরবর্তী পুনর্গঠনে কে থাকবেন আর কে বাদ পড়বেন, তা নিয়ে ফের নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সরকারের ৬ মাস পূর্ণ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বেশ কয়েকজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীকে নিয়ে গুঞ্জন ছিল। কেউ কেউ ভেবেছিলেন, প্রথম রদবদলেই তারা বাদ পড়তে পারেন। কারণ গত ৬ মাসে মন্ত্রণালয়সংশ্লিষ্ট কাজ ও মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের সামগ্রিক কর্মকাণ্ডের খতিয়ান প্রধানমন্ত্রীর হাতে রয়েছে।’
সাম্প্রতিক জ্বালানি সংকট ও লোডশেডিং নিয়ে জনমনে তৈরি হওয়া ক্ষোভের কারণে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে ঘিরে নানা আলোচনা হয়। যদিও এ পরিস্থিতির জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর সরাসরি দায়িত্বে অবহেলা ছিল না বলে মনে করছেন অনেকে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অনিশ্চয়তার কারণে সংকট প্রকট হয়েছে বলে তাদের মত। তবে অভিজ্ঞতা ও বিকল্প নেতৃত্বের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে শেষ পর্যন্ত বর্তমান মন্ত্রীর ওপরই আস্থা রেখেছে সরকার।
শিক্ষাঙ্গনে নানা ঘটনার কারণেও শিক্ষা মন্ত্রণালয় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। এ কারণে মন্ত্রণালয়ে পরিবর্তন আসতে পারে বলে গুঞ্জন ছড়ায়। একটি সূত্রের দাবি, এ ধরনের আলোচনার কারণে মন্ত্রীর কাজের গতিও কিছুটা কমে গিয়েছিল। তবে রাজনৈতিক ভারসাম্য ও নানা হিসাব-নিকাশের কারণে শেষ পর্যন্ত এ মন্ত্রণালয়ে পরিবর্তন আনা হয়নি।
বিশেষ করে ২০২৪ সালের নির্বাচনের আগে শেখ হাসিনার নানা চাপ ও প্রলোভন সত্ত্বেও ওই মন্ত্রী বিএনপি ছেড়ে যাননি এবং দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ওপর আস্থা রেখেছেন—এ বিষয়টিও রাজনৈতিক বিবেচনায় এসেছে বলে জানা গেছে।
তবে এবারের রদবদলে সবচেয়ে বড় চমক এসেছে তথ্য মন্ত্রণালয়ে। মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের আলোচনায় জহির উদ্দিন স্বপনের নাম ছিল না। তার কর্মদক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন বা কর্মকাণ্ড নিয়ে কোনো বড় বিতর্কও ছিল না। সাংবাদিকদের সঙ্গে সৌহার্দপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি সরকারের নীতি ও কর্মকাণ্ড প্রচারে তিনি সক্রিয় ছিলেন। এরপরও তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে তাকে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা করা হয়েছে।
নতুন তথ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন আন্দালিভ রহমান পার্থ। দেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচিত এই নেতা পার্লামেন্টারিয়ান হিসেবে সুনাম অর্জন করেছেন। তরুণ প্রজন্মের মধ্যেও তার জনপ্রিয়তা রয়েছে। এখন সেই জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের নানা চ্যালেঞ্জ তিনি কতটা সফলভাবে মোকাবিলা করতে পারেন, সেটিই দেখার বিষয়। মন্ত্রণালয়ে একজন উপদেষ্টা ও একজন প্রতিমন্ত্রীও রয়েছেন। ফলে পার্থকে প্রশাসনিক সমন্বয়ের পাশাপাশি নানা রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জও মোকাবিলা করতে হবে।
এদিকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একজন মন্ত্রী ও একজন প্রতিমন্ত্রীর পাশাপাশি নতুন করে আরও একজন প্রতিমন্ত্রী যুক্ত করা হয়েছে। ফলে একই মন্ত্রণালয়ে একজন মন্ত্রী ও দুজন প্রতিমন্ত্রী দায়িত্ব পালন করবেন। স্বাধীনতার পর একই মন্ত্রণালয়ে একই পদমর্যাদার দুজন প্রতিমন্ত্রী নিয়োগের ঘটনা বিরল। ফলে তিনজনের সমন্বয়ে বাংলাদেশের বৈশ্বিক ও কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ কতটা কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব হবে, তা নিয়েও আলোচনা রয়েছে।
মন্ত্রিসভায় পরিবর্তনের আলোচনায় উত্তরবঙ্গের দুজন প্রতিমন্ত্রী এবং ঢাকার একজন পূর্ণ মন্ত্রীর দিকেও নজর ছিল। তাদের মধ্যে একজন প্রতিমন্ত্রীর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলেও সেটি সরকারের কাছে বিশ্বাসযোগ্য হয়নি। আরেক প্রতিমন্ত্রী বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে আলোচনায় থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে নীরব থাকার কৌশল নিয়েছেন বলে জানা গেছে। অন্যদিকে ঢাকার ওই মন্ত্রীও অতিকথন থেকে বিরত রয়েছেন। ফলে এই তিনজনই আপাতত মন্ত্রিসভায় টিকে গেছেন।
তবে রাজনৈতিক মহলের ধারণা, বর্তমান পরিস্থিতি স্থায়ী নয়। আগামী দিনে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের কর্মদক্ষতা, রাজনৈতিক প্রয়োজন ও বিভিন্ন বিতর্ক বিবেচনায় নিয়ে আবারও মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন আসতে পারে। ফলে রদবদলের গুঞ্জন আপাতত থামছে না।
