খসড়া আইনে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে: ব্লাস্ট
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২৪ আগস্ট ২০২৬, ০৮:১২ পিএম
রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে ব্লাস্ট আয়োজিত মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর খসড়া আইনে কমিশনের স্বাধীনতা, কার্যকর তদন্ত ও পরিদর্শন ক্ষমতা, জবাবদিহিতা এবং জাতীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার কার্যকরতা ও স্বাধীনতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ কিছু উদ্বেগ এখনও রয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড এন্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট)। তা ছাড়া আইনের খসড়াটি জাতীয় সংসদে কণ্ঠভোটে পাস না করে সংসদ সদস্যদের মধ্যে আরও বিস্তারিত আলোচনার দাবিও জানান তারা।
সংস্থাটির মতে, বিদ্যমান খসড়ায় কমিশনের স্বাধীনতা অক্ষুণ্ণ রাখার বদলে সরকারি ‘নিয়ন্ত্রণ’ বজায় রাখার পথ উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে ব্লাস্ট আয়োজিত মতবিনিময় সভায় সংগঠনটির পক্ষ থেকে এসব কথা বলা হয়। ‘খসড়া জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ২০২৬: পর্যালোচনা ও সুপারিশ’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় মানবাধিকারকর্মী ও আইনজীবীরা বক্তব্য প্রদান করেন।
ব্লাস্টের নির্বাহী পরিচালক সারা হোসেন বলেন, আমরা দেখতে চাই না যে, সংসদে গিয়ে এটা কন্ঠ ভোটে পাস হয়ে যায়। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে অনেকেই কিন্তু বিভিন্ন বিভিন্ন সংগঠন-সংস্থা, বিভিন্ন ব্যক্তি তাদের পর্যালোচনা করছেন। তাদের কথাকে যদি গুরুত্ব দেওয়া যায়, তাহলে আমার মনে হচ্ছে আমরা এই আশাটা রাখতে পারি যে সংসদে যারা আছেন, তারা আরও আলোচনা করবেন এই খসড়া আইনটা নিয়ে।
এ আইনজীবী বলেন, আলোচকদের যে অভিজ্ঞতা, তাদের মধ্যেই অনেকেই আছেন তারা নিজেরাই গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হয়েছেন, হয়রানির শিকার হয়েছেন; তারা বুঝবেন যে কেন এরকম আইনটি তাদের কোনো কাজেই লাগবে না।
মানবাধিকার সুরক্ষা ও নিরপেক্ষ তদন্তের গুরুত্ব তুলে গুম সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের সাবেক সদস্য নূর খান লিটন বলেন, মানবাধিকার কমিশনের ক্ষমতাকে যদি সংকুচিত করা হয়, তাহলে ওই তদন্তের কোনো মানে নেই। যে তদন্তের প্রতিটি ক্ষেত্র অনুমোদন সাপেক্ষ হয়।
নিজের কাজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের প্রাক্তন এই সদস্য বলেন, আপনি যদি কমিশনের স্বাধীনতার বিষয়টা তোলেন, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা হচ্ছে তার তদন্ত করার ক্ষমতাটা।
তদন্ত ও কমিশন গঠনের সীমাবদ্ধতা নিয়ে তিনি বলেন, তদন্ত করার আগের, পরের, তদন্তকালীন সময়ে পরিদর্শনের যে ক্ষমতা—যদি সর্বক্ষেত্রে প্রাক-অনুমোদনের বিষয়টা থাকে, তাহলে এখানে আপনি খুব বেশি আগাতে পারবেন না।
কাস্টোডিয়াল ডেথ বা ক্রসফায়ারের নামে, কোট-আনকোট ক্রসফায়ারের নামে হত্যাকাণ্ড, এইসব বিষয়ে আপনি যদি আপনার পূর্ণ স্বাধীনতাটা না থাকে কাজ করার, সেক্ষেত্রে আপনার জেতার কোনো সম্ভাবনা নাই।
তিনি বলেন, আইন যেমন আমাদের দরকার হাতিয়ার হিসেবে কাজ করার, পাশাপাশি আমাদের সেরকম একটি কমিশন গঠন করতে হবে, বাছাই করতে হবে—যারা কিনা সৎ, সাহসী, যোগ্যতাসম্পন্ন। নাহলে স্বাধীন কমিশন গঠনও করতে পারবেন না।
কমিশনের পূর্ণ স্বাধীনতার অভাব প্রসঙ্গে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এই কমিশন কোন মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ থাকবে না—এই কথাটি কিন্তু নেই। বলা হয়েছে যে তারা স্বাধীন নিরপেক্ষভাবে কাজ করবে, কিন্তু সেটাও নিশ্চয়তা দেওয়া হয়নি। অর্থাৎ যেটা আমরা চেয়েছিলাম, দেশবাসী চেয়েছিল যে এইটা সরকারি নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকবে এবং স্বাধীনভাবে কাজ করবে—সেই এক্সপ্লিসিট কমিটমেন্টটা কিন্তু দেওয়া হয়নি।
সভায় বক্তব্য রাখেন নাগরিক উদ্যোগের প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেন, চর্চার সম্পাদক সোহরাব হাসান, ওয়াইপিএসএর ইনক্লুশন অ্যাডভাইজার ভাস্কর ভট্টাচার্য, ব্লাস্টের প্যানেল আইনজীবী কাজী জাহেদ ইকবাল, গবেষক ও মানবাধিকার কর্মী নওশীন নূর।


