ত্রাণমন্ত্রী
শিক্ষক পরিবারের সদস্যদের হত্যার শাস্তি দ্রুত সময়ে কার্যকর হবে
রংপুর ব্যুরো
প্রকাশ: ৩০ আগস্ট ২০২৬, ১০:৩০ পিএম
গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ি পরিদর্শন করেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় (দাসপাড়া) অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি অল্প সময়ের মধ্যে কার্যকর হবে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু।
রোববার দুপুরে নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।
ত্রাণমন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, আমি আজকে তাদের বাসায় এসে যতটুকু বুঝতে পারলাম, মাদকাসক্ত হয়ে সবসময় এই বাসার গার্ডিয়ান, আমাদের প্রিয় স্যার গণপতি চক্রবর্তীকে হয়তো ডিস্টার্ব করত। এজন্য হয়তো উনি বাধা দিতে গিয়েছিলেন। সেই কারণ থেকেই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে আপনারা জানেন, হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের পুলিশ প্রশাসন মূল যে দুইজন আসামি, তাদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে। তারা আদালতে স্বীকারোক্তি পর্যন্ত দিয়েছে।
বর্তমান সরকার হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে উল্লেখ করে ত্রাণমন্ত্রী বলেন, আমরা দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনাল স্থাপন করেছি। কিছুদিন আগে ঢাকায় রামিশা হত্যাকাণ্ড, লালমনিরহাটের আদিতমারীতে সাত বছরের শিশু নন্দিনী হত্যার রায় ছয় কার্যদিবসের মধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে। একটু অধিকতর তদন্ত শেষে এই চার হত্যাকাণ্ডের চার্জশিট পুলিশ অতিসত্বর দাখিল করবে। অল্প সময়ের ভেতরে এই জঘন্যতম হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি কার্যকর হবে।
রংপুর শহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, যারা মূল আসামি, তারা তো স্বীকারোক্তি দিয়েছে যে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তারা জড়িত। আর আমার মনে হয় যে, মাদকই আইনশৃঙ্খলার অবনতির মূল কারণ।
মাদক নির্মূলে সামাজিক আন্দোলনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, মাদকের ব্যাপারে আমরা পার্লামেন্টে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান করেছি। আমরা আশা করি, এই মৃত্যুদণ্ড যেহেতু সর্বোচ্চ শাস্তি এবং জনগণের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করতে হবে। জনগণসহ আইন-প্রশাসন ছাড়া এই মাদককে আমরা নির্মূল করতে পারব না।
রংপুরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সবাইকে জেগে ওঠতে হবে, মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে হবে। পাড়ায়-মহল্লায় যদি আমরা ওই ধরনের সামাজিক একটা আন্দোলন তৈরি করতে পারি, তাহলে মাদককারবারি, পরিবহণকারী, সেবনকারী- তাদের আমরা আইনের আওতায় নিয়ে আসতে পারব।
তার আগে বেলা ১১টায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (ইআইটি) রংপুর উদ্যোগে রংপুরে প্রশিক্ষিত যুব ও যুব মহিলাদের কর্মসংস্থান ও আত্মকর্মসংস্থানের অনুষ্ঠানে মন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু যোগ দেন।
এ সময় তিনি ৫০ জন প্রশিক্ষিত যুব ও যুব মহিলার হাতে কর্মসহায়ক যন্ত্রপাতি এবং বিভিন্ন ট্রেডে ২৫ জনের হাতে চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দেন। নগরীর জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে মন্ত্রী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
সম্মানিত অতিথি ছিলেন জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. নাজনীন কাউসার চৌধুরী। সভাপতিত্ব করেন ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (ইআইটি) রংপুরের পরিচালক মোহাম্মদ নাজমুল আলম নাজু।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন- অর্থ মন্ত্রণালয়ের এসআইসিআইপি কর্মসূচির সহকারী নির্বাহী প্রোগ্রাম পরিচালক ও উপসচিব সোহেল মাহমুদ, ইনফরমাল সেক্টর ইন্ডাস্ট্রি স্কিলস কাউন্সিলের মির্জা নুরুল গণি শোভন, রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজ উন নবী চৌধুরী ডন, রংপুরের জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান, জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক অনিরুদ্ধ কুমার রায়, রিহ্যাবের সচিব ও চিফ কো-অর্ডিনেটর কাজী আবুল কাশেম আবেগ, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান সামু, জেলা পরিষদের প্রশাসক সাইফুল ইসলাম, চিফ কো-অর্ডিনেটর মুরাদ হোসেন, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর রংপুরের উপপরিচালক আব্দুল ফারুক এবং মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর রংপুরের উপপরিচালক সেলোয়ারা বেগম।
